শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের চাহিদা পূরণে পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভেন্যু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুক্রবার কেটে যাবে: হারুন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন ঝড়বৃষ্টির শঙ্কা চিকিৎসকরা উপজেলায় যেতে চান না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচিবরা নিজেদের রাজা মনে করেন: হাইকোর্ট বিএনপি চায় কমলাপুর স্টেডিয়াম, ডিএমপি বলছে বাঙলা কলেজ নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়ার অবদান অন্তহীন প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ‘বিয়ে’ করছেন শুভ-অন্তরা! দুজনেরই সিদ্ধান্ত বিয়ে করব না: নুসরাত ফারিয়া স্পিকারের সঙ্গে চীন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ হাসপাতালে রোগীদের বারবার একই টেস্ট বন্ধ কর‍তে হবে : মেয়র আতিক নয়াপল্টনে ‘সহিংসতা’র সুষ্ঠু তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র ফখরুল সাহেব, হুঁশ হারাবেন না, অবস্থা শিশুবক্তার মতো হবে: হানিফ রাঙ্গাবালীতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ  সাঁথিয়ায় অটোবাইক চাপায় প্রাণ গেল শিশুর

দুর্গাপূজায় পশ্চিমবাংলার মহিলাদের পছন্দ বাংলাদেশি শাড়ি

শফিউল আযম : শারদীয় দুর্গাপূজার বাজার ধরতে ভারতের কাপড় ব্যবসায়ীরা এ দেশের বিভিন্ন কাপড়েরহাট ও তাঁত কারখানা মালিকদের বাড়ী বাড়ী ঘুরে বর্ণিল সুতা, ব¬াক ও চুমকির কাজ কর্ াআধুনিক রুচিশীল উন্নতমান কাপড় কিনছেন। আর এই নান্দনিক মনোমুগ্ধকর নানা নকশার তৈরি বাংলাদেশি সিল্ক জামদানী, সূতি জামদানী, কাতান, সূতি কাতান, রাজশাহী সিল্ক, স্বর্ণলতা, চোষা, বেনারশি ও শেড শাড়ী পশ্চিমবাংলার মহিলাদের বেশি পছন্দ। তাদের পছন্দের এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ী।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের পশ্চিমবাংলার উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিন ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান, নদীয়, মূর্শীদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমদিনাজপুর, উত্তরদিনাজপুর, দক্ষিণদিনাজপুর, কুচবিহার, হওড়া ও হুগলীসহ বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় নামিদামী শপিংমল ও বিপণী বিতানগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ী শোভা পাচ্ছে। শরদীয় দূর্গাপুজা উৎসব উপলক্ষে সেখানে বাংলাদেশি শাড়ীর বাজার জমে উঠেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশের রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাংগাইল, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ জেলার তাঁত কারখানাগুলোতে তৈরি সিল্ক জামদানী, সুতি জামদানী, কাতান, সুতি কাতান, রাজশাহী সিল্ক, বেনারশী, চোষা, শেড, স্বর্ণলতা শাড়ী ভারতে রফতানি হচ্ছে। আর এই নান্দনিক মনোমুগ্ধকর নানা নকশার তৈরি উন্নতমান, টেকসই, রুচিশীল শাড়ীর দাম কম হওযায় পশ্চিমবাংলার মহিলাদের বেশি পছন্দ বাংলাদেশি শাড়ী।

