ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

চৌহালীতে লোডশেডিংয়ে বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক, সেহরি ও ইফতারে অস্বস্তি

রোকনুজ্জামান (চৌহালী) সিরাজগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৫১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
গত কয়েক দিন ধরে যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সাড়ে ৩৬০০ হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে কৃষক আর সাহরি ও ইফতারে নেই বিদ্যুৎতের দেখা ।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছেন, চৌহালী উপজেলায় বিদ্যুৎ এর  গ্রাহক ১৫ থেকে ২০ হাজার। এ গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ২.৫০আর প্রয়োজন ৩.৭৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছেনা। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে অন্য এলাকায় দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এতে করে সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে পারছেন না কৃষকরা। তাই বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় তারা। এ সময়ে জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কুরকী গ্রামের কৃষক মতিন বলেন, বোরো ধান  আমাদের প্রধান হাতিয়ার। বর্তমানে ধানের ছড়া বাহির হওয়ার সময় হয়েছে। এ মুহূর্তে সব সময় জমিতে পানি রাখতে হবে। পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। পুরো দিনে ৩০ শতক জমি পানি দিতে পারি না। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।
জোতপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমেশ ব্যাপারী বলেন, জোতপাড়া বাজারে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এভাবে হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করি? দিন শেষে রাতে বাড়িতে গিয়ে এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়া। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের আদ্রতা বেড়েছে ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ বায়ুমন্ডলের আদ্রতার কারণে গরমে অতিষ্ঠতা দেখা দিয়েছে। এ সময় বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সামনে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সুত্রে, টাঙ্গাইল গ্রেড থেকে চৌহালী- নাগরপুর  বিদ্যুৎ আসে। আর ৩০ মেগাওয়াট আর পাচ্ছি ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এই দুর্ভোগ কমাতে। এ বিষয়ে চৌহালী  উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাজেদুর রহমান বলেন, এ সময় বোরো ধানের জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পল্লী বিদ্যুৎতের জিএম এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলবো যাতে রাতের বেলায় লোডশেডিং একটু কম করে। পাশাপাশি জমিতে নিয়মিত ছত্রাক নাশক ঔষধ ব্যবহর করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ এর (জিএম) শেখ মোহাম্মদ আলী বানী বলেন, সারাদেশে লোডশেডিং চলছে। চৌহালী উপজেলা তার ব্যতিক্রম নয়। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

চৌহালীতে লোডশেডিংয়ে বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক, সেহরি ও ইফতারে অস্বস্তি

আপডেট সময় : ০১:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪
গত কয়েক দিন ধরে যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সাড়ে ৩৬০০ হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে কৃষক আর সাহরি ও ইফতারে নেই বিদ্যুৎতের দেখা ।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছেন, চৌহালী উপজেলায় বিদ্যুৎ এর  গ্রাহক ১৫ থেকে ২০ হাজার। এ গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ২.৫০আর প্রয়োজন ৩.৭৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছেনা। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে অন্য এলাকায় দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এতে করে সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে পারছেন না কৃষকরা। তাই বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় তারা। এ সময়ে জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কুরকী গ্রামের কৃষক মতিন বলেন, বোরো ধান  আমাদের প্রধান হাতিয়ার। বর্তমানে ধানের ছড়া বাহির হওয়ার সময় হয়েছে। এ মুহূর্তে সব সময় জমিতে পানি রাখতে হবে। পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। পুরো দিনে ৩০ শতক জমি পানি দিতে পারি না। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।
জোতপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমেশ ব্যাপারী বলেন, জোতপাড়া বাজারে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এভাবে হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করি? দিন শেষে রাতে বাড়িতে গিয়ে এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়া। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের আদ্রতা বেড়েছে ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ বায়ুমন্ডলের আদ্রতার কারণে গরমে অতিষ্ঠতা দেখা দিয়েছে। এ সময় বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সামনে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সুত্রে, টাঙ্গাইল গ্রেড থেকে চৌহালী- নাগরপুর  বিদ্যুৎ আসে। আর ৩০ মেগাওয়াট আর পাচ্ছি ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এই দুর্ভোগ কমাতে। এ বিষয়ে চৌহালী  উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাজেদুর রহমান বলেন, এ সময় বোরো ধানের জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পল্লী বিদ্যুৎতের জিএম এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলবো যাতে রাতের বেলায় লোডশেডিং একটু কম করে। পাশাপাশি জমিতে নিয়মিত ছত্রাক নাশক ঔষধ ব্যবহর করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ এর (জিএম) শেখ মোহাম্মদ আলী বানী বলেন, সারাদেশে লোডশেডিং চলছে। চৌহালী উপজেলা তার ব্যতিক্রম নয়। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
বাখ//আর