ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

চিলমারীতে অকেজো সাংস্কৃতিক অঙ্গন শিল্পকলা একাডেমি

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও……………. গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি দিয়ে বিশ্বের কাছে চিলমারী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। তাছাড়া একসময় চিলমারী থেকে অনেকেই ভাওয়াইয়া গানকে বুকে লালন করে দেশ বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শিল্পীরা হাড়তে বসেছে তাদের শিল্পকলা একাডেমি। তবে এদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় একজন কালচারাল কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে এর কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত।
তবে প্রায় দশবছর ধরে কোন অস্তিত্ব নেই চিলমারী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির। উপজেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও দ্বায়িত্ব হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকলা একাডেমীর কোন কার্যক্রম নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমীর কক্ষটি সবসময় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সরকারি নিয়মানুযায়ী শিল্পকলা একাডেমি পরিচালনায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকার কথা থাকলেও এটা শুধু কাগজ আর কলমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু তার এ স্বপ্নকে কেন বাধাগ্রস্থ করছেন স্থানীয় প্রশাসন? কেনই বা সংস্কৃতি জগৎ থেকে পিছিয়ে রেখেছেন চিলমারীকে এমন ক্ষোভ সঙ্গীত প্রেমীদের। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে চেয়ার, টেবিল, হারমোনিয়াম, কীবোর্ডসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র ক্রয় করা হলেও এগুলো এখন পরিত্যক্ত ও অকেজো অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ সঙ্গীত প্রেমীদের।
সমাজের কোমলমতি শিশুদের মাদক ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার যখন বিকল্প নেই তখন সেই চর্চা কেন্দ্র বন্ধ করে রেখেছেন উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে উপজেলা শিল্পকলার নামে যে সরকারি বরাদ্দ আসে সেই অর্থ গুলো কোথায় যাচ্ছে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষদের মাঝে। দ্রুত সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠন করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে সঙ্গীত, নৃত্য, চারু ও কারুকলার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবিও জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গন।
প্রবীণ শিল্পী ও গানের শিক্ষক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, একসময় শিল্পকলা একাডেমীর অবস্থা রমরমা ছিল। তখন অনেক সঙ্গীত সংগঠন ছিলো ও শিল্পীও বের হয়েছে অনেক। এখন শিল্পকলা একাডেমীর ঘর আছে যন্ত্রপাতি আছে নেই কার্যক্রম। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সেই চর্চা না থাকায় সাংস্কৃতিক বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছে চিলমারী উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। তিনি মনে করেন প্রবীন শিল্পদের শিল্পকলায় ফিরিয়ে আনলেই আবারো পুরণো দিনে ফিরে যাবে সঙ্গীত অঙ্গন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত শিক্ষক শিল্পী মোঃ মহব্বত আলী মজনু বলেন জানান, শিল্পকলা একাডেমির এই হালের জন্য শুধু শিল্পকলাকে দায়ি করলে হবে না। আমি মনে করি এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গীত চর্চার প্রতি শ্রদ্ধা বোধ কম। কারণ অবিভাবকগন তার সন্তানদের সঙ্গীত থেকে দূরে রাখতে চায়। এ সময় তিনি এন্ড্রোয়েডেট মোবাইল ফোনকে সঙ্গীতের শত্রু হিসাবে দায়ি করেন। এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চিলমারীর সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান এই সঙ্গীত শিক্ষক।
এ ব্যাপরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুকুনুজ্জামান শাহীন বলেন, শিল্পকলার বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও মহদ্বয়ের সাথে কথা বলবো এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি করে শিল্পকলাকে পুনরায় সক্রিয় করা হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, এবার সঙ্গীত সংশ্লিষ্ট লোকদের কে নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

চিলমারীতে অকেজো সাংস্কৃতিক অঙ্গন শিল্পকলা একাডেমি

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও……………. গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি দিয়ে বিশ্বের কাছে চিলমারী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। তাছাড়া একসময় চিলমারী থেকে অনেকেই ভাওয়াইয়া গানকে বুকে লালন করে দেশ বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শিল্পীরা হাড়তে বসেছে তাদের শিল্পকলা একাডেমি। তবে এদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় একজন কালচারাল কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে এর কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত।
তবে প্রায় দশবছর ধরে কোন অস্তিত্ব নেই চিলমারী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির। উপজেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও দ্বায়িত্ব হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকলা একাডেমীর কোন কার্যক্রম নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমীর কক্ষটি সবসময় বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সরকারি নিয়মানুযায়ী শিল্পকলা একাডেমি পরিচালনায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকার কথা থাকলেও এটা শুধু কাগজ আর কলমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু তার এ স্বপ্নকে কেন বাধাগ্রস্থ করছেন স্থানীয় প্রশাসন? কেনই বা সংস্কৃতি জগৎ থেকে পিছিয়ে রেখেছেন চিলমারীকে এমন ক্ষোভ সঙ্গীত প্রেমীদের। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে চেয়ার, টেবিল, হারমোনিয়াম, কীবোর্ডসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র ক্রয় করা হলেও এগুলো এখন পরিত্যক্ত ও অকেজো অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ সঙ্গীত প্রেমীদের।
সমাজের কোমলমতি শিশুদের মাদক ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার যখন বিকল্প নেই তখন সেই চর্চা কেন্দ্র বন্ধ করে রেখেছেন উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে উপজেলা শিল্পকলার নামে যে সরকারি বরাদ্দ আসে সেই অর্থ গুলো কোথায় যাচ্ছে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষদের মাঝে। দ্রুত সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠন করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে সঙ্গীত, নৃত্য, চারু ও কারুকলার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবিও জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গন।
প্রবীণ শিল্পী ও গানের শিক্ষক শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, একসময় শিল্পকলা একাডেমীর অবস্থা রমরমা ছিল। তখন অনেক সঙ্গীত সংগঠন ছিলো ও শিল্পীও বের হয়েছে অনেক। এখন শিল্পকলা একাডেমীর ঘর আছে যন্ত্রপাতি আছে নেই কার্যক্রম। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সেই চর্চা না থাকায় সাংস্কৃতিক বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছে চিলমারী উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। তিনি মনে করেন প্রবীন শিল্পদের শিল্পকলায় ফিরিয়ে আনলেই আবারো পুরণো দিনে ফিরে যাবে সঙ্গীত অঙ্গন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত শিক্ষক শিল্পী মোঃ মহব্বত আলী মজনু বলেন জানান, শিল্পকলা একাডেমির এই হালের জন্য শুধু শিল্পকলাকে দায়ি করলে হবে না। আমি মনে করি এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গীত চর্চার প্রতি শ্রদ্ধা বোধ কম। কারণ অবিভাবকগন তার সন্তানদের সঙ্গীত থেকে দূরে রাখতে চায়। এ সময় তিনি এন্ড্রোয়েডেট মোবাইল ফোনকে সঙ্গীতের শত্রু হিসাবে দায়ি করেন। এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চিলমারীর সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান এই সঙ্গীত শিক্ষক।
এ ব্যাপরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুকুনুজ্জামান শাহীন বলেন, শিল্পকলার বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও মহদ্বয়ের সাথে কথা বলবো এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি করে শিল্পকলাকে পুনরায় সক্রিয় করা হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, এবার সঙ্গীত সংশ্লিষ্ট লোকদের কে নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাখ//আর