ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নওগাঁয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কারাম উৎসব

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৫৮০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশপরমপরায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির পূর্ণিমা তিথিতে কারাম পুজা পালন করে। পূজা-অর্চনা আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিরা এই কারাম উৎসব পালন করে আসছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে কয়েকটি জেলা থেকে আগত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরে। তাদের ভাষা সাংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
কারাম পূজা বা ডাল পূজাও বলা হয়। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মানুষের কাছে কারাম একটি পবিত্র গাছ। এই গাছকে মঙ্গলের প্রতীকও বলে মনে করা হয়। কারাম ডাল মাটিতে পুঁতে বিভিন্ন আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ, গান ও কিচ্ছা বলার মধ্যে দিয়ে এই পূজা করা হয়। আর এ দিনটির জন্য অধির আগ্রহে থাকেন তারা। এ পুজার মাধ্যমে সংসারে স্বচ্ছলতা ও রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকার প্রত্যাশা করেন তারা।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে নওগাঁর পাশবর্তী জয়পুরহাট, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার ৩৫ টি দল উৎসবে অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরীসহ নানা বয়সী মানুষ দলবদ্ধ ছন্দময় নাচের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ভাষা সংস্কৃতি তুলে ধরে। এ সময় পুরো এলাকা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিসহ সকল সম্প্রদায় মানুষের হয়ে উঠে মিলন মেলা। এলাকার কারাম উৎসব উপলক্ষে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির এখন মূখরিত হয়ে থাকে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি আমিন কুজুর বলেন- ১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় ভাবে এ উৎসব পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারাম উৎসবে বিভিন্ন জেলার ৩৫ টি দল অংশ নিয়ে দলবদ্ধ ছন্দময় নাচের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি তুলে ধরে। আমাদের ৯টি দাবী রয়েছে। তারমধ্যে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলাম বলেন, আদিবাসীরা হচ্ছে প্রকৃতির পূজারি। তারা মনে করে প্রকৃতি তাদের ভাল রাখতে পারবে। আর এলক্ষ্যে তারা কারাম পুজা করে থাকে। এ পুজার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে বলেও মনে করা হয়। যুগ যুগ ধরে তারা এ উৎসব। তারা একক ভাবে বাড়িতে পুজা না করে সমবেত ভাবে এ মাঠে উৎসব করে আসছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। এ মিলন মেলার মধ্য দিয়ে তাদের যে ন্যায্য দাবী রয়েছে তা আদায় হবে বলে আশাবাদী।
কারাম পূজা উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম। তিনি বলেন- দীর্ঘদিন থেকে ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব হয়ে আসছে। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি সহ তাদের ভাষা পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ করতে চাই। সরকার তাদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সেই স্বীকৃতি দিতে পারে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কারাম উৎসব

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কারাম পূজা। বংশপরমপরায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির পূর্ণিমা তিথিতে কারাম পুজা পালন করে। পূজা-অর্চনা আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর উত্তরের সমতল ভূমির নওগাঁর ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিরা এই কারাম উৎসব পালন করে আসছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে কয়েকটি জেলা থেকে আগত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে তাদের নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য তুলে ধরে। তাদের ভাষা সাংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
কারাম পূজা বা ডাল পূজাও বলা হয়। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মানুষের কাছে কারাম একটি পবিত্র গাছ। এই গাছকে মঙ্গলের প্রতীকও বলে মনে করা হয়। কারাম ডাল মাটিতে পুঁতে বিভিন্ন আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ, গান ও কিচ্ছা বলার মধ্যে দিয়ে এই পূজা করা হয়। আর এ দিনটির জন্য অধির আগ্রহে থাকেন তারা। এ পুজার মাধ্যমে সংসারে স্বচ্ছলতা ও রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকার প্রত্যাশা করেন তারা।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল মাঠে নওগাঁর পাশবর্তী জয়পুরহাট, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার ৩৫ টি দল উৎসবে অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন উৎসবে যোগ দিয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরীসহ নানা বয়সী মানুষ দলবদ্ধ ছন্দময় নাচের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ভাষা সংস্কৃতি তুলে ধরে। এ সময় পুরো এলাকা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিসহ সকল সম্প্রদায় মানুষের হয়ে উঠে মিলন মেলা। এলাকার কারাম উৎসব উপলক্ষে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির এখন মূখরিত হয়ে থাকে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি আমিন কুজুর বলেন- ১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় ভাবে এ উৎসব পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারাম উৎসবে বিভিন্ন জেলার ৩৫ টি দল অংশ নিয়ে দলবদ্ধ ছন্দময় নাচের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ভাষা সাংস্কৃতি তুলে ধরে। আমাদের ৯টি দাবী রয়েছে। তারমধ্যে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলাম বলেন, আদিবাসীরা হচ্ছে প্রকৃতির পূজারি। তারা মনে করে প্রকৃতি তাদের ভাল রাখতে পারবে। আর এলক্ষ্যে তারা কারাম পুজা করে থাকে। এ পুজার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে বলেও মনে করা হয়। যুগ যুগ ধরে তারা এ উৎসব। তারা একক ভাবে বাড়িতে পুজা না করে সমবেত ভাবে এ মাঠে উৎসব করে আসছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। এ মিলন মেলার মধ্য দিয়ে তাদের যে ন্যায্য দাবী রয়েছে তা আদায় হবে বলে আশাবাদী।
কারাম পূজা উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম। তিনি বলেন- দীর্ঘদিন থেকে ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব হয়ে আসছে। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি সহ তাদের ভাষা পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ করতে চাই। সরকার তাদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সেই স্বীকৃতি দিতে পারে।
বাখ//আর