ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তাড়াশে বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতার চাদাঁবাজিসহ যত অপকর্ম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডলে বিরুদ্ধে মারধর ও চাদাঁবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।  উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডল উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ইশ্বরপুর গ্রামের আইয়ুব মন্ডলের ছেলে ও এক সন্তানের জনক।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, রানা মন্ডল এতটা বেপরোয়া যে এলাকায় কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যবসায়ীদের মারধর, হামলা, নির্যাতন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরসহ অসংখ্য অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় চাদাঁবাজি, প্রাণনাশের জিডিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের নেতা রানা মন্ডল। এখন সে চাঁদাবাজির পরিধি বাড়াতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চাঁদার দাবি করছে। তাদের চাহিদামতো চাঁদা না দিলে তাকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে মারধর করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন সরদার জানান, রানা মন্ডল ৭বছর পুর্বে বিয়ে করে সংসার জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের ঘরে রয়েছে একটি সন্তান। কিন্ত কি করে বর্তমান তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। আর পদ পাওয়ার পর পরই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি গত রোববার (৫মার্চ) ধামাইচহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যালয়ে মঞ্চে বসা নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডলের নেতৃত্বে ১০/১৫জন সন্ত্রাসী দল হামলা চালিয়ে ৫০টির মত চেয়ার ভাংচুর করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

ধামাইচ বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতা রানা মন্ডল আমার কাছে চাদাঁ দাবী করে আসছিল। তাকে চাদাঁ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত জানুয়ারী মাসে ধামাইচ বাজারে আমার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে ধামাইচহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছেলে ছাত্রলীগ নেতা রানা মন্ডল ও জিহাদ মন্ডল আমার পথরোধ করে চাদাঁ দাবী করে। চাদাঁ দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ সময় আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হলে রাস্তার পাশে আমাকে ফেলে দিয়ে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করেন। এ নিয়ে ০৪/০১/২৩ তারিখে তাড়াশ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়। পরবর্তীতে তাড়াশ থানা পুলিশ তদন্ত ঘটনার সত্যতা পেলে আমার জিডি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন, এখন অবধী জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় আছি। কারন রানা মন্ডল আমার কাছে চাদাঁ দাবী করছেই। চাদাঁ না দিলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিবে ও জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

অভিযুক্ত তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডল সবগুলো অভিযোগ ম্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ একটাও অপরাধমুলক অভিযোগ দেখাতে পারবেনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের সাথে আমি জড়িত নয়। এছাড়া ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আমি কোনভাবেই জড়িত নয়।

তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান রুবেল বলেন, যদি কেউ অন্যায় করে। সে ছাত্রলীগের নেতা হোক আর যাই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া রানা মন্ডলের বিরুদ্ধে পুর্বে জিডি ও মামলা রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত চলছে।

 

বা/খ : এসআর।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

তাড়াশে বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতার চাদাঁবাজিসহ যত অপকর্ম

আপডেট সময় : ০১:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডলে বিরুদ্ধে মারধর ও চাদাঁবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।  উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডল উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ইশ্বরপুর গ্রামের আইয়ুব মন্ডলের ছেলে ও এক সন্তানের জনক।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, রানা মন্ডল এতটা বেপরোয়া যে এলাকায় কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যবসায়ীদের মারধর, হামলা, নির্যাতন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরসহ অসংখ্য অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় চাদাঁবাজি, প্রাণনাশের জিডিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের নেতা রানা মন্ডল। এখন সে চাঁদাবাজির পরিধি বাড়াতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চাঁদার দাবি করছে। তাদের চাহিদামতো চাঁদা না দিলে তাকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে মারধর করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন সরদার জানান, রানা মন্ডল ৭বছর পুর্বে বিয়ে করে সংসার জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের ঘরে রয়েছে একটি সন্তান। কিন্ত কি করে বর্তমান তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। আর পদ পাওয়ার পর পরই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি গত রোববার (৫মার্চ) ধামাইচহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যালয়ে মঞ্চে বসা নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডলের নেতৃত্বে ১০/১৫জন সন্ত্রাসী দল হামলা চালিয়ে ৫০টির মত চেয়ার ভাংচুর করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

ধামাইচ বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক জানান, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতা রানা মন্ডল আমার কাছে চাদাঁ দাবী করে আসছিল। তাকে চাদাঁ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত জানুয়ারী মাসে ধামাইচ বাজারে আমার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে ধামাইচহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছেলে ছাত্রলীগ নেতা রানা মন্ডল ও জিহাদ মন্ডল আমার পথরোধ করে চাদাঁ দাবী করে। চাদাঁ দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ সময় আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হলে রাস্তার পাশে আমাকে ফেলে দিয়ে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করেন। এ নিয়ে ০৪/০১/২৩ তারিখে তাড়াশ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়। পরবর্তীতে তাড়াশ থানা পুলিশ তদন্ত ঘটনার সত্যতা পেলে আমার জিডি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন, এখন অবধী জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় আছি। কারন রানা মন্ডল আমার কাছে চাদাঁ দাবী করছেই। চাদাঁ না দিলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিবে ও জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

অভিযুক্ত তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা মন্ডল সবগুলো অভিযোগ ম্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ একটাও অপরাধমুলক অভিযোগ দেখাতে পারবেনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের সাথে আমি জড়িত নয়। এছাড়া ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আমি কোনভাবেই জড়িত নয়।

তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান রুবেল বলেন, যদি কেউ অন্যায় করে। সে ছাত্রলীগের নেতা হোক আর যাই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া রানা মন্ডলের বিরুদ্ধে পুর্বে জিডি ও মামলা রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত চলছে।

 

বা/খ : এসআর।