ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ডামুড্যায় ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসব, হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ

মোহাম্মদ নান্নু মৃধা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
একটি বাঁশির শব্দ, একযোগে শত শত জালের ঝুপ আওয়াজ। শুরু হয়ে গেল ঝাঁকি জালদিয়ে দিনব্যাপি মাছ ধরা উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় শরীয়তপুর জেলার, ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ফোরকার পাড় দিঘীতে অনুষ্ঠিত হয় দিন ব্যাপি মাছ ধরার এ উৎসব। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৮ থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে এ উৎসব।
এ আয়োজনে, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার শত শত সৌখিন মৎস্য শিকারী ও পেশাদার জেলে এ উৎসবে অংশ গ্রহন করে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে আরো বর্নিল ও বর্নাঢ্য করতে নানা উদ্যোগ  নিয়েছে আয়োজক কমিটি ও দিঘীর মালিকগন।
কারো হাতে ডুলা কারও হাতে জাল। মাছ ধরার নানা উপকরণ হাতে শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী পুরুষ সবাই সামিল হয়েছে মাছ ধরার উৎসব।
আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন মিবু জানান প্রতি বছর বৈশাখ মাসে এই মাছ ধরা উৎসব পালিত হয়ে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার লোক আসেন মাছ ধরতে। সেই সাথে হাজার হাজর দর্শক সমবেত হয় এই উৎসবে। পাশের উপজেলা গোসাইরহাট উপজেলা থেকে আসা মৎস্য শিকারি জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রতিযোগিতার কথা জানলেই সেখানে অংশ নিই। ভালোই লাগে ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে। শখ করে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু এই মাছ ধরার উৎসবে অংশ নিয়েছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার মনুয়া থেকে আসা আলামিন মল্লিক বলেন, আমি দোকানদারি করি। ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরার স্থান বা সুযোগ নেই। তাই সংবাদ পেয়ে নির্ধারিত ফি জমাদিয়ে এ উৎসবে অংশ নিয়েছি। মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগে। তাই এই প্রথম এই দীর্ঘিতে মাছ ধরতে এসেছি।
কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান বাচ্চু বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ আমাদের কনেশ্বর ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন ধরে ফোরকার পার দীর্ঘিতে বাংলা নববর্ষ বৈশাখ মাসের সপ্তম দিনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের চাহিদা মতো সম্ভব সকল সহায়তা দিয়ে থাকি।
ডামুড্যা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হাসিবুল হক বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে মাছের পোনা অবমুক্তসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য এই বাউত উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে খাল বিল ও জলাশয় খনন করে মাছের প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ডামুড্যায় ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসব, হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ

আপডেট সময় : ১২:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
একটি বাঁশির শব্দ, একযোগে শত শত জালের ঝুপ আওয়াজ। শুরু হয়ে গেল ঝাঁকি জালদিয়ে দিনব্যাপি মাছ ধরা উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় শরীয়তপুর জেলার, ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ফোরকার পাড় দিঘীতে অনুষ্ঠিত হয় দিন ব্যাপি মাছ ধরার এ উৎসব। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৮ থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে এ উৎসব।
এ আয়োজনে, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার শত শত সৌখিন মৎস্য শিকারী ও পেশাদার জেলে এ উৎসবে অংশ গ্রহন করে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে আরো বর্নিল ও বর্নাঢ্য করতে নানা উদ্যোগ  নিয়েছে আয়োজক কমিটি ও দিঘীর মালিকগন।
কারো হাতে ডুলা কারও হাতে জাল। মাছ ধরার নানা উপকরণ হাতে শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী পুরুষ সবাই সামিল হয়েছে মাছ ধরার উৎসব।
আয়োজক কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন মিবু জানান প্রতি বছর বৈশাখ মাসে এই মাছ ধরা উৎসব পালিত হয়ে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার লোক আসেন মাছ ধরতে। সেই সাথে হাজার হাজর দর্শক সমবেত হয় এই উৎসবে। পাশের উপজেলা গোসাইরহাট উপজেলা থেকে আসা মৎস্য শিকারি জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রতিযোগিতার কথা জানলেই সেখানে অংশ নিই। ভালোই লাগে ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে। শখ করে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু এই মাছ ধরার উৎসবে অংশ নিয়েছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার মনুয়া থেকে আসা আলামিন মল্লিক বলেন, আমি দোকানদারি করি। ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরার স্থান বা সুযোগ নেই। তাই সংবাদ পেয়ে নির্ধারিত ফি জমাদিয়ে এ উৎসবে অংশ নিয়েছি। মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগে। তাই এই প্রথম এই দীর্ঘিতে মাছ ধরতে এসেছি।
কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান বাচ্চু বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ আমাদের কনেশ্বর ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন ধরে ফোরকার পার দীর্ঘিতে বাংলা নববর্ষ বৈশাখ মাসের সপ্তম দিনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের চাহিদা মতো সম্ভব সকল সহায়তা দিয়ে থাকি।
ডামুড্যা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হাসিবুল হক বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে মাছের পোনা অবমুক্তসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য এই বাউত উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে খাল বিল ও জলাশয় খনন করে মাছের প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।
বাখ//আর