ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জেলের তালা ভেঙে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে : দুদু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সসম্মানে মুক্তি না দিলে জেলের তালা ভেঙে মুক্ত করা হবে।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ উথ ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমান ও জোবাইদার রহমানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারা নিজের স্বার্থে সবকিছুকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করছে উল্লেখ করে দুদু বলেন, একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও অপরাজিত নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে এতটা কোণঠাসা করেছে সরকার, যে মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারাবরণ করে রাখা হয়েছে, যা স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে বেশি টালবাহানা করলে ঢাকায় ৭ দিন ধরে সমাবেশ হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, ঢাকাজুড়ে সমাবেশ হবে কয়েক দিন।

তিনি আরো বলেন, আগামী দিন বিএনপির। বেগম খালেদা জিয়ার কর্মীদের দিন। তারেক রহমানের কর্মীদের দিন। স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মীদের দিন।

দুদু বলেন, ইলিয়াসসহ যাদেরকেই গুম করা হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ না মানায় যেসব পুলিশের চাকরি যাবে, ক্ষমতায় আসলে তাদের পুনরায় চাকরি দেয়ার পাশাপাশি মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুদু আরো বলেন, ফয়সালা ১০ তারিখে হতে পারে, আগেও হতে পারে। গণ-অভ্যুত্থান যে হবে, এটা নিশ্চিত থাকেন। বর্তমান দেশে যে আলামত ও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, এতে এক মুহূর্ত ভাবার উপায় নেই যে এ সরকার টিকবে। আলামতে বুঝে গেছে তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটা শাসনব্যবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যা গত ৫১ বছরে দেখিনি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, আদর্শহীন রাজনীতিবিদ, এদের যে দাপট, এ এক অভাবনীয় ঘটনা। সরকার-আশ্রিত কিছু সাংবাদিক, তারা সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বানাচ্ছে।
বিএনপির কর্মীরা এখন আর ভয় পায় না জানিয়ে দুদু বলেন, একটা বিষয় ফয়সালা হয়েছে, বিএনপির কর্মীরা এখন আর ভয় পায় না। গত ছয়টা সমাবেশে তা প্রমাণিত হয়েছে।  শনিবার (১৯ নভেম্বর) সিলেটের সমাবেশে জনসমুদ্র হবে। ঢাকায় জনসমাবেশ করতে আমরা নির্দিষ্ট একটা জায়গা চেয়েছি, দিলে ভালো। আর তালবাহানা করে কোনও লাভ নাই। সারা ঢাকা শহরে মানুষ দিয়ে সয়লাব হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় তখন সমাবেশ হবে না। সারা ঢাকা শহরেই তিন-চার দিন ধরে সমাবেশ হবে।

গোপালগঞ্জ থেকেও তারেক রহমান জিতবেন উল্লেখ করে ভাইস চেয়ারম্যান দুদু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান খুব সাধারণ জীবন যাপন করে। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেত্রী বিরোধী দলে থাকা অবস্থা থেকেই আমাদের নেতার বিরুদ্ধে এমন কোনও অপপ্রচার নেই যে তিনি করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, জাতীয় সরকারের অধীনেই হোক আর নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হোক, যদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে শেখ হাসিনা না থাকে আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার ধারণা গোপালগঞ্জ থেকেও তারেক

রহমান জিতবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ প্রশাসনে যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাকরিচ্যুত হবে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের শুধু চাকরি ফেরত দেওয়া হবে না, যথাযথ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। আর যারা আমাদের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করছে, মামলা দিচ্ছে, জেলখানায় নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১০ লাখ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। ইলিয়াস আলীকে ফেরত দিতে হবে। যাদের গুম-খুন করেছেন, তাদের ফেরত দিতে হবে। যা খুশি তা-ই করবেন আর এ দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে? কখনোই না। প্রশ্নই ওঠে না।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা এম নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, জীনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

