ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন

মোঃ খাদেমুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিনেট পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদন। এরই মধ্যে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি ও ফলের চারা উৎপাদন করছে কৃষি উদ্যোক্তারা। সহায়তাসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০নং রানী পুকুর ইউনিয়নের রানীপুকুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের পুত্র মোঃ এমদাদুল হক গেল ২০২৩ সালের ৫ জুলাই মানসম্পদ ও চারা উৎপাদনে পলিনেট হাউস গড়ে তুলেন ২০ শতক জমির উপর। সকল ধরনের সবজি চারা এই পদ্ধতিতে উৎপাদন করছে সে।কৃষি উদ্যোক্তা এমদাদুল হক বলেন, আমি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় ও আমার কিছু নিজস্ব তহবিল দিয়ে গেল বছর মানসম্মত চারা উৎপাদনের জন্য পলিনেট হাউস গড়ে তুলি। বর্তমানে এখানে সব ধরনের সবজি চারা উৎপাদন করছি আমি। এখানে উৎপাদিত চারা রোগ বালাই মুক্ত এবং এই চারায় সবজির উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে আমার এই প্রকল্পে তিনজন স্থায়ী শ্রমিক ও প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। আগামীতে আরো একটি এরকম পলিনেট হাউজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এ পর্যন্ত আমার এই পলিনেট হাউস থেকে ৬ থেকে ৭ লক্ষ বিভিন্ন সবজির চারা বিক্রি করেছি আমি। সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে এই প্রকল্প থেকে।

কেন নিতে এসেছেন এত এসব চারা? এমন প্রশ্নের জবাবে একই এলাকার বহবলদিঘী এলাকার কৃষক সুখেন্দ্র শীল বলেন, আমি এখানে সিটি ‌মরিচের চারা নিতে এসেছি। বাইরের বাজার থেকে চারা নিতে গেলে দাম বেশি পড়ে এবং সেই চারায় মরিচের উৎপাদনও কম হয়। এখানে যে চারাগুলি পাওয়া যায় তা পুরোপুরি রোগ মুক্ত। এজন্য কোন চারা মারা যায় না। সে কারণেই আমি এখান থেকে চারা নিতে এসেছি।

বিরল উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হয়েছি। বর্তমান বৈরী আবহাওয়ায় এ ধরনের পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে একদিকে কৃষক লাভবান হবে অন্যদিকে তৈরি হবে অনেক কৃষি উদ্যোক্তা। এ ধরনের প্রকল্প দেখে শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিতরা কৃষি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পলিনেট হাউজ পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে সরকার যে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার কথা বলছে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের সেই উদ্দেশ্য ও উল্লেখ্য কে পূরণ করবে। উন্নত বাংলাদেশ তৈরীতে কৃষিকে আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে আগামীতে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদন করার বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, এসব পাইলট প্রকল্প দিনাজপুরের বিভিন্ন জেলায় কৃষি উদ্যোক্তারা তৈরি করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের আর্থিক সহায়তারসহ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে চারা। এ অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন আগামীতে জেলায় আরো বৃদ্ধি পাবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার ফ্যাকাল্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে আমাদের দেশীয় কৃষি ব্যবস্থায় বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে চাষাবাদের পদ্ধতিতে আধুনিকতা আনতে হবে। স্মার্ট কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে সুস্থ ও রোগমুক্ত বীজ-চারা উৎপাদন করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে এই পদ্ধতিতে তারা চারা উৎপাদন করে। ফলে আমাদের দেশে তুলনায় তাদের দেশে সবজির গড় উৎপাদন বেশি। কারণ তারা ভালো বীজ ব্যবহার করে থাকে। তাই মানসম্মত বীজ উৎপাদনে পলিনেট হাউস পদ্ধতি জনগণের দরগায় নিতে সরকার এরই মধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রত্যেকটি জেলায় কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আশা করছি উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়েই আমরা উন্নত দেশের কাতারে শামিল হব।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন

আপডেট সময় : ০১:০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিনেট পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদন। এরই মধ্যে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি ও ফলের চারা উৎপাদন করছে কৃষি উদ্যোক্তারা। সহায়তাসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০নং রানী পুকুর ইউনিয়নের রানীপুকুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের পুত্র মোঃ এমদাদুল হক গেল ২০২৩ সালের ৫ জুলাই মানসম্পদ ও চারা উৎপাদনে পলিনেট হাউস গড়ে তুলেন ২০ শতক জমির উপর। সকল ধরনের সবজি চারা এই পদ্ধতিতে উৎপাদন করছে সে।কৃষি উদ্যোক্তা এমদাদুল হক বলেন, আমি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় ও আমার কিছু নিজস্ব তহবিল দিয়ে গেল বছর মানসম্মত চারা উৎপাদনের জন্য পলিনেট হাউস গড়ে তুলি। বর্তমানে এখানে সব ধরনের সবজি চারা উৎপাদন করছি আমি। এখানে উৎপাদিত চারা রোগ বালাই মুক্ত এবং এই চারায় সবজির উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে আমার এই প্রকল্পে তিনজন স্থায়ী শ্রমিক ও প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। আগামীতে আরো একটি এরকম পলিনেট হাউজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এ পর্যন্ত আমার এই পলিনেট হাউস থেকে ৬ থেকে ৭ লক্ষ বিভিন্ন সবজির চারা বিক্রি করেছি আমি। সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে এই প্রকল্প থেকে।

কেন নিতে এসেছেন এত এসব চারা? এমন প্রশ্নের জবাবে একই এলাকার বহবলদিঘী এলাকার কৃষক সুখেন্দ্র শীল বলেন, আমি এখানে সিটি ‌মরিচের চারা নিতে এসেছি। বাইরের বাজার থেকে চারা নিতে গেলে দাম বেশি পড়ে এবং সেই চারায় মরিচের উৎপাদনও কম হয়। এখানে যে চারাগুলি পাওয়া যায় তা পুরোপুরি রোগ মুক্ত। এজন্য কোন চারা মারা যায় না। সে কারণেই আমি এখান থেকে চারা নিতে এসেছি।

বিরল উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হয়েছি। বর্তমান বৈরী আবহাওয়ায় এ ধরনের পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে একদিকে কৃষক লাভবান হবে অন্যদিকে তৈরি হবে অনেক কৃষি উদ্যোক্তা। এ ধরনের প্রকল্প দেখে শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিতরা কৃষি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পলিনেট হাউজ পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে সরকার যে স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার কথা বলছে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের সেই উদ্দেশ্য ও উল্লেখ্য কে পূরণ করবে। উন্নত বাংলাদেশ তৈরীতে কৃষিকে আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত কারণে আগামীতে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে মানসম্মত চারা উৎপাদন করার বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, এসব পাইলট প্রকল্প দিনাজপুরের বিভিন্ন জেলায় কৃষি উদ্যোক্তারা তৈরি করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের আর্থিক সহায়তারসহ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে চারা। এ অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে পলিনেট হাউস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন আগামীতে জেলায় আরো বৃদ্ধি পাবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার ফ্যাকাল্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে আমাদের দেশীয় কৃষি ব্যবস্থায় বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে চাষাবাদের পদ্ধতিতে আধুনিকতা আনতে হবে। স্মার্ট কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে সুস্থ ও রোগমুক্ত বীজ-চারা উৎপাদন করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে এই পদ্ধতিতে তারা চারা উৎপাদন করে। ফলে আমাদের দেশে তুলনায় তাদের দেশে সবজির গড় উৎপাদন বেশি। কারণ তারা ভালো বীজ ব্যবহার করে থাকে। তাই মানসম্মত বীজ উৎপাদনে পলিনেট হাউস পদ্ধতি জনগণের দরগায় নিতে সরকার এরই মধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রত্যেকটি জেলায় কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আশা করছি উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়েই আমরা উন্নত দেশের কাতারে শামিল হব।

 

বাখ//আর