ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নতুন ইতিহাস স্পেনের মেয়েদের

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৪৯০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো স্পেন। সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রোববারের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে স্পেন। ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ওলগা কারমনা।

ফিফা নারী বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিলো স্পেন এবং ইংল্যান্ড। দুদলের সামনেই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই সুযোগে কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দেয়নি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ইংলিশ তরুণীদের হৃদয় ভেঙে শিরোপা জিতেছে স্পেন নারী দল।

মাঠের একপাশে যখন শিরোপা উল্লাসে মেতে উঠেছে স্প্যানিশ শিবির, তখন বিপরীত পাশে কান্নার রোল। পুরো টুর্নামেন্টে শক্তিশালী ফুটবল খেলা ইংল্যান্ড ফাইনালে আর পারলো না। বারবার আক্রমণ করেও স্পেনের দুর্গ ভেদ করতে পারেনি। কাঙ্খিত জালের সামনে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন ক্যাটা কোল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংলিশদের চাপে রেখেছিল স্পেন। বল পজিশনিং থেকেই শুরু করে গোলে শট, সবখানেই আধিপত্য ছিল স্প্যানিশদেরই। যদিও ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ডই। দলের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার লরেন হ্যাম্পের জোরালো শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরেই যেন ভেঙে পড়ে ইংলিশদের মনোবল।

বিপরীতে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে স্পেন। ম্যাচের প্রথম বিশ মিনিট পর্যন্ত ৮০ শতাংশ বল রেখেছিল নিজেদের পায়েই। আক্রমণের সেই ধারাতেই ২৯ মিনিটে লিড পায় স্পেন।

বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে আসেন বার্সেলোনা তারকা মারিওনা কালদেন্তি। ডি-বক্সের ঠিক আগেই পাস দিয়েছেন লেফটব্যাক থেকে ওভারল্যাপ করে আসা ওলগাকে। বাম পায়ের কোণাকুনি শটে ইংলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার ওলগা কারমনা।

গোল হজমের পরেই যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে শুরু করে স্পেন। বল পজিশন ধরে রেখে আরও একাধিকবার আক্রমণে উঠেছে স্পেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিং দুর্বলতায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। লরেন জেমস আর ক্লোয়ি কেলিকে মাঠে নামান কোচ ওয়েগম্যান। যদিও অতি আক্রমণাত্মক মানসিকতার সুফল তারা পায়নি। খেলার ধারার বিপরীতে দুইবার বড় সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। দুইবারই তাদের গোলবঞ্চিত করেছেন ইংলিশ গোলরক্ষক মেরি ইয়ার্পস।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের সাথে যোগ হয় ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৩ মিনিটের যোগ করা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চলল খেলা। স্পেনের অপেক্ষার যেন আর শেষ হয় না! অবশেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ডাগআউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন বেঞ্চের খেলোয়াড়রা। সতীর্থদের সঙ্গে তারা মেতে উঠলেন আনন্দ উৎসবে। স্বপ্নের পথচলায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপ জিতল স্পেন।

নারীদের বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলার হয়েছেন স্পেনের আতানা বোনমতি। স্পেনের এই ২৫ বছর বয়সী বার্সেলোনার মিডফিল্ডারের হাতে উঠেছে গোল্ডেন বল।

ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে ইংল্যান্ড। তাতে থেমে থাকেনি ইংল্যান্ড গোলরক্ষক মেরি আর্পসের গোল্ডেন গ্লাভস জেতা। ইউরো জিতে ২০২২ সালের সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলেন তিনি। এবারও ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। যার পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন এই ম্যানইউ গোলরক্ষক।

আর আসরের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট জিতেছেন জাপানের ফুটবলার হিমাতা মিয়াজাউয়া। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপানের এবারের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুইডেনের বিপক্ষে হারে তারা। এর মধ্যে দলটির ২৩ বছর বয়সী হিমাতা করেন পাঁচ গোল। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন ইতিহাস স্পেনের মেয়েদের