জেলের তালা ভেঙে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে : দুদু

আপডেট সময় : ০৪:২২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সসম্মানে মুক্তি না দিলে জেলের তালা ভেঙে মুক্ত করা হবে।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ উথ ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমান ও জোবাইদার রহমানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারা নিজের স্বার্থে সবকিছুকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করছে উল্লেখ করে দুদু বলেন, একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও অপরাজিত নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে এতটা কোণঠাসা করেছে সরকার, যে মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারাবরণ করে রাখা হয়েছে, যা স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে বেশি টালবাহানা করলে ঢাকায় ৭ দিন ধরে সমাবেশ হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, ঢাকাজুড়ে সমাবেশ হবে কয়েক দিন।

তিনি আরো বলেন, আগামী দিন বিএনপির। বেগম খালেদা জিয়ার কর্মীদের দিন। তারেক রহমানের কর্মীদের দিন। স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মীদের দিন।

দুদু বলেন, ইলিয়াসসহ যাদেরকেই গুম করা হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ না মানায় যেসব পুলিশের চাকরি যাবে, ক্ষমতায় আসলে তাদের পুনরায় চাকরি দেয়ার পাশাপাশি মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুদু আরো বলেন, ফয়সালা ১০ তারিখে হতে পারে, আগেও হতে পারে। গণ-অভ্যুত্থান যে হবে, এটা নিশ্চিত থাকেন। বর্তমান দেশে যে আলামত ও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, এতে এক মুহূর্ত ভাবার উপায় নেই যে এ সরকার টিকবে। আলামতে বুঝে গেছে তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটা শাসনব্যবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যা গত ৫১ বছরে দেখিনি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, আদর্শহীন রাজনীতিবিদ, এদের যে দাপট, এ এক অভাবনীয় ঘটনা। সরকার-আশ্রিত কিছু সাংবাদিক, তারা সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বানাচ্ছে।
বিএনপির কর্মীরা এখন আর ভয় পায় না জানিয়ে দুদু বলেন, একটা বিষয় ফয়সালা হয়েছে, বিএনপির কর্মীরা এখন আর ভয় পায় না। গত ছয়টা সমাবেশে তা প্রমাণিত হয়েছে।  শনিবার (১৯ নভেম্বর) সিলেটের সমাবেশে জনসমুদ্র হবে। ঢাকায় জনসমাবেশ করতে আমরা নির্দিষ্ট একটা জায়গা চেয়েছি, দিলে ভালো। আর তালবাহানা করে কোনও লাভ নাই। সারা ঢাকা শহরে মানুষ দিয়ে সয়লাব হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় তখন সমাবেশ হবে না। সারা ঢাকা শহরেই তিন-চার দিন ধরে সমাবেশ হবে।

গোপালগঞ্জ থেকেও তারেক রহমান জিতবেন উল্লেখ করে ভাইস চেয়ারম্যান দুদু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান খুব সাধারণ জীবন যাপন করে। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেত্রী বিরোধী দলে থাকা অবস্থা থেকেই আমাদের নেতার বিরুদ্ধে এমন কোনও অপপ্রচার নেই যে তিনি করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, জাতীয় সরকারের অধীনেই হোক আর নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হোক, যদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে শেখ হাসিনা না থাকে আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার ধারণা গোপালগঞ্জ থেকেও তারেক

রহমান জিতবেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ প্রশাসনে যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাকরিচ্যুত হবে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের শুধু চাকরি ফেরত দেওয়া হবে না, যথাযথ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। আর যারা আমাদের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করছে, মামলা দিচ্ছে, জেলখানায় নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১০ লাখ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। ইলিয়াস আলীকে ফেরত দিতে হবে। যাদের গুম-খুন করেছেন, তাদের ফেরত দিতে হবে। যা খুশি তা-ই করবেন আর এ দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে? কখনোই না। প্রশ্নই ওঠে না।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা এম নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, জীনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।