পশ্চিমবাংলার শিলিগুড়ির আমদানিকারক সেলিম খাঁন শাহজাদপুরহাটে এ প্রতিনিধিকে জানান, শরদীয় দূর্গাপুজার বাজার ধরা জন্য পশ্চিমবাংলার আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে আতাইকুলা, শাহজাদপুরহাট, এনায়েতপুরহাট, করোটিয়াহাট, বাবুরহাট ও ডেমরাহাট থেকে শাড়ী কিনছেন। এছাড়া রাজশাহীর সিল্ক, গরদ, পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারশি কাতান, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, বালসাবাড়ী, শাহাজাদপুরের দ¦াড়িয়াপুর, খঞ্জনদিয়ার, রামবাড়ি, পুকুরপাড়, মনিরামপুর, প্রাণনাথপুর, শক্তিপুর, ঘাটপাড়া, রূপপুর, উড়িয়ারচর, নগরডালা, ডায়া, হামলাকোলা, জুগ্নিদহ, এনায়েতপুর, বেতিল, বেলকুচি, খুকনী, উল্লাপাড়ার স্বর্ণলতা, চোষা ও শেড শাড়ী, টাংগাইল জেলার পাথরাইল, চন্ডি, নলসুধা, চিনাখোলা, দেওজান, নলুয়া, হিঙ্গানগর, এলাসিন, বাতুলি, বাজিদপুর, বল্লা, রামপুরের সুতি জামদানি, সিল্ক জামদানি ঢাকার মিরপুরের বেনারশি কাতান ও নারায়নগঞ্জের ডেমরার জামদানি তাঁত কারখানাগুলোতে গিয়ে পছন্দমতো প্রতি পিস শাড়ী এক হাজার ৫০০ থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা দামে কিনে নিচ্ছেন।

তাঁতীদের নিজস্ব ডিজাইনে রেশম সুতা, খাদি, নয়েল, ডুপিয়ান ও এন্ডি সুতা ব্যবহার করে তাতে প্যালেস ও জরি মিশ্রত করে শাড়ী তৈরি করা হচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে উন্নতমানের জামদানী নকশা, সেড ও থান কাপড় তৈরি করছে। এ দিয়ে পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ তৈরি হচ্ছে। জামদানী থ্রী-পিচ দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা এবং চেক থ্রী-পিচ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দামে কিনছেন। পরে সেই কাপড় সড়ক পথে পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জেলায় শপিংমল, বিপণীবিতানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

শারদীয় দূর্গাপুজাকে সামনে রেখে স্বর্ণলতা নামে নতুন একটি শাড়ি বাজারে এসেছে। হাফ সিল্কের উপর ঝুটের মনমুগ্ধকর নকশা করা। কাপড় খুললেই স্বর্ণের মতো ঝলমল করে বলেই এর নাম রাখা হয়েছে স্বর্ণলতা। ইতোমধ্যেই এ শাড়ি ক্রেতাদের মন কেড়েছে। বাজারে এর দাম দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। স্বর্ণলতা কাপড় প্রস্তুতকারক শাহজাদপুরের দরগাপাড়া মহল্লার তাঁতী আলহাজ্ব আজমল কবীর বলেন, রুচিশীল ক্রেতাদের বিষয়টি খেয়াল রেখেই ভারত থেকে জুট এনে ওই জুট দিয়ে হাতে বিভিন্ন নকশা করে স্বর্ণলতা শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। বাজারে এ শাড়ির চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। শাহজাদপুরের স্বর্ণলতা শাড়ী মূলত সাউথ কাতান হিসেবে পরিচিত।

ভারতের কলকাতার কাপড় ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সেন জানান, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাংগাইল, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ অঞ্চলের তাঁত কারখানায় তৈরি জামদানী, সূতি জামদানী, সূতি কাতান, স্বর্ণলতা, চোষা, বেনারশী ও শেড শাড়ী শাড়ী ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিন ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান, নদীয়, মূর্শীদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিন দিনাজপুর, কুচবিহার, হওড়া ও হুগলী জেলার নামিদামি শপিংমল ও বিপণী বিতানে বিক্র হচ্ছে। কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম, টেকশই এবং উন্নতমানের হওয়ায় ভারতীয় মহিলাদের কাছে বাংলাদেশি শাড়ীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জেলার উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নারায়নগঞ্জের ডেমরার জামদানী, ঢাকার মিরপুরের কাতান, বেনারশী, রাজশাহীর সিল্ক ও গরদ মধ্যবিত্ত পরিবারে পছন্দের তালিকায় রয়েছে ঈশ্বরদীর কাতান, বেনারশি টাংগাইলের হাফসিল্ক জামদানি, নকশি, শাহাজাদপুরের স্বর্ণলতা, নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের মাহিলাদের পছন্দ টাংগাইলের সুতি জামদানী, সুতি কাতান, চোষা ও শেড শাড়ী। উন্নতমান, টেকসই, রুচিশীল শাড়ী কম দামে পাওয়ায় মহিলারা বাংলাদেশি শাড়ী কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *