ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দিনাজপুরে লিচু গাছে মুকুলের সমারোহ : মৌমাছির আনাগোনা

খাদেমুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
  • / ৬০৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বসন্তের বিভিন্ন মুখী বাতাসে দিনাজপুরে ক্রমেই মুকুলের ভরে উঠছে জেলার ১৩ টি উপজেলার লিচুবাগান গুলো।আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে মৌমাছির। চাষিরা বলছে এবার গাছের অবস্থা বেশ ভালো। তবে গেল বাড়ির প্রচন্ড রোদ আতঙ্ক এখনও তাড়া করে ফিরছে তাদের। স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টার এবার লিচুর বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করছে।

জেলার বিরল উপজেলার ৫নং বিরল ইউনিয়নের মাধববাটী গ্রামের লিচু চাষী আমজাদ হোসেন বলেন, আমার নিজস্ব দুইটি বাগান আছে। এছাড়া আরও দুটি বাগান কিনে রেখেছি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়ে। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা বেশ ভালো। মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মাদ্রাজি জাতের লিচুর মুকুল আগে এসেছে। মুকুলো ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার লিচুর বাজার ভালো পাব।

খানসামা উপজেলার দুয়োশুয়ে গ্রামের লিচুবাগান মালিক সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, আমার প্রায় ১০ বিঘার মত বাগান রয়েছে। এগুলো সবই বোম্বাই জাতের। কেবল মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে আছে।

বিরল উপজেলার পাঁচ নং বিরল ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, সব মিলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বাগান কিনে রেখেছি। গেল বারে প্রচন্ড রোদের তাপে অনেক লিচু পুড়ে যায় এতে আমরা ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে লিচুর গাছগুলি মুকূলে মুকুলে ভরে উঠবে। তবে গেল বারের মত আবহাওয়া হলে এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা। সব নির্ভর করতেছে মহান রাব্বুল আলামিনের উপর।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, জেলার ১৩ টি উপজেলায় যে পরিমাণ লিচু উৎপাদিত হয় তার অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদিত হয়ে থাকে বিরল উপজেলায়। এবার বিরল উপজেলায় ২ হাজার ৫৫৮ একর জমিতে বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না ২, চায়না ৩, কাঠালী, বেদেনা সহ বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। চাষিরা বর্তমানে লিচুবাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক ও বাগান মালিকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। কৃষক বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা মত তাদের পরামর্শ প্রদান করছে। আশা করছি দিনাজপুরে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে।

দিনাজপুর হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ এজামুল হক বলেন, লিচু ও আমের জন্য এবার অন ইয়ার সিজন। এখন পর্যন্ত লিচু গাছগুলি সার্বিক অবস্থা ভালো। এরই মধ্যে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে মাদ্রাজি জাতের গাছগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। বোম্বাই ও অন্যান্য জাতের লিচু গাছগুলিতে কেবল মুকুল আসা শুরু করেছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর এর অধিক জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। গেল বারে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে লিচুবাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় মোট উৎপাদিত লিচুর মধ্যে ৪০ শতাংশ বোম্বাই জাতের, ৩০ শতাংশ মাদ্রাজি জাতের এবং অবশিষ্ট ত্রিশ শতাংশ চায়না থ্রি,  চায়না ২, কাঠালি ও বেদনাজাতের। ১৫ বছরের বয়সী একটি গাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার  লিচু পেয়ে থাকে কৃষকরা। প্রতি একরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক মেট্রিক থেকে ১.৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। ফল উৎপাদনের জন্য দিনাজপুর একটি উর্বর ভূমি। এখানে লিচু সহ বর্তমানে ড্রাগন ফল ,স্ট্রবেরি, দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ হচ্ছে। তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে লিচুর আবাদ জেলায় সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকরা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কাজ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছে। আমাদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহ মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা লিচু বাগান গুলি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যেকোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দিচ্ছেন। আশা করছি এই মৌসুমে দিনাজপুরে লিচু উৎপাদন গেল বারের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

প্রতিবছর জেলায় ৫শ’ কোটি টাকা থেকে ৭শ’ কোটি টাকার লিচুর বিকিকিনি হয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে লিচু গাছে মুকুলের সমারোহ : মৌমাছির আনাগোনা

আপডেট সময় : ০৭:১০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

বসন্তের বিভিন্ন মুখী বাতাসে দিনাজপুরে ক্রমেই মুকুলের ভরে উঠছে জেলার ১৩ টি উপজেলার লিচুবাগান গুলো।আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে মৌমাছির। চাষিরা বলছে এবার গাছের অবস্থা বেশ ভালো। তবে গেল বাড়ির প্রচন্ড রোদ আতঙ্ক এখনও তাড়া করে ফিরছে তাদের। স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টার এবার লিচুর বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করছে।

জেলার বিরল উপজেলার ৫নং বিরল ইউনিয়নের মাধববাটী গ্রামের লিচু চাষী আমজাদ হোসেন বলেন, আমার নিজস্ব দুইটি বাগান আছে। এছাড়া আরও দুটি বাগান কিনে রেখেছি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়ে। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা বেশ ভালো। মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মাদ্রাজি জাতের লিচুর মুকুল আগে এসেছে। মুকুলো ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার লিচুর বাজার ভালো পাব।

খানসামা উপজেলার দুয়োশুয়ে গ্রামের লিচুবাগান মালিক সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, আমার প্রায় ১০ বিঘার মত বাগান রয়েছে। এগুলো সবই বোম্বাই জাতের। কেবল মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে আছে।

বিরল উপজেলার পাঁচ নং বিরল ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, সব মিলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বাগান কিনে রেখেছি। গেল বারে প্রচন্ড রোদের তাপে অনেক লিচু পুড়ে যায় এতে আমরা ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে লিচুর গাছগুলি মুকূলে মুকুলে ভরে উঠবে। তবে গেল বারের মত আবহাওয়া হলে এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা। সব নির্ভর করতেছে মহান রাব্বুল আলামিনের উপর।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, জেলার ১৩ টি উপজেলায় যে পরিমাণ লিচু উৎপাদিত হয় তার অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদিত হয়ে থাকে বিরল উপজেলায়। এবার বিরল উপজেলায় ২ হাজার ৫৫৮ একর জমিতে বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না ২, চায়না ৩, কাঠালী, বেদেনা সহ বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। চাষিরা বর্তমানে লিচুবাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক ও বাগান মালিকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। কৃষক বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা মত তাদের পরামর্শ প্রদান করছে। আশা করছি দিনাজপুরে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে।

দিনাজপুর হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ এজামুল হক বলেন, লিচু ও আমের জন্য এবার অন ইয়ার সিজন। এখন পর্যন্ত লিচু গাছগুলি সার্বিক অবস্থা ভালো। এরই মধ্যে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে মাদ্রাজি জাতের গাছগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। বোম্বাই ও অন্যান্য জাতের লিচু গাছগুলিতে কেবল মুকুল আসা শুরু করেছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর এর অধিক জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। গেল বারে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে লিচুবাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় মোট উৎপাদিত লিচুর মধ্যে ৪০ শতাংশ বোম্বাই জাতের, ৩০ শতাংশ মাদ্রাজি জাতের এবং অবশিষ্ট ত্রিশ শতাংশ চায়না থ্রি,  চায়না ২, কাঠালি ও বেদনাজাতের। ১৫ বছরের বয়সী একটি গাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার  লিচু পেয়ে থাকে কৃষকরা। প্রতি একরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক মেট্রিক থেকে ১.৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। ফল উৎপাদনের জন্য দিনাজপুর একটি উর্বর ভূমি। এখানে লিচু সহ বর্তমানে ড্রাগন ফল ,স্ট্রবেরি, দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ হচ্ছে। তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে লিচুর আবাদ জেলায় সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকরা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কাজ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছে। আমাদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহ মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা লিচু বাগান গুলি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যেকোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দিচ্ছেন। আশা করছি এই মৌসুমে দিনাজপুরে লিচু উৎপাদন গেল বারের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

প্রতিবছর জেলায় ৫শ’ কোটি টাকা থেকে ৭শ’ কোটি টাকার লিচুর বিকিকিনি হয়ে থাকে।