ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তাপদাহের পর শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৪৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীতে কোনো বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে গরমে সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। সবাই এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। তবে অপেক্ষার শেষ কবে নাগাদ হতে পারে তা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজরুল রশীদ বলেন, আগামী শুক্র ও শনিবার রাজধানীতে বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) তিনি এ তথ্য জানান।

দুই দশকে এপ্রিল-মে মাসে রাজধানীর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সাথে উষ্ণতম মাস এপ্রিলে সকালে পড়ছে কুয়াশাও। আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত এসি ও কাঁচের ব্যবহারও তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছর ২৪ এপ্রিল হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ছেয়ে যায় দিনাজপুর-কুমিল্লা। এ বছরও এপ্রিলে ভোরের রাজধানী কুয়াশায় মোড়া থাকলেও সারা দিন থাকছে অসহনীয় গরম। একে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ বলছেন গবেষকরা। ২০১৬ সালের আগে ঢাকাসহ পশ্চিমাঞ্চল তাপ প্রবণ এলাকা থাকলেও এখন এর পরিসর বেড়েছে সিলেট, পার্বত্য এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চলেও।

দেশে সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিল ও মে। এই সময়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৯৭২ সালের মে মাসে। সে বছর রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর ঢাকায় এরই মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান জানিয়েছেন, ২০ বছরে ঢাকার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক সাত-চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রামে বেড়েছে ১ দশমিক নয়-দুই ডিগ্রি, খুলনায় ১ দশমিক দুই-সাত, সিলেটে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি। আর ছয় দশকে দেশের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এ বছর মার্চে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৭ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই তাই, টানা বৃষ্টির পর তীব্র তাপদাহ দেখছে দেশ।

জানা গেছে, আজ ও আগামীকাল ঢাকার তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। এই তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় আগামী শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির হতে পারে। তার আগে কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আজ মঙ্গলবার সিলেটে আবারও বৃষ্টি হতে পারে।

গত কয়েকদিনের দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। হাঁসফাঁস করছে মানুষ। একটু বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা। রাজধানীতে প্রার্থনাও করা হয়েছে বৃষ্টির জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

তাপদাহের পর শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০১:১৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীতে কোনো বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে গরমে সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। সবাই এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। তবে অপেক্ষার শেষ কবে নাগাদ হতে পারে তা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজরুল রশীদ বলেন, আগামী শুক্র ও শনিবার রাজধানীতে বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) তিনি এ তথ্য জানান।

দুই দশকে এপ্রিল-মে মাসে রাজধানীর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সাথে উষ্ণতম মাস এপ্রিলে সকালে পড়ছে কুয়াশাও। আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত এসি ও কাঁচের ব্যবহারও তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছর ২৪ এপ্রিল হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ছেয়ে যায় দিনাজপুর-কুমিল্লা। এ বছরও এপ্রিলে ভোরের রাজধানী কুয়াশায় মোড়া থাকলেও সারা দিন থাকছে অসহনীয় গরম। একে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ বলছেন গবেষকরা। ২০১৬ সালের আগে ঢাকাসহ পশ্চিমাঞ্চল তাপ প্রবণ এলাকা থাকলেও এখন এর পরিসর বেড়েছে সিলেট, পার্বত্য এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চলেও।

দেশে সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিল ও মে। এই সময়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৯৭২ সালের মে মাসে। সে বছর রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর ঢাকায় এরই মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান জানিয়েছেন, ২০ বছরে ঢাকার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ২ দশমিক সাত-চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রামে বেড়েছে ১ দশমিক নয়-দুই ডিগ্রি, খুলনায় ১ দশমিক দুই-সাত, সিলেটে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি। আর ছয় দশকে দেশের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, এ বছর মার্চে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৭ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই তাই, টানা বৃষ্টির পর তীব্র তাপদাহ দেখছে দেশ।

জানা গেছে, আজ ও আগামীকাল ঢাকার তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। এই তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় আগামী শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির হতে পারে। তার আগে কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আজ মঙ্গলবার সিলেটে আবারও বৃষ্টি হতে পারে।

গত কয়েকদিনের দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। হাঁসফাঁস করছে মানুষ। একটু বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা। রাজধানীতে প্রার্থনাও করা হয়েছে বৃষ্টির জন্য।