ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

টাঙ্গাইলে কলা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা :

টাঙ্গাইল জেলার পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটি কলা চাষের জন্য উপযোগী  ও লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে কলা চাষে ঝুঁকছে কৃষকেরা।  টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি মাটি কলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কলা চাষে কৃষকদের  আগ্রহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক কলা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবানও হয়েছেন।

কৃষকেরা জানায়, ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম ও অর্থ তুলনামূরক কম ব্যয় করতে হয়। বিক্রির ক্ষেত্রেও ঝামেলা নেই। কলার বাজার দরে সহজে ধ্বস নামে না। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় সারা বছরেই কলার চাষ করা যায়।

জেলার মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদনের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কলার পাইকারী বাজার মধুপুরের জলছত্র, গারোবাজার এবং সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার কলার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া আরও বেশকয়েক জায়গায় কলা বিক্রি করা হলেও তা সীমিত। এ তিনটি হাট থেকে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলে ২০-৩০ ট্রাক ভর্তি কলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মধুপুরের জলছত্র সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী কলার হাট হয়। এই দুই হাটেই কোটি টাকার ওপরে কলা বিক্রি হয়। একই চিত্র সখীপুরের কুতুবপুর এবং মধুপুরের গারোবাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব বাজার বা হাটে পাইকাররা কলা কিনতে আসেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলে বারিকলা-১ ও বারিকলা-২ (আনাজিকলা), অমৃতসাগর, মন্দিরা, মন্দিরা সাগর, সবরি, চম্পা, চিনিচাম্পা, কবরি, মেহেরসাগর, বীচিকলা ইত্যাদি জাতের কলা চাষ হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫০ থেকে ৩৮০টি কলাগাছ রোপণ করা হয়। একটি কলা গাছে রোপণ থেকে বাজার জাত পর্যন্ত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। প্রতিটি কলার ছড়ি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এ হিসেবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা কৃষকরা লাভের মুখ দেখেন।

সূত্র জানায়, কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি রয়েছে। পাকা কলা মানব দেহে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কলার থোড় বা মোচা ডায়াবেটিস, আমাশয়, আলসার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা চাষ হচ্ছে মধুপুরে। মহিষমারা, শোলাকুড়ী, বেরীবাইদ, অরণখোলা, কুড়াগাছা, কাকরাইদ, ভবানীটেকী, গরমবাজার, কাউচি বাজারসহ মধুপুরের বিভিন্ন গ্রামেই দুই হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হচ্ছে। এ বছর ঘাটাইল উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। সন্ধানপুর, সংগ্রামপুর, রসুলপুর, লক্ষিন্দর, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কলার আবাদ করা হয়েছে। এসব এলাকার কলার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এর প্রভাব কলা চাষিদের মাঝেও পড়েছে। এ বছর উৎপাদিত কলা আগের বছরের চেয়ে কৃষকরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন রাসেল জানান, এ বছর মধুপুর উপজেলায় কলা চাষ কিছুটা কম হয়েছে। কারণ একই জমিতে বারবার কলা চাষ করলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। সেই সাথে পানামা পোকার আক্রমণে কলা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরও এবার মধুপুর উপজেলায় দুই হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাসার জানান, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় চার হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় কলা চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন।

বা/খ : এসআর।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে কলা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা :

টাঙ্গাইল জেলার পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটি কলা চাষের জন্য উপযোগী  ও লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে কলা চাষে ঝুঁকছে কৃষকেরা।  টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি মাটি কলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কলা চাষে কৃষকদের  আগ্রহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক কলা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবানও হয়েছেন।

কৃষকেরা জানায়, ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম ও অর্থ তুলনামূরক কম ব্যয় করতে হয়। বিক্রির ক্ষেত্রেও ঝামেলা নেই। কলার বাজার দরে সহজে ধ্বস নামে না। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় সারা বছরেই কলার চাষ করা যায়।

জেলার মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদনের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কলার পাইকারী বাজার মধুপুরের জলছত্র, গারোবাজার এবং সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার কলার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া আরও বেশকয়েক জায়গায় কলা বিক্রি করা হলেও তা সীমিত। এ তিনটি হাট থেকে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলে ২০-৩০ ট্রাক ভর্তি কলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মধুপুরের জলছত্র সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী কলার হাট হয়। এই দুই হাটেই কোটি টাকার ওপরে কলা বিক্রি হয়। একই চিত্র সখীপুরের কুতুবপুর এবং মধুপুরের গারোবাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব বাজার বা হাটে পাইকাররা কলা কিনতে আসেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলে বারিকলা-১ ও বারিকলা-২ (আনাজিকলা), অমৃতসাগর, মন্দিরা, মন্দিরা সাগর, সবরি, চম্পা, চিনিচাম্পা, কবরি, মেহেরসাগর, বীচিকলা ইত্যাদি জাতের কলা চাষ হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫০ থেকে ৩৮০টি কলাগাছ রোপণ করা হয়। একটি কলা গাছে রোপণ থেকে বাজার জাত পর্যন্ত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। প্রতিটি কলার ছড়ি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এ হিসেবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা কৃষকরা লাভের মুখ দেখেন।

সূত্র জানায়, কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি রয়েছে। পাকা কলা মানব দেহে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কলার থোড় বা মোচা ডায়াবেটিস, আমাশয়, আলসার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা চাষ হচ্ছে মধুপুরে। মহিষমারা, শোলাকুড়ী, বেরীবাইদ, অরণখোলা, কুড়াগাছা, কাকরাইদ, ভবানীটেকী, গরমবাজার, কাউচি বাজারসহ মধুপুরের বিভিন্ন গ্রামেই দুই হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হচ্ছে। এ বছর ঘাটাইল উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। সন্ধানপুর, সংগ্রামপুর, রসুলপুর, লক্ষিন্দর, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কলার আবাদ করা হয়েছে। এসব এলাকার কলার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এর প্রভাব কলা চাষিদের মাঝেও পড়েছে। এ বছর উৎপাদিত কলা আগের বছরের চেয়ে কৃষকরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন রাসেল জানান, এ বছর মধুপুর উপজেলায় কলা চাষ কিছুটা কম হয়েছে। কারণ একই জমিতে বারবার কলা চাষ করলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। সেই সাথে পানামা পোকার আক্রমণে কলা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরও এবার মধুপুর উপজেলায় দুই হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাসার জানান, চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় চার হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় কলা চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন।

বা/খ : এসআর।