ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
ব্রেকিং নিউজ ::
পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা ছাড়াই আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী হাসনাত আব্দুল্লাহ :: সারা দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শ্রেণি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে :: শেষ খবর পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন :: চলমান এইচএসসি ও সমমানের আগামী ১৮ জুলাইয়ের (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে আগামী ২১ জুলাই থেকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি চলবে :: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন :: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি :: চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা

দেখে বোঝার উপায় নেই ওরা বাক প্রতিবন্ধী

আবু হেনা মুক্তি
  • আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪
  • / ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পরণে জিন্সের প্যান্ট, গায়ে টি শার্ট, হাতে দামি মোবাইল, চলাফেরায় খুবই স্মার্ট। দেখে বোঝার উপায় নেই এরা জন্মগত বাক প্রতিবন্ধী। কথা বলতে পারে না। সাধারণ মানুষের মত এদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-ভালবাসা, ভালো মন্দ বোঝার অনুভূতি সবই আছে। নেই শুধু কথা বলার সামর্থ্য।
প্রতিদিন বিকালে এ সকল বাক প্রতিবন্ধীদের আড্ডা বসে দৌলতপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন স্মার্ট কফি হাউজের সামনে। ঘড়ির কাঁটায় যখন বিকাল ৫ টা, তখন থেকে একে একে সকল বাক প্রতিবন্ধীরা আসতে শুরু করে স্মার্ট কফি হাউজের সামনে। নিজেদের মধ্যে চলে আড্ডা, খুনসুটি, আর চা কফি পানের। যা চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। মাঝে মধ্যে এদের বাক প্রতিবন্ধী বান্ধবীরাও স্থানটিতে এসে আড্ডা জমায়। মুখ দিয়ে কথা বলতে না পারলেও এরা ইশারা এবং আকার ইঙ্গিতে এদের যাবতীয় মনের ভাব প্রকাশ করে। নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য ইশারা ইঙ্গিত শেখার জন্য এদের জন্য আলাদা বিদ্যাপীঠ রয়েছে।
স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন এরা ২০/২৫ এখানে আড্ডা দেয়। তবে প্রতি শুক্রবার বিকালে এদের স্ত্রী, সন্তান, বান্ধবীরাও একত্রিত হয়ে জমজমাট আড্ডা বাসায়। দৌলতপুর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক বাক প্রতিবন্ধী রয়েছে। যারা এখানে নিয়মিত আড্ডা দেয়।
দৌলতপুর বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী সৈয়দ হাওলাদার বলেন, আমি প্রতিদিন বিকালে এখানে চা খেতে আসি। এদেরকেও প্রতিদিন এখানে আড্ডা দিতে দেখি। এরা খুব ভালো মনের মানুষ। এদের আচার আচরণ আমার খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে দেখি এদের স্ত্রী, সন্তান, বান্ধবীরাও সবাই একত্রিত হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। নিজেদের মধ্যে ইশারায় ভাব বিনিময় করছে।
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, এদের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিন থেকে। একই সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে এরা সবাই আমাকে ওদের বন্ধু মনে করে। আমি ওদের সঙ্গে অনেক ইয়ার্কি ফাজলামি করি। ওরা কখনো রাগান্বিত হয় না। সবাই খুব ভালো। আমি ওদের ভাষা অনেক কিছুই বুঝি। মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে ওদের মতের অমিল হয়। আবার ঠিক হয়ে যায়। গৌতম শাহ নামে ওদের একজন লিডার আছে। সে সব সময় ওদের সুবিধা অসুবিধা গুলো দেখাশোনা করে থাকে। বাকি সবাই তার কথা শুনে এবং তাকে সমীহ করে চলে। নতুন রাস্তার মোড়ে এদের আলাদা অফিস রয়েছে। ওখানেও তারা আড্ডা দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন মাগরিবের আগে এরা এখানে এসে জড়ো হয়। খুব সুন্দর ভাবে নিজেদের মধ্যে ইশারায় মনের ভাব আদান প্রদান করে। দেখতে আমাদের খুব ভালো লাগে। এরা কখনও কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। এদের মধ্যে যে এত ভ্রাতৃত্ব আছে তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। সবাই খুবই সহজ সরল। আমরা যারা আছি এদেরকে খুব ভালো চোখে দেখি। এদের প্রতি আমরা খেয়াল রাখি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেখে বোঝার উপায় নেই ওরা বাক প্রতিবন্ধী

আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪
পরণে জিন্সের প্যান্ট, গায়ে টি শার্ট, হাতে দামি মোবাইল, চলাফেরায় খুবই স্মার্ট। দেখে বোঝার উপায় নেই এরা জন্মগত বাক প্রতিবন্ধী। কথা বলতে পারে না। সাধারণ মানুষের মত এদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-ভালবাসা, ভালো মন্দ বোঝার অনুভূতি সবই আছে। নেই শুধু কথা বলার সামর্থ্য।
প্রতিদিন বিকালে এ সকল বাক প্রতিবন্ধীদের আড্ডা বসে দৌলতপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন স্মার্ট কফি হাউজের সামনে। ঘড়ির কাঁটায় যখন বিকাল ৫ টা, তখন থেকে একে একে সকল বাক প্রতিবন্ধীরা আসতে শুরু করে স্মার্ট কফি হাউজের সামনে। নিজেদের মধ্যে চলে আড্ডা, খুনসুটি, আর চা কফি পানের। যা চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। মাঝে মধ্যে এদের বাক প্রতিবন্ধী বান্ধবীরাও স্থানটিতে এসে আড্ডা জমায়। মুখ দিয়ে কথা বলতে না পারলেও এরা ইশারা এবং আকার ইঙ্গিতে এদের যাবতীয় মনের ভাব প্রকাশ করে। নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য ইশারা ইঙ্গিত শেখার জন্য এদের জন্য আলাদা বিদ্যাপীঠ রয়েছে।
স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন এরা ২০/২৫ এখানে আড্ডা দেয়। তবে প্রতি শুক্রবার বিকালে এদের স্ত্রী, সন্তান, বান্ধবীরাও একত্রিত হয়ে জমজমাট আড্ডা বাসায়। দৌলতপুর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক বাক প্রতিবন্ধী রয়েছে। যারা এখানে নিয়মিত আড্ডা দেয়।
দৌলতপুর বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী সৈয়দ হাওলাদার বলেন, আমি প্রতিদিন বিকালে এখানে চা খেতে আসি। এদেরকেও প্রতিদিন এখানে আড্ডা দিতে দেখি। এরা খুব ভালো মনের মানুষ। এদের আচার আচরণ আমার খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে দেখি এদের স্ত্রী, সন্তান, বান্ধবীরাও সবাই একত্রিত হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। নিজেদের মধ্যে ইশারায় ভাব বিনিময় করছে।
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, এদের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিন থেকে। একই সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে এরা সবাই আমাকে ওদের বন্ধু মনে করে। আমি ওদের সঙ্গে অনেক ইয়ার্কি ফাজলামি করি। ওরা কখনো রাগান্বিত হয় না। সবাই খুব ভালো। আমি ওদের ভাষা অনেক কিছুই বুঝি। মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে ওদের মতের অমিল হয়। আবার ঠিক হয়ে যায়। গৌতম শাহ নামে ওদের একজন লিডার আছে। সে সব সময় ওদের সুবিধা অসুবিধা গুলো দেখাশোনা করে থাকে। বাকি সবাই তার কথা শুনে এবং তাকে সমীহ করে চলে। নতুন রাস্তার মোড়ে এদের আলাদা অফিস রয়েছে। ওখানেও তারা আড্ডা দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন মাগরিবের আগে এরা এখানে এসে জড়ো হয়। খুব সুন্দর ভাবে নিজেদের মধ্যে ইশারায় মনের ভাব আদান প্রদান করে। দেখতে আমাদের খুব ভালো লাগে। এরা কখনও কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। এদের মধ্যে যে এত ভ্রাতৃত্ব আছে তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। সবাই খুবই সহজ সরল। আমরা যারা আছি এদেরকে খুব ভালো চোখে দেখি। এদের প্রতি আমরা খেয়াল রাখি।