ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ডিমলায় এলজিইডি প্রভাতী প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • / ৪৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাধীন খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের  টুনিরহাটে এলজিইডি প্রভাতী প্রকল্পের অধীনে একটি বাজার নির্মাণের জন্য তিনটি গ্রুপে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতার বৃদ্ধির জন্য স্ক্রিম তিনটি বরাদ্দ হয়।
প্রথম গ্রুপে ২৭,৭৬,৯৯৩ টাকা, দ্বিতীয় গ্রুপে ২৬,৯৪,৮৩১ টাকা এবং তৃতীয় গ্রুপে ২৬,৬০,৬৭৭ বরাদ্দ থাকলেও গ্রুপ ২য় উপরের চাপের কারণেই দিনে রাতে কাজ শেষ করে উদ্বোধন দেখানো হয়েছে এবং ১ম গ্রুপ এর আংশিক কিছু কাজ দেখিয়েছেন।
এই কাজের মধ্যে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ১৩ই জুন ২০২৩ এবং কাজ সমাপ্ত ১২ই জুন ২০২৪ কিন্তু আজ অবধি কাজ শেষ করতে পারে নাই। প্রকল্পে স্পষ্টভাবে বলা আছে অনুমোদিত এলসিএস কর্মী ছাড়া অন্য কেউ কাজ করতে পারবে না। সভাপতি /সম্পাদক সদস্যদের কাজ অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করতে হবে চূড়ান্ত বিল এলসিএস সদস্য দের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তা করেন নাই বলে গ্রুপ ২য় সভাপতি লিমা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদা বেগম সংবাদ কর্মীকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।
গ্রুপ ২য় তে ২০জন এলসিএস সদস্য থাকলে ও অনেকে বিভিন্ন কারণে উপস্থিত থাকতে পারে নাই, যারা ছিল তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এলসিএস কর্মী বাদ দিয়ে অন্য লোক দিয়ে কাজ করানো হয়। গ্রুপের সভাপতি/ সম্পাদকরা আরো বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুতেই ৩টি গ্রুপের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
১ম গ্রুপের সভাপতি কাজলী বেগম, সম্পাদক পানপতি, ২য় গ্রুপের সভাপতি লিমা বেগম, সম্পাদক রাশেদা বেগম, ৩য় গ্রুপের সভাপতি শেফালী বেগম, সম্পাদক নাসিমা বেগম। তিন গ্রুপের সভাপতি/সম্পাদক  বলেন, আমাদের ছয়জনকে ডিমলা উপজেলা এলজিইডি অফিসে ডেকে সোনালী ব্যাংক, ডিমলা শাখায় তিনটি গ্রুপের তিনটি একাউন্ট খুলে অফিসের কর্মকর্তাগণ তিনটি গ্রুপের ৯টি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর  করে নেন।
পরবর্তীতে কখন, কিভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে আমরা কোন কিছুই জানিনা এবং প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ইট,বালু, সিমেন্ট, রড, টিন,অ্যাঙ্গেল অন্যান্য কেনাকাটায় কোন সদস্যকে সাথে রাখে নাই কিন্তু আমরা জানতে পারলাম মালামাল কেনাকাটার ভাউচার সভাপতি/ সম্পাদকের নামে দেখানো হয়েছে। ২য় গ্রুপের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত হিসাব নিয়ে এলসিএস সদস্যদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে কর্মকর্তাগণ তাদের ইচ্ছা মতো করে এলসিএস সদস্যদের টাকা প্রদান করেন এবং হাজিরা খাতায় সভাপতি/সম্পাদকের যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে সেগুলো লিমা এবং রাশেদা অস্বীকার করে বলেন, আমরা কখনোই হাজিরা খাতায় ঐ স্বাক্ষর করি নাই এসব স্বাক্ষর জাল করে কর্মকর্তাগণ প্রতিদিনের হাজিরা বেশি দেখিয়েছেন এখনো অনেক হাজিরার টাকা বাকি রেখেছেন আজ দিব কাল দিব এভাবে টালবাহানা করতেছে।
