ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

কাজী মকবুল, গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তঃকলেজ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৩’ এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ডরমিটরি ভবনে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠানে ৩২টি ইভেন্টে সারাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১৩৩৯টি কলেজের ২৪ হাজার ৯৩৮জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৭২টি কলেজের ৪১৩ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে। মোট ৭৫টি ভেন্যুতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, শটপুট নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ভলিবল, বাস্কেটবল, সাঁতার ফ্রি স্টাইল, সাঁতার ব্রেস্টস্টোক, কাবাডি, হ্যান্ডবল, হকি, ব্যাডমিন্টন একক, ব্যাডমিন্টন দ্বৈত, টেবিল টেনিস একক, টেবিল টেনিস দ্বৈত, ক্যারম একক, ক্যারম দ্বৈত, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, একক অভিনয়, একক নৃত্য, দেশাত্ব বোধক গান, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, লোকগীতি, সৃজনশীল দলীয় নৃত্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ ৩২টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘সুপরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশ আজ উন্নয়নের শিখরে অবস্থান করছে। এর ধারাবাহিকতা বজায়ে রাখলে আমাদের উন্নয়নের যে রূপকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো অর্জন করতে সক্ষম হব। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। আমরা উন্নয়নের সকল সূচকে অনেক এগিয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায়ে থাকলে এবং গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কররতে পারলে আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে প্রবেশ করতে পারব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গুণগত শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শামসুল আলম বলেন, ‘গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে আমাদের কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের এক্ষেত্রে অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নিয়মিত করতে হবে। অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে আগামী দিনে উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আত্মমর্যাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিতে হবে। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. হারুন-অর-রশিদ, তিনি বলেন মহান বিজয়ের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্ম এবং নেতৃত্ব না হলে আজ এই বাংলাদেশ সৃষ্টি হত না। যেকারণে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় একই সূত্রে গাথা। আর সেই বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তবে আমি মনে করি, যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে তাদের ঠিকানা পাকিস্তান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের প্রথিতযশা সমাজবিজ্ঞানী ড. মশিউর রহমান বলেন,  ‘তোমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে থাকবে। আমি জানি, তোমরা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাও।
একইসঙ্গে তোমরা পড়াশোনা করো, বাবা-মা, ভাই-বোনকে দেখ। এজন্য তোমাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে তোমরা অবশ্যই নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করবে। কারণ এই প্রিয় দেশমাতৃকা আমাদের নিজেদের হাতে গড়ে তুলতে হবে। সযত্নে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রসমূহের নাগরিকরা যেমন তথ্য অবগাহন করে। একই তথ্য তুমি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাদে অবগাহন করতে পার। স্মার্ট সিটিজেন শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বের নাগরিক হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর উৎকর্ষতায় নিজ হাতে প্রিয় দেশমাতৃকা গড়ার শপথ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজামউদ্দিন আহমেদ। ধন্যবাদ জানান ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল সালাম হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন।
উল্লেখ্য, ‘আন্তঃকলেজ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৩’ ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ  থেকে শুরু হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে বিজয়ীরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

আপডেট সময় : ০৬:০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তঃকলেজ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৩’ এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ডরমিটরি ভবনে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠানে ৩২টি ইভেন্টে সারাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১৩৩৯টি কলেজের ২৪ হাজার ৯৩৮জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৭২টি কলেজের ৪১৩ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে। মোট ৭৫টি ভেন্যুতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, শটপুট নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ভলিবল, বাস্কেটবল, সাঁতার ফ্রি স্টাইল, সাঁতার ব্রেস্টস্টোক, কাবাডি, হ্যান্ডবল, হকি, ব্যাডমিন্টন একক, ব্যাডমিন্টন দ্বৈত, টেবিল টেনিস একক, টেবিল টেনিস দ্বৈত, ক্যারম একক, ক্যারম দ্বৈত, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, একক অভিনয়, একক নৃত্য, দেশাত্ব বোধক গান, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, লোকগীতি, সৃজনশীল দলীয় নৃত্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ ৩২টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘সুপরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশ আজ উন্নয়নের শিখরে অবস্থান করছে। এর ধারাবাহিকতা বজায়ে রাখলে আমাদের উন্নয়নের যে রূপকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো অর্জন করতে সক্ষম হব। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। আমরা উন্নয়নের সকল সূচকে অনেক এগিয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায়ে থাকলে এবং গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কররতে পারলে আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নত দেশে প্রবেশ করতে পারব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গুণগত শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শামসুল আলম বলেন, ‘গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে আমাদের কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের এক্ষেত্রে অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নিয়মিত করতে হবে। অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে আগামী দিনে উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আত্মমর্যাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিতে হবে। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. হারুন-অর-রশিদ, তিনি বলেন মহান বিজয়ের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্ম এবং নেতৃত্ব না হলে আজ এই বাংলাদেশ সৃষ্টি হত না। যেকারণে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় একই সূত্রে গাথা। আর সেই বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তবে আমি মনে করি, যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে তাদের ঠিকানা পাকিস্তান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের প্রথিতযশা সমাজবিজ্ঞানী ড. মশিউর রহমান বলেন,  ‘তোমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে থাকবে। আমি জানি, তোমরা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাও।
একইসঙ্গে তোমরা পড়াশোনা করো, বাবা-মা, ভাই-বোনকে দেখ। এজন্য তোমাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে তোমরা অবশ্যই নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করবে। কারণ এই প্রিয় দেশমাতৃকা আমাদের নিজেদের হাতে গড়ে তুলতে হবে। সযত্নে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রসমূহের নাগরিকরা যেমন তথ্য অবগাহন করে। একই তথ্য তুমি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাদে অবগাহন করতে পার। স্মার্ট সিটিজেন শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বের নাগরিক হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর উৎকর্ষতায় নিজ হাতে প্রিয় দেশমাতৃকা গড়ার শপথ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজামউদ্দিন আহমেদ। ধন্যবাদ জানান ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল সালাম হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন।
উল্লেখ্য, ‘আন্তঃকলেজ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৩’ ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ  থেকে শুরু হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে বিজয়ীরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
বাখ//আর