ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দিনাজপুরে লিচু গবেষণা কেন্দ্রের দাবি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের 

মোঃ খাদেমুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
  • / ৪৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলায় প্রায় সাত হাজার জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচুর আবাদ হয়ে থাকে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বোম্বাই বেদেনা মাদ্রাজি কাঠালি হাড়িয়া এলাচি সহ আরো কয়েকটি জাত। প্রতি মৌসুমে এই জেলা থেকে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়ে থাকে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য হাজার কোটির কাছাকাছি। সম্প্রতি লিচুবাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে গেল কয়েক বছর ধরে লিচুর মুকুল পুড়ে যাওয়া, লিচু ঝলসে যাওয়া, গাছ থেকে লিচু পড়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন অজানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে লিচু বাগান গুলো। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
জেলার বিরল উপজেলার মাধববাটি গ্রামের লিচু চাষী আবু তাহের বলেন, আমার বেদনা বাগানের তিরিশ শতাংশ মুকুল এই মৌসুমের শুরুতেই পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট যা রয়েছে তা রক্ষায় প্রচুর খরচ হয়েছে। গেল বছরও আমরা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। স্থানীয় কৃষি অফিস আমাদের কোন সমাধান দিতে পারেনি তাই আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। লিচুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা মহা চিন্তায় আছি।
দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, গেল বছরের শেষ দিকে অনেক লিচু তীব্র তাপদাহে পুড়ে গেছে। বিপুল অংকের টাকা আমাদের লোকসান হয়েছে। এবছরের শুরুতেও মাদ্রাজি ও বেদনা জাতির লিচুর মুকুল গুলো পুড়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মত ব্যবস্থা নিয়েও কোন প্রতিকার মিলেনি। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সমাধান দিতে পারেনি। গেল বছরে আমার প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ বছরও প্রায় ১০ লক্ষ টাকার লোকসানের সম্মুখীন হবো আমি।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকার পত্রিকায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দিনাজপুরে এই মৌসুমে প্রায় ৩০ শতাংশ মুকুল তীব্র তাপদাহে পুড়ে গেছে এর বেশিরভাগ মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের। এমন বাস্তবতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বালাই নাশক ব্যবহার করেও মিলছে না কোন প্রতিকার।
লিচু গবেষণা কেন্দ্র বিষয়ে জানতে চাইলে বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, শুধুমাত্র লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত নেই। তবে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিষয়টি দেখভাল করে ‌। রাজশাহীর বিনোদপুরে ফল গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে কিন্তু তারা লিচু নিয়ে গবেষণা করে কিনা সে বিষয়ে আমার খুব একটা ধারণা নেই। এছাড়াও কৃষি অধিদপ্তরের আওতায় ওপেন ফিল্ড রিসার্চ কর্মসূচি রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে লিচুর উপর এর অভিঘাত তা নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র হতেই পারে। এ বিষয়ে আমরা অত্র এলাকার সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি’র দৃষ্টিতে বিষয়টি আনবো।
দিনাজপুর হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক এজামুল হক বলেন, বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে আমাদের কোন কর্মসূচি নেই। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই নিয়ে কিছু কিছু কাজ করে থাকে। তবে আমরা আমাদের মাঠ থেকে পাওয়া সমস্যাগুলো বিভিন্ন ওয়ার্কশপে আলোচনা করি এবং সে মোতাবেক সিদ্ধান্তে উপনীত হই। বর্তমান বাস্তবতায় চিহ্নিত লিচু আবাদের সমস্যা গুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দিনাজপুরে দেশের সর্ববৃহৎ লিচু বাজার। তাই লিচু নিয়ে একটি গবেষণা কেন্দ্র এই জেলায় হোক এমন প্রত্যাশা লিচু বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি হবিবুর রহমান বলেন, এই সরকার কোথায় যতটা কৃষিকে প্রাধান্য দেয় বাস্তবতা তার বিপরীত। যেই জেলায় হাজার কোটি টাকার লিচুর ব্যবসা হয়ে থাকে সেখানে লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা অত্যাবশ্যক। অথচ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে কৃষির উপর এর যে নেতিবাচক প্রভাব তার বিপরীতে সরকার যথার্থ পদক্ষেপ দৃশ্যমান্য নয়। দিনাজপুরে একটি লিচু গবেষণা কেন্দ্র তৈরিতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে লিচু গবেষণা কেন্দ্রের দাবি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের 