এলাকাবাসী ও অত্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিয়ে বলেন, যেভাবে কাজ গুলো অতি দ্রুত শেষ করল, দেখতে পেলাম অনেক ফাঁকা করে রড দিয়ে গভীর রাতে ঢালাই করতেছে কিছু বলতে গেলে বলে উপরের চাপ আছে আগামীকাল উদ্বোধন করতে হবে তাই রাতারাতি কাজ শেষ করতে হচ্ছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ১ম গ্রুপের কাজ শুরু না করতেই ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, ৩য় গ্রুপে ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নিউজ লেখা পর্যন্ত তৃতীয় গ্রুপের কোন কাজ শুরু করে নাই, টয়লেট স্থাপনের সঠিক জায়গা না থাকায় পুরাতন একটি টয়লেট দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রভাতী প্রকল্পের তথ্য বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি কর্মকর্তা) শফিউল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন তথ্য দিতে পারবো না আপনারা যদি এসব বিষয়ে লেখালেখি করেন তাহলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্প বাতিল করে দিব। তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না, প্রয়োজনে বদলী নিয়ে চলে যাব।
পরবর্তীতে তথ্য আইনে আবেদন করলে অনেক ঘোরাঘুরির পর এলসিএস মনিটরিং এন্ড লাভলিহুড অফিসার মেহেদী ফাহাদ বিন আজাদ ( সবুজ) আংশিক অস্পষ্ট কিছু কাগজ দিয়ে বলেন কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না,আমরা উপরের চাপেই যেভাবে পারছি  দিনে রাতে কাজ করছি এবং বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসানের সাথে অনিয়মের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, উপরের চাপের কারণেই রাতারাতি ঢালাই ও অন্যান্য কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, কাজ শেষে গ্রুপের টাকা সমন্বয় করা হবে।
অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিমলায় এলজিইডি প্রভাতী প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাধীন খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের  টুনিরহাটে এলজিইডি প্রভাতী প্রকল্পের অধীনে একটি বাজার নির্মাণের জন্য তিনটি গ্রুপে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতার বৃদ্ধির জন্য স্ক্রিম তিনটি বরাদ্দ হয়।
প্রথম গ্রুপে ২৭,৭৬,৯৯৩ টাকা, দ্বিতীয় গ্রুপে ২৬,৯৪,৮৩১ টাকা এবং তৃতীয় গ্রুপে ২৬,৬০,৬৭৭ বরাদ্দ থাকলেও গ্রুপ ২য় উপরের চাপের কারণেই দিনে রাতে কাজ শেষ করে উদ্বোধন দেখানো হয়েছে এবং ১ম গ্রুপ এর আংশিক কিছু কাজ দেখিয়েছেন।
এই কাজের মধ্যে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ১৩ই জুন ২০২৩ এবং কাজ সমাপ্ত ১২ই জুন ২০২৪ কিন্তু আজ অবধি কাজ শেষ করতে পারে নাই। প্রকল্পে স্পষ্টভাবে বলা আছে অনুমোদিত এলসিএস কর্মী ছাড়া অন্য কেউ কাজ করতে পারবে না। সভাপতি /সম্পাদক সদস্যদের কাজ অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করতে হবে চূড়ান্ত বিল এলসিএস সদস্য দের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তা করেন নাই বলে গ্রুপ ২য় সভাপতি লিমা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদা বেগম সংবাদ কর্মীকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।
গ্রুপ ২য় তে ২০জন এলসিএস সদস্য থাকলে ও অনেকে বিভিন্ন কারণে উপস্থিত থাকতে পারে নাই, যারা ছিল তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এলসিএস কর্মী বাদ দিয়ে অন্য লোক দিয়ে কাজ করানো হয়। গ্রুপের সভাপতি/ সম্পাদকরা আরো বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুতেই ৩টি গ্রুপের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