আপডেট সময় : ১১:০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৩

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো স্পেন। সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রোববারের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে স্পেন। ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ওলগা কারমনা।

ফিফা নারী বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিলো স্পেন এবং ইংল্যান্ড। দুদলের সামনেই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই সুযোগে কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দেয়নি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ইংলিশ তরুণীদের হৃদয় ভেঙে শিরোপা জিতেছে স্পেন নারী দল।

মাঠের একপাশে যখন শিরোপা উল্লাসে মেতে উঠেছে স্প্যানিশ শিবির, তখন বিপরীত পাশে কান্নার রোল। পুরো টুর্নামেন্টে শক্তিশালী ফুটবল খেলা ইংল্যান্ড ফাইনালে আর পারলো না। বারবার আক্রমণ করেও স্পেনের দুর্গ ভেদ করতে পারেনি। কাঙ্খিত জালের সামনে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন ক্যাটা কোল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংলিশদের চাপে রেখেছিল স্পেন। বল পজিশনিং থেকেই শুরু করে গোলে শট, সবখানেই আধিপত্য ছিল স্প্যানিশদেরই। যদিও ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ডই। দলের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার লরেন হ্যাম্পের জোরালো শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরেই যেন ভেঙে পড়ে ইংলিশদের মনোবল।

বিপরীতে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে স্পেন। ম্যাচের প্রথম বিশ মিনিট পর্যন্ত ৮০ শতাংশ বল রেখেছিল নিজেদের পায়েই। আক্রমণের সেই ধারাতেই ২৯ মিনিটে লিড পায় স্পেন।

বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে আসেন বার্সেলোনা তারকা মারিওনা কালদেন্তি। ডি-বক্সের ঠিক আগেই পাস দিয়েছেন লেফটব্যাক থেকে ওভারল্যাপ করে আসা ওলগাকে। বাম পায়ের কোণাকুনি শটে ইংলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলার ওলগা কারমনা।

গোল হজমের পরেই যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে শুরু করে স্পেন। বল পজিশন ধরে রেখে আরও একাধিকবার আক্রমণে উঠেছে স্পেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিং দুর্বলতায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। লরেন জেমস আর ক্লোয়ি কেলিকে মাঠে নামান কোচ ওয়েগম্যান। যদিও অতি আক্রমণাত্মক মানসিকতার সুফল তারা পায়নি। খেলার ধারার বিপরীতে দুইবার বড় সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। দুইবারই তাদের গোলবঞ্চিত করেছেন ইংলিশ গোলরক্ষক মেরি ইয়ার্পস।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের সাথে যোগ হয় ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৩ মিনিটের যোগ করা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চলল খেলা। স্পেনের অপেক্ষার যেন আর শেষ হয় না! অবশেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ডাগআউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন বেঞ্চের খেলোয়াড়রা। সতীর্থদের সঙ্গে তারা মেতে উঠলেন আনন্দ উৎসবে। স্বপ্নের পথচলায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপ জিতল স্পেন।

নারীদের বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলার হয়েছেন স্পেনের আতানা বোনমতি। স্পেনের এই ২৫ বছর বয়সী বার্সেলোনার মিডফিল্ডারের হাতে উঠেছে গোল্ডেন বল।

ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে ইংল্যান্ড। তাতে থেমে থাকেনি ইংল্যান্ড গোলরক্ষক মেরি আর্পসের গোল্ডেন গ্লাভস জেতা। ইউরো জিতে ২০২২ সালের সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলেন তিনি। এবারও ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। যার পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন এই ম্যানইউ গোলরক্ষক।

আর আসরের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট জিতেছেন জাপানের ফুটবলার হিমাতা মিয়াজাউয়া। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপানের এবারের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুইডেনের বিপক্ষে হারে তারা। এর মধ্যে দলটির ২৩ বছর বয়সী হিমাতা করেন পাঁচ গোল। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই।