ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়া পৌর সুপার মার্কেটটি ধসে পড়ার শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদক :

পাবনার বেড়া বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ পৌর সুপার মার্কেটে জীবনের ঝুকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। যেকোন সময় ভবনটি ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। ২০১৩ সালে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কোন এক রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের আবারও নোটিশ সেঁটে দিয়েছে। এদিকে পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৮৩ সালে বেড়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র (মরহুম) এস এস আমির আলী এক নং খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গা অবৈধভাবে পৌরসভার দখলে নিয়ে এক তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ করেন। ওই সময় বিল্ডিং নির্মাণে নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সকাল-বিকাল অস্থায়ী দোকান পেতে ব্যবসা করতেন। তাদের পূনবাসনের আশ্বাস দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কোথাও পূনবাসন বা দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে আব্দুল বাতেন বেড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত। তিনি ১৯৯২ সালে একতলা ফাউন্ডেশনের উপর আরও দুই তলা নির্মাণ করেন। দোতলাতে দোকান এবং তিন তলাতে অডিটরিয়ামসহ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। এই ভবনের একতলা ও দোতলায় মোট ৫০জন ব্যবসায়ী ব্যবসা করছে। কিন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা ও খোয়া খসে পড়ছে। এ অবস্থায় ২০১৩ সালে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তবে কোন এক অজ্ঞাত কারণে এটি ভেঙ্গে ফেলা হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি পূনরায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দেয়ালে উচ্ছেদ নোটিশ সেটে দিয়েছে।
পৌর সুপার মার্কেটের পশ্চিম-উত্তর কর্ণারের ১৭ নম্বর দোকানের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান দড়ি-রশি, সুতা, লোহা-লক্কর সাজিয়ে বসে আছেন। ঠিক তার মাথার ওপরে ছাদের কিছু অংশের ভরি সিমেন্ট পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে সে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। পাশের দেয়ালটিও কিছুটা স্যাঁতসেঁতে। মনিরুজ্জামান বলেন, এই দোকান থেকেই তাঁর সংসার চলে, অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এখানেই ব্যবসা করছি। মার্কেটে প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে।

পৌর সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রড বেরিয়ে গেছে। যেকোন সময় ভেঙে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তাদের। কাসা-পিতলের ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন মোল্লা বলেন, যখন ছাদের দিকে তাকাই ভয়ে আঁতকে উঠি, সব সময় ভয়ের মধ্যে থেকে ব্যবসা করতে হচ্ছে। উচ্ছেদেও বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে একবার নোটিশ দিয়েছিল। সম্প্রতি আবারও নোটিশ দিয়ে দোকান ঘর ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছে।

পৌর মার্কেটের ১৬ নম্বর রুমে চাল-ডাল, মসলার ব্যবসা করেন লিটন চেীধুরী। তিনি বলেন, এখন ভবনের অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে দিন পার হচ্ছে। আমাদের অন্য কোথাও পূনবাসন করে এটা ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি নামলে ছাদ চঁইয়ে পানি পড়ে। এর মধ্যেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। যাওয়ার তো জায়গা নাই। তাই বাধ্য হয়ে ভয়ে কষ্ট করে ব্যবসা করছি। কথা হয় জামাল নামের এক দোকান মালিকের সাথে। তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে পড়ছে। ভয় নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। কিন্তু অন্য কোথাও দোকান করার জায়গা নেই, তাই এখানে পড়ে আছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনের বেশ কয়েকটি পিলার ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। আবার ভবনের বিভিন্ন অংশে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। এরই মাঝে ব্যবসা করছে ৫০ জন ব্যবসায়ী। এ ছাড়া ওই মার্কেটের বেশ কয়েকজন দোকামালিক জানালেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও সেখানে ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, এখানকার ব্যবসায়ীদেও অন্য কোথাও দোকান করার ব্যবস্থা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।

পৌর সুপার মার্কেট লাগোয়া দক্ষিণ পাশের মোল্লা সুপার মার্কেট এর সবুজ মোল্লা, লিটন মোল্লা আব্দুল জলিল সুপার মার্কেটের ওয়াহিদ জামান, হাজী সুপার মার্কেটের আবুল বাসার, হাকিম ও দক্ষিণ পাশের রেজাউল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইমরান হোসেন, লিটন হোসেনসহ অনেক ব্যবসাী জানান, পৌর মার্কেটটি এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে মাঝারিমাত্রার কালবৈশাখী ঝড়ে ভবনটি ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ওই ব্যবসায়ীরা খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গায় নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে অবৈধ দখলমুক্তর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেড়া পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোঃ হারুন-আর-রশিদ জানান, ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১০ বছর আগেই চিহ্নিত হয়েছিল। সে সময়ও তাদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। তবে মানুষের জানমালের ক্ষতি এড়াতে বর্তমান মেয়র এস এস আসিফ সামস রঞ্জন পরিষদের সাথে আলোচনা করে পৌর মার্কেটটি ভেঙে ফেলার চুড়ান্ত সিদ্ধান নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাসিক ভাড়া স্থগিত করা হয়েছে। তিন তলায় অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে যাওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ সবুর আলী বলেন, মার্কেটটি খাস খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তির ওপর নির্মিত এটি তিনি জানতেন না। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

 