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলায় প্রায় সাত হাজার জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচুর আবাদ হয়ে থাকে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বোম্বাই বেদেনা মাদ্রাজি কাঠালি হাড়িয়া এলাচি সহ আরো কয়েকটি জাত। প্রতি মৌসুমে এই জেলা থেকে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়ে থাকে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য হাজার কোটির কাছাকাছি। সম্প্রতি লিচুবাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে গেল কয়েক বছর ধরে লিচুর মুকুল পুড়ে যাওয়া, লিচু ঝলসে যাওয়া, গাছ থেকে লিচু পড়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন অজানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে লিচু বাগান গুলো। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
জেলার বিরল উপজেলার মাধববাটি গ্রামের লিচু চাষী আবু তাহের বলেন, আমার বেদনা বাগানের তিরিশ শতাংশ মুকুল এই মৌসুমের শুরুতেই পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট যা রয়েছে তা রক্ষায় প্রচুর খরচ হয়েছে। গেল বছরও আমরা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। স্থানীয় কৃষি অফিস আমাদের কোন সমাধান দিতে পারেনি তাই আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। লিচুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা মহা চিন্তায় আছি।
দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, গেল বছরের শেষ দিকে অনেক লিচু তীব্র তাপদাহে পুড়ে গেছে। বিপুল অংকের টাকা আমাদের লোকসান হয়েছে। এবছরের শুরুতেও মাদ্রাজি ও বেদনা জাতির লিচুর মুকুল গুলো পুড়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মত ব্যবস্থা নিয়েও কোন প্রতিকার মিলেনি। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সমাধান দিতে পারেনি। গেল বছরে আমার প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ বছরও প্রায় ১০ লক্ষ টাকার লোকসানের সম্মুখীন হবো আমি।
এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকার পত্রিকায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দিনাজপুরে এই মৌসুমে প্রায় ৩০ শতাংশ মুকুল তীব্র তাপদাহে পুড়ে গেছে এর বেশিরভাগ মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের। এমন বাস্তবতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বালাই নাশক ব্যবহার করেও মিলছে না কোন প্রতিকার।
লিচু গবেষণা কেন্দ্র বিষয়ে জানতে চাইলে বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, শুধুমাত্র লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র এখন পর্যন্ত নেই। তবে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিষয়টি দেখভাল করে ‌। রাজশাহীর বিনোদপুরে ফল গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে কিন্তু তারা লিচু নিয়ে গবেষণা করে কিনা সে বিষয়ে আমার খুব একটা ধারণা নেই। এছাড়াও কৃষি অধিদপ্তরের আওতায় ওপেন ফিল্ড রিসার্চ কর্মসূচি রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে লিচুর উপর এর অভিঘাত তা নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র হতেই পারে। এ বিষয়ে আমরা অত্র এলাকার সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি’র দৃষ্টিতে বিষয়টি আনবো।
দিনাজপুর হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক এজামুল হক বলেন, বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে আমাদের কোন কর্মসূচি নেই। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই নিয়ে কিছু কিছু কাজ করে থাকে। তবে আমরা আমাদের মাঠ থেকে পাওয়া সমস্যাগুলো বিভিন্ন ওয়ার্কশপে আলোচনা করি এবং সে মোতাবেক সিদ্ধান্তে উপনীত হই। বর্তমান বাস্তবতায় চিহ্নিত লিচু আবাদের সমস্যা গুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দিনাজপুরে দেশের সর্ববৃহৎ লিচু বাজার। তাই লিচু নিয়ে একটি গবেষণা কেন্দ্র এই জেলায় হোক এমন প্রত্যাশা লিচু বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি হবিবুর রহমান বলেন, এই সরকার কোথায় যতটা কৃষিকে প্রাধান্য দেয় বাস্তবতা তার বিপরীত। যেই জেলায় হাজার কোটি টাকার লিচুর ব্যবসা হয়ে থাকে সেখানে লিচু নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা অত্যাবশ্যক। অথচ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে কৃষির উপর এর যে নেতিবাচক প্রভাব তার বিপরীতে সরকার যথার্থ পদক্ষেপ দৃশ্যমান্য নয়। দিনাজপুরে একটি লিচু গবেষণা কেন্দ্র তৈরিতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।