সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজস্থলীতে ইট বোঝাই ট্রাক উল্টে গেলেও বেঁচে গেলো চালক বকশীগঞ্জে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার উত্তরবঙ্গে কোনো জঙ্গি নাই : র‍্যাব মহাপরিচালক পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক প্রকল্প পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান মীরসরাইয়ে মসজিদের জন্য ২৮ শতক জমি দান করলেন শিক্ষক আবুল কালাম বেড়েই চলছে ইজিবাইক; প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পথচারীরা চিলমারীতে ইট ভাটায় অভিযান : ২লাখ টাকা জরিমানা পত্নীতলায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন ডিসি বিএনপি রিমোট কন্ট্রোল নেতৃত্বে চলছে : কাদের কলমাকান্দায় গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাঁথিয়ায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু : পরিবারের দাবি হত্যা খানসামায় অনুমোদনবিহীন সার তৈরি করায় জরিমানা কৈলাশ খেরকে বোতল ছুড়লেন দর্শকরা পিএসজিকে রুখে দিল রেইমস ঝিকরগাছায় মহিলাদের সদাইপাতির দোকান উদ্বোধন

জনগণই সরকারকে পরাজয়ের পথ দেখাবে : ফখরুল

জনগণই সরকারকে পরাজয়ের পথ দেখাবে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ আমাদের পথ দেখাবে, কোন পথে গেলে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারব। এটাই আমাদের মূলকথা।

রোববার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনার সভায় তিনি এ কথা বলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদের ৫৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে শহীদ আসাদ পরিষদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এই সরকার সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। আমাদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে আমরা আমাদের অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। আজকে সমস্ত দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, আরও ঐক্যবদ্ধ হব। জনগণ আমাদেরকে পথ দেখাবে, কোন পথে গেলে এই দানবকে পরাজিত করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল কথা।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি কল্যাণমূলক, একটি সমৃদ্ধি রাষ্ট্র গঠন করার জন্য, মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আজকে আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এদেরকে পরাজিত করতে হবে। আমরা জাতির স্বার্থে সংগ্রামে নেমেছি।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য, আরও বৃহৎ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এদের পরাজিত করতে হবে। আজ আমরা জাতির স্বার্থে সংগ্রামে নেমেছি। যেভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামে নেমেছি, অবশ্যই এ দেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে, ভয়াবহ দানবের হাত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হবো।

তিনি আরো বলেন, আজ সব দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, আরও ঐক্যবদ্ধ হব। জনগণ আমাদের পথ দেখাবে, কোন পথে গেলে এই দানবকে পরাজিত করতে পারব। এই হলো আমাদের মূল কথা। শুধু বিএনপি নয়, আজ সব রাজনৈতিক দল, আমরা যারা একমত হয়েছি, আমরা শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তন করতে চাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার আমাদের দুটি বিষয়কে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একটি রাজনৈতিক বিষয় আরেকটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। গরিবরা গরিব হচ্ছে, ধনীরা আরও বড়লোক হচ্ছে। আমরা দেখছি, যে মানুষটি ছেঁড়া জুতা পরে ঘুরতো সে আজকে দামি দামি গাড়িতে চড়ছে। এরা কিছুতেই যাবে না, অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, যার মাথা গোজার ঠাঁই ছিল না সে বিল্ডিং করেছে। এখান থেকে আমাদের বের হতেই হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা, সত্যিকার অর্থে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমরা জাতির স্বার্থে সংগ্রামে নেমেছি। অবশ্যই এ দেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থে কল্যাণমূলক সমৃদ্ধির বাংলাদেশ নির্মাণ করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, আজ দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এরা সবকিছুর জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছে। বলছে কোভিডের জন্য দাম বেড়েছে। আরে যে চুরিটা করেছে, সেই চুরিটা বন্ধ করলে তো কমানো যেত। গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাস যে চুরি করেছে, তা কমিয়ে আনলে তো দাম কমিয়ে আনা যেত।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে আশা করছেন আরও তীব্র গতিতে আন্দোলন চলবে। অবশ্যই হবে। আন্দোলনের একটা নির্দিষ্ট ধারা আছে, তার একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞান আছে, একটা নির্দিষ্ট কেমিস্ট্রি আছে। আমি বিশ্বাস করি, ইতোমধ্যে আমাদের গত কয়েক মাসের আন্দোলনে জনগণ জেগে উঠেছে।

সরকার আন্দোলন দমনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। একটা সেলের মধ্যে একজন থাকতে পারে, সেই সেলে ৯ জন রেখেছে। ৭ দিন ওই সেল থেকে বের হতে দেয়নি। এরকম নির্মম নির্যাতন অত্যাচার চালিয়েছে কারাগারে।

‘আমাদের গণতন্ত্র আমাদের মতো করে চলবে’, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র এখন তাদের হয়ে গেছে। কোন গণতন্ত্র সেই মুজিববাদের গণতন্ত্র, বাকশালের গণতন্ত্র, একদলীয় শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র। না এদেশে মানুষ তা হতে দেবে না।

শহীদ আসাদের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে প্রেক্ষাপটে শহীদ আসাদের আত্ম-উৎসর্গ, সেটা এই সময়ের সাথে অনেকটা মিল রয়েছে। আসাদ আমাদের কাছে প্রেরণা। আজকে সেই একইভাবে একটি ফ্যাসিবাদ আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে।

ফখরুল বলেন, বুদ্ধিজীবীরা কথা বলছেন না। আসাদের শার্ট তাদের কথা বলার সেই অবস্থা সৃষ্টি করেছিল। ঠিক তখনও আমাদের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী মধ্যবিত্ত পেশাজীবী মানুষ কথা বলতেন না। এখনও কিছু বুদ্ধিজীবী বলেন উন্নয়ন তো হচ্ছে।

শহীদ আসাদ পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. এ এম নুরুজ্জামান নূর প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *