ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন রোমান সানা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একদিক থেকে বাংলাদেশে আর্চারির শেষ কথা রোমান সানা। অপ্রচলিত এই খেলাকে সবার নজরে এনেছেন এই আর্চার। সেই রোমান বাংলাদেশ জাতীয় দলে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!

এ ব্যাপারে ফেডারেশনকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন বৈশ্বিক কোনো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম কোনো পদকজয়ী রোমান সানা। আজ সংবাদমাধ্যম রোমান বলেছেন, ‘আর জাতীয় দলের হয়ে খেলব না। জাতীয় দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি লিখেছি। দুয়েক দিনের মধ্যেই চিঠিটা ফেডারেশনে জমা দিয়ে দেব।’

গত ২০-২৫ ফেব্রুয়ারি ইরাকে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া কাপ আর্চারির স্টেজ ওয়ান প্রতিযোগিতা। সেই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন রোমান।

গত কিছু দিন থেকেই রোমানের পারফরম্যান্সে আগের ঔজ্জ্বল্য নেই, সে সঙ্গে চোটও ঝামেলা পাকাচ্ছে। প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে গত বছর থাইল্যান্ডে ভালো করতে পারেননি। র বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) প্যারিস অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য আর্চারি থেকে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকায়ও নেই রোমানের নাম।

ফলে হতাশা ও অভিমান মিলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দেশসেরা আর্চার। আর সে থেকেই এমন সিদ্ধান্ত, ‘আর ভালো লাগছে না খেলতে। জানি বাংলাদেশকে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে। কিন্তু ইনজুরি আছে। তাছাড়া আর মানসিক চাপও নিতে পারছি না।’

সতীর্থের সঙ্গে বাজে আচরণের দায়ে ২০২২ সালে রোমানকে ২ বছরের জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব রকমের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পরে কমিয়ে আনে ফেডারেশন কর্মকর্তারা।

কিন্তু আগের সেই রোমান সানার দেখা মিলছে না। অবসরের সিদ্ধান্তে অভিমানের সুরটাই বেশি ২৮ বছর বয়সীর কণ্ঠে, ‘আমি নিজেও জানি আরও ১০ বছর খেলতে পারব। কিন্তু কীসের আশায় খেলব? ১৪ বছর জাতীয় দলে খেলে কী পেয়েছি? বাংলাদেশের ইতিহাসে আর্চারিতে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিলাম। কিন্তু কোথা থেকেও কিছু পেলাম না। এটা খুব দুঃখজনক।’

নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে ফেডারেশনকেই যেন দায় দিলেন রোমান, ‘আমি যত দিয়েছি ততোই ফেডারেশন থেকে ফ্যাসালিটিজ কমেছে। আমি না হয় ছোট মানুষ ভুল করতেই পারি। আপনারা আমার পিতার মতো। আমাকে বুকে টেনে নিতে পারতেন। এত চাপ আর আমি নিতে পারি না। আর এত বাধা বিপত্তির ভেতরে থাকতেও ইচ্ছা করে না।’

রোমানকে দিয়েই মূলত লাল সবুজের বাংলাদেশকে চিনেছে আর্চারি বিশ্ব। বৈশ্বিক আর্চারিতে বাংলাদেশের একমাত্র পদক এখনও রোমানের। ২০১৯ সালে বিশ্ব আর্চারিতে ব্রোঞ্জ জেতেন রোমান। প্রথম আর্চার হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করেন।

এছাড়া রোমান খেলেছেন ঢাকায় আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে। খেলেছেন জার্মানি, চীন, সুইজারল্যান্ডে বিশ্বকাপ, ব্যাংককে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ, নেদারল্যান্ডসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ ও বাংলাদেশে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে। ২০১৮ জাকার্ত এশিয়ান গেমস, ২০২২ কাঠমান্ডু-পোখারা এসএ গেমসেও অংশ নেন রোমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন রোমান সানা

আপডেট সময় : ০২:০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

একদিক থেকে বাংলাদেশে আর্চারির শেষ কথা রোমান সানা। অপ্রচলিত এই খেলাকে সবার নজরে এনেছেন এই আর্চার। সেই রোমান বাংলাদেশ জাতীয় দলে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!

এ ব্যাপারে ফেডারেশনকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন বৈশ্বিক কোনো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম কোনো পদকজয়ী রোমান সানা। আজ সংবাদমাধ্যম রোমান বলেছেন, ‘আর জাতীয় দলের হয়ে খেলব না। জাতীয় দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি লিখেছি। দুয়েক দিনের মধ্যেই চিঠিটা ফেডারেশনে জমা দিয়ে দেব।’

গত ২০-২৫ ফেব্রুয়ারি ইরাকে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া কাপ আর্চারির স্টেজ ওয়ান প্রতিযোগিতা। সেই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন রোমান।

গত কিছু দিন থেকেই রোমানের পারফরম্যান্সে আগের ঔজ্জ্বল্য নেই, সে সঙ্গে চোটও ঝামেলা পাকাচ্ছে। প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে গত বছর থাইল্যান্ডে ভালো করতে পারেননি। র বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) প্যারিস অলিম্পিকের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য আর্চারি থেকে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকায়ও নেই রোমানের নাম।

ফলে হতাশা ও অভিমান মিলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দেশসেরা আর্চার। আর সে থেকেই এমন সিদ্ধান্ত, ‘আর ভালো লাগছে না খেলতে। জানি বাংলাদেশকে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে। কিন্তু ইনজুরি আছে। তাছাড়া আর মানসিক চাপও নিতে পারছি না।’

সতীর্থের সঙ্গে বাজে আচরণের দায়ে ২০২২ সালে রোমানকে ২ বছরের জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব রকমের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পরে কমিয়ে আনে ফেডারেশন কর্মকর্তারা।

কিন্তু আগের সেই রোমান সানার দেখা মিলছে না। অবসরের সিদ্ধান্তে অভিমানের সুরটাই বেশি ২৮ বছর বয়সীর কণ্ঠে, ‘আমি নিজেও জানি আরও ১০ বছর খেলতে পারব। কিন্তু কীসের আশায় খেলব? ১৪ বছর জাতীয় দলে খেলে কী পেয়েছি? বাংলাদেশের ইতিহাসে আর্চারিতে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিলাম। কিন্তু কোথা থেকেও কিছু পেলাম না। এটা খুব দুঃখজনক।’

নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে ফেডারেশনকেই যেন দায় দিলেন রোমান, ‘আমি যত দিয়েছি ততোই ফেডারেশন থেকে ফ্যাসালিটিজ কমেছে। আমি না হয় ছোট মানুষ ভুল করতেই পারি। আপনারা আমার পিতার মতো। আমাকে বুকে টেনে নিতে পারতেন। এত চাপ আর আমি নিতে পারি না। আর এত বাধা বিপত্তির ভেতরে থাকতেও ইচ্ছা করে না।’

রোমানকে দিয়েই মূলত লাল সবুজের বাংলাদেশকে চিনেছে আর্চারি বিশ্ব। বৈশ্বিক আর্চারিতে বাংলাদেশের একমাত্র পদক এখনও রোমানের। ২০১৯ সালে বিশ্ব আর্চারিতে ব্রোঞ্জ জেতেন রোমান। প্রথম আর্চার হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করেন।

এছাড়া রোমান খেলেছেন ঢাকায় আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে। খেলেছেন জার্মানি, চীন, সুইজারল্যান্ডে বিশ্বকাপ, ব্যাংককে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ, নেদারল্যান্ডসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ ও বাংলাদেশে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে। ২০১৮ জাকার্ত এশিয়ান গেমস, ২০২২ কাঠমান্ডু-পোখারা এসএ গেমসেও অংশ নেন রোমান।