ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

২০ গ্রাম প্লাবিত : ভেসে গেছে সহস্রাধিক চিংড়ির ঘের : কয়েক'শ কাঁচা ঘরবাড়ি দোকানপাট বিধ্বস্ত

ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কয়রায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা (খুলনা) থেকে
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
  • / ৪৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঁধ ভাঙ্গার আতংকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি কয়রাবাসী। রাতের আধারেও কাজ করেও শেষ রক্ষা হলোনা। অবশেষে প্রাণপণ চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমেলের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলার ৩টি জায়গার বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় সহস্রাধিক চিংড়ির ঘের, ভেঙে গেছে কয়েক’শ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এছাড়া রাত জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে ২ হাজার ঘরবাড়ি সম্পুর্ন বিধস্থ হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ঘড়বাড়ি আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ বাঁধ ভাঙার খবর না পেলে হুশ (জ্ঞান) ফেরে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বাঁধ ভাঙার পর তারা তোড়জোড় শুরু করে।

মহারাজপুর ইউনিয়নের মেম্বর মোস্তফা জানান, ঝড়ের নাম শুনলেই আমাদের এলাকার মানুষের প্রাণ কেপে উঠে। প্রায় প্রতি বছরই জলোচ্ছাসের কবলে পড়ে এখানকার মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়। তবে পাউবো যে বাঁধ নির্মাণ করে, তা কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের আগের দিন পাউবোর কর্মকর্তা এই এলাকায়ৎ ছিল আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি দশালিয়ার এই স্থান ভাঙতে পারে । এখানে কিছু কাজ করা দরকার তখন উনারা এসে শুধু দেখে যায় আর বলে, এখন তো কোন বরাদ্ধ নেই তাহলে কিভাবে এ রাস্তার কাজ করব। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে কিছু কাজ করত তাহলে আজ এ ইউনিয়ন পানিতে ভাসতো না। অভিজ্ঞমহল এই বেঁড়িবাঁধ ভাঙার অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোণা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া, পবনা মোসলেম সরদারের বাড়ীর পাশে ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুর্বল অংশের ওই ৩টি স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার ভেঙে নদীর নোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এলাকা।এ ছাড়া বাঁধের নিচু কয়েকটি জায়গা ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব জায়গায় এলাকার মানুষ রাতভর মেরামত কাজ চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এ ছাড়া কয়রা উপজেলার সুতিবাজার, ৪নং কয়রা ক্লোজার, ৬নং কয়রা, কাটকাটা, গাববুনিয়া, খাশিটানা, গোলখালী, ২নং কয়রা গেটের গোড়া,লোকা, হরিনখোলা, চোরামুখা, মঠবাড়ি, তেতুলতলারচর সহ আরও অনেক এলাকার পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। সেখানকার অধিবাসীরা রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোন রকম টিকিয়ে রেখেছে বাঁধ। তার পরেও বাঁধ ভাঙ্গার আতংকে রয়েছে এলাকাবাসী।

মহারাজপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, রোববার রাতের জোয়ারের চাপে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অন্তত দুটি গ্রাম ও ৫ শতাধিক’ চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে।

 

মহেশ্বরীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ইউনিয়নের সিংহেরকোণা ওখোড়লঘাটি বাজার গনি মেম্বরের বাড়ীর পাশে এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারারাত পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ের তান্ডব ও ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তার ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে ২-৩ টি গ্রামে নদীর পানি ঢুকেছে। তবে সেখানকার বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করেছে এলাকায়।

 

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় মানুষ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সাথে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে বাঁধ সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা চলছে।

তবে তাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না উপকূলবাসী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, কয়েকটি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার তান্ডবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। সেগুলো মেরামতের জন্য পাউবোর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

২০ গ্রাম প্লাবিত : ভেসে গেছে সহস্রাধিক চিংড়ির ঘের : কয়েক'শ কাঁচা ঘরবাড়ি দোকানপাট বিধ্বস্ত

ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কয়রায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ১১:২৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

বাঁধ ভাঙ্গার আতংকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি কয়রাবাসী। রাতের আধারেও কাজ করেও শেষ রক্ষা হলোনা। অবশেষে প্রাণপণ চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমেলের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলার ৩টি জায়গার বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় সহস্রাধিক চিংড়ির ঘের, ভেঙে গেছে কয়েক’শ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এছাড়া রাত জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে ২ হাজার ঘরবাড়ি সম্পুর্ন বিধস্থ হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ঘড়বাড়ি আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ বাঁধ ভাঙার খবর না পেলে হুশ (জ্ঞান) ফেরে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বাঁধ ভাঙার পর তারা তোড়জোড় শুরু করে।

মহারাজপুর ইউনিয়নের মেম্বর মোস্তফা জানান, ঝড়ের নাম শুনলেই আমাদের এলাকার মানুষের প্রাণ কেপে উঠে। প্রায় প্রতি বছরই জলোচ্ছাসের কবলে পড়ে এখানকার মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়। তবে পাউবো যে বাঁধ নির্মাণ করে, তা কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের আগের দিন পাউবোর কর্মকর্তা এই এলাকায়ৎ ছিল আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি দশালিয়ার এই স্থান ভাঙতে পারে । এখানে কিছু কাজ করা দরকার তখন উনারা এসে শুধু দেখে যায় আর বলে, এখন তো কোন বরাদ্ধ নেই তাহলে কিভাবে এ রাস্তার কাজ করব। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে কিছু কাজ করত তাহলে আজ এ ইউনিয়ন পানিতে ভাসতো না। অভিজ্ঞমহল এই বেঁড়িবাঁধ ভাঙার অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোণা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া, পবনা মোসলেম সরদারের বাড়ীর পাশে ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুর্বল অংশের ওই ৩টি স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার ভেঙে নদীর নোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এলাকা।এ ছাড়া বাঁধের নিচু কয়েকটি জায়গা ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব জায়গায় এলাকার মানুষ রাতভর মেরামত কাজ চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এ ছাড়া কয়রা উপজেলার সুতিবাজার, ৪নং কয়রা ক্লোজার, ৬নং কয়রা, কাটকাটা, গাববুনিয়া, খাশিটানা, গোলখালী, ২নং কয়রা গেটের গোড়া,লোকা, হরিনখোলা, চোরামুখা, মঠবাড়ি, তেতুলতলারচর সহ আরও অনেক এলাকার পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। সেখানকার অধিবাসীরা রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোন রকম টিকিয়ে রেখেছে বাঁধ। তার পরেও বাঁধ ভাঙ্গার আতংকে রয়েছে এলাকাবাসী।

মহারাজপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, রোববার রাতের জোয়ারের চাপে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অন্তত দুটি গ্রাম ও ৫ শতাধিক’ চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে।

 

মহেশ্বরীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ইউনিয়নের সিংহেরকোণা ওখোড়লঘাটি বাজার গনি মেম্বরের বাড়ীর পাশে এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারারাত পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ের তান্ডব ও ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তার ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে ২-৩ টি গ্রামে নদীর পানি ঢুকেছে। তবে সেখানকার বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করেছে এলাকায়।

 

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় মানুষ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সাথে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে বাঁধ সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা চলছে।

তবে তাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না উপকূলবাসী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, কয়েকটি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার তান্ডবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। সেগুলো মেরামতের জন্য পাউবোর উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।