বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৬ দিনে ৭৪৫ কোটি ছাড়িয়েছে ‘পাঠান’ পুলের ধারে বসে চুরুট ধরালেন সুস্মিতা দেশে চার হাজার ৬৩৩টি ইটভাটা অবৈধ: সংসদে পরিবেশমন্ত্রী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী চার্লসের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়ে কুমিল্লার জয় মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি : মেয়র আতিক দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে : রাষ্ট্রপতি আকাশে কেবিন ক্রুকে নারী যাত্রীর থাপ্পড় সাহস থাকলে দেশে আসুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পকেটে আহলে হাদিসের দুই কোটি ভোট : সংসদে এমপি রহমতুল্লাহ প্ররোচনায় পড়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারামুক্ত যুবদল নেতা নয়ন ‘ভারতীয় ছবি রিলিজের পক্ষে সবাই থাকলেও আমি নেই’-রাউজানে অভিনেতা রুবেল ইসলামপুরে দৈনিক গণমুক্তি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত অবসরে গেলেন সকলের প্রিয় ফজলু স্যার

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, বিদ্যুৎ সঙ্কটে পাকিস্তান

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, বিদ্যুৎ সঙ্কটে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। আর এর মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে দেশজুড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মানুষ। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি হ্রাস পাওয়ার পরে সোমবার সকালে পাকিস্তানজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি সিস্টেম সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ডাউন হয়ে গেলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক বিভ্রাট দেখা দেয়। টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয়টি আরও জানিয়েছে, ‘সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ফলে পরিস্থিতি এতোটাই ব্যাপক যে, ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি লাহোর ও করাচির মতো বড় শহরসহ দেশের বিশাল অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে।

পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ভুগছে ইসলামাবাদ-করাচি

এদিকে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী খুররম দস্তগীর বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে ‘বড় ধরনের কিছু নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, শীতকালে, দেশব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং অর্থনৈতিক পরিমাপ হিসাবে, আমরা রাতে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিই।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তবে, আজ সকালে যখন সিস্টেমগুলো চালু করা হয় তখন দেশের দক্ষিণে দাদু এবং জামশোরের মধ্যে কোথাও কম্পাঙ্কের তারতম্য এবং ভোল্টেজের ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়।

দস্তগীর আরও বলেন, পেশোয়ার এবং ইসলামাবাদে গ্রিড স্টেশন পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে। ভোল্টেজের উঠানামা ছিল এবং সিস্টেমগুলো একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনও বড় সঙ্কট নয়।

এদিকে এক টুইট বার্তায় কে-ইলেক্ট্রিকের মুখপাত্র ইমরান রানা নিশ্চিত করেছেন, দেশব্যাপী ব্রেকডাউনের ফলে করাচিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, কেই টিম পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এদিকে কোয়েটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির মুখপাত্র মুহাম্মদ আফজাল ডন ডটকমকে বলেছেন, প্রদেশের তিনটি সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা গেছে। এর ফলে বেলুচিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।

ত্রুটি দেখা দেওয়া তিনটি সঞ্চালন লাইন হচ্ছে — ২২০কেভি উচ-সিব্বি, ২২০কেভি দাদু-খুজদার এবং ২২০কেভি ডেরা মুরাদ জামালি।

ডন বলছে, বেলুচিস্তানের ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাজধানী কোয়েটা, পিশিন, কিল্লা আবদুল্লাহ, চমন, লোরালাই ঝাব, কিল্লা সাইফুল্লাহ, মাস্তুং, সিব্বি, জিয়ারাত, কালাত এবং খুজদার।

মুহাম্মদ আফজাল আরও বলেছেন, ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডেসপ্যাচ কোম্পানির (এনটিডিসি) মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে রাজধানী ইসলামাবাদে ব্রেকডাউনের প্রভাব প্রায় ১১৭টি গ্রিড স্টেশনের ওপর পড়েছে বলে ইসলামাবাদ ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিড হচ্ছে সারা দেশে বিদ্যুতের একটি সঞ্চালন ব্যবস্থা। প্রকৌশলীরা এটিকে অনেকটা মহাসড়ক বা রেললাইনের সঙ্গে তুলনা করেন। এ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে নিয়ে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *