ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কলাপাড়ায় নজরুল ইসলাম সেতুর পাসে

দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য নির্মিত হল দৃষ্টিনন্দন স্বপ্নের বাড়ী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৭৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

//এ এম মিজানুর রহমান বুলেট কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি //

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের আন্ধারমানিক নদী পাড়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্নে গড়ে উঠেছে দুস্থ, অসহায় মানুষের স্বপ্নের বাড়ী। যথাযথ মান বজায় রেখে জলবায়ুর ঝূঁকি এড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে টেকসই করে নির্মান করা হয়েছে এসব দৃষ্টিনন্দন বাড়ী। সরকারের ২.৬২ একর খাস জমির উপর নির্মিত এসব প্রতিটি বাড়ীর নির্মান ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা।

সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে ৮টি গভীর নলকূপ। বিদ্যুতের খূঁটি বসিয়ে ঘর গুলোতে আলো পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষের জন্য মুজিব শতবর্ষে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব স্বপ্নের বাড়ীতে আগামী দু’এক দিনের মধ্যে সুবিধাভোগী মানুষ বসবাস শুরু করতে যাচ্ছে। দুর্যোগ ও ত্রান অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে এসব বাড়ী নির্মান কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

সুবিধাভোগীদের অভ্যন্তরীন চলাচলে এখন দ্রুত গতিতে চলছে ৩৫০ ফিট ইটের সলিং সড়ক নির্মানের কাজ, তথ্য উপজেলা প্রশাসন সূত্রের।

সূত্রটি আরও জানায়, সুবিধাভোগী পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষের কাজের সুবিধার্থে পায়রাবন্দর, তাপবিদ্যুত কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় নির্মান করা হয়েছে এসব বাড়ী। এরা প্রতিদিন সকালে আন্ধারমানিক নদীর উপর নির্মিত শহীদ
নজরুল ইসলাম সেতু পায়ে হেঁটে পেরিয়ে দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারবে। শিশুদের
পড়াশুনার জন্য যেতে নিকটেই রয়েছে ইটবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নিত্যপন্য ক্রয়ে কাছেই রয়েছে বালিয়তলী ষ্টেশন বাজার।

 

প্রকৃতির জলাধার থেকে মাছ আহরনে বাড়ীর পাশেই রয়েছে আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদী। এসব অসহায় পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বি করতে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন দিয়ে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা বৃদ্ধি করে আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা হাতে
নিয়েছে। বাড়ী গুলোর চারপাশ ছায়াঘেরা পরিবেশ সৃষ্টিতে উপকূলীয় বন বিভাগ
বৃক্ষ রোপনের উদ্দোগ নিয়েছে।

কলাপাড়া দুর্যোগ ও ত্রান কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগ ও ত্রান অধিদপ্তর উপহারের এসকল বাড়ী
নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ৪৫০ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে, ২য় পর্যায়ে ১১০, ৩য় পর্যায়ে ২০৩ এবং চতুর্থ পর্যায়ে ২০০ সহ সর্বমোট ৯৬৩ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি সহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ  জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য কলাপাড়া উপজেলায় ৯৬৩টি ঘর নির্মান করা হয়েছে। যথেষ্ট জায়গা নিয়ে ডিজাইন অনুযায়ী মান বজায় রেখে আন্ধারমানিক নদী পাড়ে এসব ঘরের নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ যেকোন ঝড় তুফান মেকাবেলা করে ঘরগুলো বহু বছর টিকে থাকবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, দেশের একজন
মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। আশ্রয়ন-২ প্রকল্প দেশের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী দিনেও শেখ হাসিনা ও নৌকার কোন বিকল্প নাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

কলাপাড়ায় নজরুল ইসলাম সেতুর পাসে

দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য নির্মিত হল দৃষ্টিনন্দন স্বপ্নের বাড়ী

আপডেট সময় : ১২:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩

//এ এম মিজানুর রহমান বুলেট কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি //

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের আন্ধারমানিক নদী পাড়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্নে গড়ে উঠেছে দুস্থ, অসহায় মানুষের স্বপ্নের বাড়ী। যথাযথ মান বজায় রেখে জলবায়ুর ঝূঁকি এড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে টেকসই করে নির্মান করা হয়েছে এসব দৃষ্টিনন্দন বাড়ী। সরকারের ২.৬২ একর খাস জমির উপর নির্মিত এসব প্রতিটি বাড়ীর নির্মান ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা।

সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে ৮টি গভীর নলকূপ। বিদ্যুতের খূঁটি বসিয়ে ঘর গুলোতে আলো পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষের জন্য মুজিব শতবর্ষে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব স্বপ্নের বাড়ীতে আগামী দু’এক দিনের মধ্যে সুবিধাভোগী মানুষ বসবাস শুরু করতে যাচ্ছে। দুর্যোগ ও ত্রান অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে এসব বাড়ী নির্মান কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

সুবিধাভোগীদের অভ্যন্তরীন চলাচলে এখন দ্রুত গতিতে চলছে ৩৫০ ফিট ইটের সলিং সড়ক নির্মানের কাজ, তথ্য উপজেলা প্রশাসন সূত্রের।

সূত্রটি আরও জানায়, সুবিধাভোগী পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষের কাজের সুবিধার্থে পায়রাবন্দর, তাপবিদ্যুত কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় নির্মান করা হয়েছে এসব বাড়ী। এরা প্রতিদিন সকালে আন্ধারমানিক নদীর উপর নির্মিত শহীদ
নজরুল ইসলাম সেতু পায়ে হেঁটে পেরিয়ে দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারবে। শিশুদের
পড়াশুনার জন্য যেতে নিকটেই রয়েছে ইটবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নিত্যপন্য ক্রয়ে কাছেই রয়েছে বালিয়তলী ষ্টেশন বাজার।

 

প্রকৃতির জলাধার থেকে মাছ আহরনে বাড়ীর পাশেই রয়েছে আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদী। এসব অসহায় পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বি করতে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন দিয়ে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা বৃদ্ধি করে আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা হাতে
নিয়েছে। বাড়ী গুলোর চারপাশ ছায়াঘেরা পরিবেশ সৃষ্টিতে উপকূলীয় বন বিভাগ
বৃক্ষ রোপনের উদ্দোগ নিয়েছে।

কলাপাড়া দুর্যোগ ও ত্রান কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগ ও ত্রান অধিদপ্তর উপহারের এসকল বাড়ী
নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ৪৫০ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে, ২য় পর্যায়ে ১১০, ৩য় পর্যায়ে ২০৩ এবং চতুর্থ পর্যায়ে ২০০ সহ সর্বমোট ৯৬৩ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি সহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ  জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য কলাপাড়া উপজেলায় ৯৬৩টি ঘর নির্মান করা হয়েছে। যথেষ্ট জায়গা নিয়ে ডিজাইন অনুযায়ী মান বজায় রেখে আন্ধারমানিক নদী পাড়ে এসব ঘরের নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ যেকোন ঝড় তুফান মেকাবেলা করে ঘরগুলো বহু বছর টিকে থাকবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, দেশের একজন
মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। আশ্রয়ন-২ প্রকল্প দেশের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী দিনেও শেখ হাসিনা ও নৌকার কোন বিকল্প নাই।