ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দেশে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯৭০৮ জন : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বর্তমানে দেশে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯৭০৮ জন এবং এখন পর্যন্ত এইচআইভিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৮৯০ জন বলে জানিয়েছেন জাহিদ মালেক।

রোববার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৭০৮ জন, এরমধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছয় হাজার ৭৫ জন। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ৮৯০ জন।

এইচআইভি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এইচআইভি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ১১টি সরকারি হাসপাতাল থেকে এইচআইভি রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ২৩টি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ৮টি এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ড্রাগ ইউজারদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি মিলে ১৩৪টি ড্রপ-ইন-সেন্টার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীদের মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধমূলক সেবা দেয়া হচ্ছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ১০-১২ ভাগ মানুষ থালাসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন ই রোগের বাহক। বর্তমানে দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।

এম আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘ভ্রুণ অবস্থা হতে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বর্তমানে দেশে কত শতাংশ মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে— এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ হতে এখনও পর্যন্ত জরিপ করা হয়নি। জনস্বার্থে এ রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজার ৫৮৯টি অনুমোদিত ক্যাডার পদের বিপরীতে শূন্য পদ দুই হাজার ৬০৫টি। সংযুক্ত হিসাবে কর্মরত এক হাজার ৩৬৯ জন। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ করা হয় না। মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক পদে মেডিক্যাল অফিসার হতে বিষয়ভিত্তিক পদায়ন করা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ হতে বেসিক বিষয়ে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে ৩৬৯ জনকে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে পদায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দুই হাজার ছয়শ’ শয্যার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার ফলে এই হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম-এ কিছুটা অসুবিধা হয়। তবে সরকার রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ডিএমসির শয্যা পাঁচ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বমোট বেড ১৯ হাজার ৩০০টি। উপজেলা হাসপাতালগুলো পরিচালনার জন্য ওষুধপত্রসহ এমএসআর খাতে বেড অকুপেন্সি রেট অনুয়ায়ী রাজস্ব বাজেট থেকে বছরে টাকা বরাদ্দ করা হয়ে থাকে এবং বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে ৭০ শতাংশ টাকা ওষুধ বাবদ ব্যয় করা হয়।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে ৪২৯ কোটি,৮৩ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, সরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ফি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে টিউশন ফি নির্ধারণের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা অনুসরণ করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ করে থাকে। এ বিষয়গুলো মনিটরিং এর জন্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯৭০৮ জন : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বর্তমানে দেশে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৯৭০৮ জন এবং এখন পর্যন্ত এইচআইভিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৮৯০ জন বলে জানিয়েছেন জাহিদ মালেক।

রোববার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৭০৮ জন, এরমধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছয় হাজার ৭৫ জন। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ৮৯০ জন।

এইচআইভি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এইচআইভি রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ১১টি সরকারি হাসপাতাল থেকে এইচআইভি রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ২৩টি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ৮টি এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ড্রাগ ইউজারদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি মিলে ১৩৪টি ড্রপ-ইন-সেন্টার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীদের মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধমূলক সেবা দেয়া হচ্ছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ১০-১২ ভাগ মানুষ থালাসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন ই রোগের বাহক। বর্তমানে দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।

এম আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘ভ্রুণ অবস্থা হতে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বর্তমানে দেশে কত শতাংশ মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে— এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ হতে এখনও পর্যন্ত জরিপ করা হয়নি। জনস্বার্থে এ রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজার ৫৮৯টি অনুমোদিত ক্যাডার পদের বিপরীতে শূন্য পদ দুই হাজার ৬০৫টি। সংযুক্ত হিসাবে কর্মরত এক হাজার ৩৬৯ জন। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ করা হয় না। মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক পদে মেডিক্যাল অফিসার হতে বিষয়ভিত্তিক পদায়ন করা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ হতে বেসিক বিষয়ে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে ৩৬৯ জনকে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে পদায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দুই হাজার ছয়শ’ শয্যার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার ফলে এই হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম-এ কিছুটা অসুবিধা হয়। তবে সরকার রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ডিএমসির শয্যা পাঁচ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বমোট বেড ১৯ হাজার ৩০০টি। উপজেলা হাসপাতালগুলো পরিচালনার জন্য ওষুধপত্রসহ এমএসআর খাতে বেড অকুপেন্সি রেট অনুয়ায়ী রাজস্ব বাজেট থেকে বছরে টাকা বরাদ্দ করা হয়ে থাকে এবং বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে ৭০ শতাংশ টাকা ওষুধ বাবদ ব্যয় করা হয়।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে ৪২৯ কোটি,৮৩ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, সরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ফি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে টিউশন ফি নির্ধারণের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা অনুসরণ করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ করে থাকে। এ বিষয়গুলো মনিটরিং এর জন্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।