বা/খ: জই

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়া পৌর সুপার মার্কেটটি ধসে পড়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদক :

পাবনার বেড়া বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ পৌর সুপার মার্কেটে জীবনের ঝুকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। যেকোন সময় ভবনটি ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। ২০১৩ সালে ভবনটি ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কোন এক রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের আবারও নোটিশ সেঁটে দিয়েছে। এদিকে পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৮৩ সালে বেড়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র (মরহুম) এস এস আমির আলী এক নং খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গা অবৈধভাবে পৌরসভার দখলে নিয়ে এক তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ করেন। ওই সময় বিল্ডিং নির্মাণে নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সকাল-বিকাল অস্থায়ী দোকান পেতে ব্যবসা করতেন। তাদের পূনবাসনের আশ্বাস দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কোথাও পূনবাসন বা দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে আব্দুল বাতেন বেড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত। তিনি ১৯৯২ সালে একতলা ফাউন্ডেশনের উপর আরও দুই তলা নির্মাণ করেন। দোতলাতে দোকান এবং তিন তলাতে অডিটরিয়ামসহ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। এই ভবনের একতলা ও দোতলায় মোট ৫০জন ব্যবসায়ী ব্যবসা করছে। কিন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা ও খোয়া খসে পড়ছে। এ অবস্থায় ২০১৩ সালে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তবে কোন এক অজ্ঞাত কারণে এটি ভেঙ্গে ফেলা হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি পূনরায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দেয়ালে উচ্ছেদ নোটিশ সেটে দিয়েছে।
পৌর সুপার মার্কেটের পশ্চিম-উত্তর কর্ণারের ১৭ নম্বর দোকানের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান দড়ি-রশি, সুতা, লোহা-লক্কর সাজিয়ে বসে আছেন। ঠিক তার মাথার ওপরে ছাদের কিছু অংশের ভরি সিমেন্ট পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে সে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। পাশের দেয়ালটিও কিছুটা স্যাঁতসেঁতে। মনিরুজ্জামান বলেন, এই দোকান থেকেই তাঁর সংসার চলে, অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এখানেই ব্যবসা করছি। মার্কেটে প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে।

পৌর সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রড বেরিয়ে গেছে। যেকোন সময় ভেঙে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তাদের। কাসা-পিতলের ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন মোল্লা বলেন, যখন ছাদের দিকে তাকাই ভয়ে আঁতকে উঠি, সব সময় ভয়ের মধ্যে থেকে ব্যবসা করতে হচ্ছে। উচ্ছেদেও বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে একবার নোটিশ দিয়েছিল। সম্প্রতি আবারও নোটিশ দিয়ে দোকান ঘর ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছে।

পৌর মার্কেটের ১৬ নম্বর রুমে চাল-ডাল, মসলার ব্যবসা করেন লিটন চেীধুরী। তিনি বলেন, এখন ভবনের অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে দিন পার হচ্ছে। আমাদের অন্য কোথাও পূনবাসন করে এটা ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি নামলে ছাদ চঁইয়ে পানি পড়ে। এর মধ্যেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। যাওয়ার তো জায়গা নাই। তাই বাধ্য হয়ে ভয়ে কষ্ট করে ব্যবসা করছি। কথা হয় জামাল নামের এক দোকান মালিকের সাথে। তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে পড়ছে। ভয় নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। কিন্তু অন্য কোথাও দোকান করার জায়গা নেই, তাই এখানে পড়ে আছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনের বেশ কয়েকটি পিলার ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। আবার ভবনের বিভিন্ন অংশে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। এরই মাঝে ব্যবসা করছে ৫০ জন ব্যবসায়ী। এ ছাড়া ওই মার্কেটের বেশ কয়েকজন দোকামালিক জানালেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও সেখানে ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, এখানকার ব্যবসায়ীদেও অন্য কোথাও দোকান করার ব্যবস্থা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।

পৌর সুপার মার্কেট লাগোয়া দক্ষিণ পাশের মোল্লা সুপার মার্কেট এর সবুজ মোল্লা, লিটন মোল্লা আব্দুল জলিল সুপার মার্কেটের ওয়াহিদ জামান, হাজী সুপার মার্কেটের আবুল বাসার, হাকিম ও দক্ষিণ পাশের রেজাউল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইমরান হোসেন, লিটন হোসেনসহ অনেক ব্যবসাী জানান, পৌর মার্কেটটি এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে মাঝারিমাত্রার কালবৈশাখী ঝড়ে ভবনটি ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ওই ব্যবসায়ীরা খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গায় নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে অবৈধ দখলমুক্তর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেড়া পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোঃ হারুন-আর-রশিদ জানান, ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১০ বছর আগেই চিহ্নিত হয়েছিল। সে সময়ও তাদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। তবে মানুষের জানমালের ক্ষতি এড়াতে বর্তমান মেয়র এস এস আসিফ সামস রঞ্জন পরিষদের সাথে আলোচনা করে পৌর মার্কেটটি ভেঙে ফেলার চুড়ান্ত সিদ্ধান নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাসিক ভাড়া স্থগিত করা হয়েছে। তিন তলায় অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে যাওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ সবুর আলী বলেন, মার্কেটটি খাস খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তির ওপর নির্মিত এটি তিনি জানতেন না। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

 

বা/খ: জই