১ম গ্রুপের সভাপতি কাজলী বেগম, সম্পাদক পানপতি, ২য় গ্রুপের সভাপতি লিমা বেগম, সম্পাদক রাশেদা বেগম, ৩য় গ্রুপের সভাপতি শেফালী বেগম, সম্পাদক নাসিমা বেগম। তিন গ্রুপের সভাপতি/সম্পাদক  বলেন, আমাদের ছয়জনকে ডিমলা উপজেলা এলজিইডি অফিসে ডেকে সোনালী ব্যাংক, ডিমলা শাখায় তিনটি গ্রুপের তিনটি একাউন্ট খুলে অফিসের কর্মকর্তাগণ তিনটি গ্রুপের ৯টি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর  করে নেন।
পরবর্তীতে কখন, কিভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে আমরা কোন কিছুই জানিনা এবং প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ইট,বালু, সিমেন্ট, রড, টিন,অ্যাঙ্গেল অন্যান্য কেনাকাটায় কোন সদস্যকে সাথে রাখে নাই কিন্তু আমরা জানতে পারলাম মালামাল কেনাকাটার ভাউচার সভাপতি/ সম্পাদকের নামে দেখানো হয়েছে। ২য় গ্রুপের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত হিসাব নিয়ে এলসিএস সদস্যদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে কর্মকর্তাগণ তাদের ইচ্ছা মতো করে এলসিএস সদস্যদের টাকা প্রদান করেন এবং হাজিরা খাতায় সভাপতি/সম্পাদকের যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে সেগুলো লিমা এবং রাশেদা অস্বীকার করে বলেন, আমরা কখনোই হাজিরা খাতায় ঐ স্বাক্ষর করি নাই এসব স্বাক্ষর জাল করে কর্মকর্তাগণ প্রতিদিনের হাজিরা বেশি দেখিয়েছেন এখনো অনেক হাজিরার টাকা বাকি রেখেছেন আজ দিব কাল দিব এভাবে টালবাহানা করতেছে।
এলাকাবাসী ও অত্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিয়ে বলেন, যেভাবে কাজ গুলো অতি দ্রুত শেষ করল, দেখতে পেলাম অনেক ফাঁকা করে রড দিয়ে গভীর রাতে ঢালাই করতেছে কিছু বলতে গেলে বলে উপরের চাপ আছে আগামীকাল উদ্বোধন করতে হবে তাই রাতারাতি কাজ শেষ করতে হচ্ছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ১ম গ্রুপের কাজ শুরু না করতেই ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, ৩য় গ্রুপে ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নিউজ লেখা পর্যন্ত তৃতীয় গ্রুপের কোন কাজ শুরু করে নাই, টয়লেট স্থাপনের সঠিক জায়গা না থাকায় পুরাতন একটি টয়লেট দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রভাতী প্রকল্পের তথ্য বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি কর্মকর্তা) শফিউল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন তথ্য দিতে পারবো না আপনারা যদি এসব বিষয়ে লেখালেখি করেন তাহলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্প বাতিল করে দিব। তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না, প্রয়োজনে বদলী নিয়ে চলে যাব।
পরবর্তীতে তথ্য আইনে আবেদন করলে অনেক ঘোরাঘুরির পর এলসিএস মনিটরিং এন্ড লাভলিহুড অফিসার মেহেদী ফাহাদ বিন আজাদ ( সবুজ) আংশিক অস্পষ্ট কিছু কাগজ দিয়ে বলেন কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না,আমরা উপরের চাপেই যেভাবে পারছি  দিনে রাতে কাজ করছি এবং বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসানের সাথে অনিয়মের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, উপরের চাপের কারণেই রাতারাতি ঢালাই ও অন্যান্য কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, কাজ শেষে গ্রুপের টাকা সমন্বয় করা হবে।
অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
বাখ//আর