ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গ্রামীণ জীবনে শীতের আনন্দ

মতিয়ার রহমান, এনায়েতপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫৭২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল হলেও অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শুরু হয় শীতের আগমন। শীতকাল আমাদের দেশের একটি সুন্দর ঋতু। জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশে শীত এখন সংক্ষিপ্ত ঋতু। হাড়কাঁপানো শীত বলতে যা বোঝায় তার দেখা পাওয়া যায় পৌষ-মাঘ মাসে। একসময় প্রচলিত ছিল ‘মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে’। সেই হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে এখনকার প্রজন্মের পরিচয় নেই। শীতকাল এলে সিরাজগঞ্জের অনেক গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় নানান ধরনের উৎসব। এরমধ্যে রয়েছে ষাঁড়ের লড়াই, ঘোড়ার দৌড়, মোরগ লড়াই ইত্যাদি। এগুলো গ্রামের শীত মৌসুমের ঐতিহ্যবাহী খেলার আসর। শীতে সবাই গ্রামে ফেরার আমন্ত্রণ পায়। কারণ গ্রামে না গেলে শীত কী জিনিস আর শীতের অপরূপ পরিবেশ চোখে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। গ্রামের সবুজ প্রকৃতির বুকে হলুদ সরিষা খেতের উজ্জ্বলতা মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। শীতের বেলায় গ্রামে সূর্য ওঠার দৃশ্য বেশ মনোরম। বাড়ির সামনে মানুষ ঠায় জমায় রোদের আশায়।

শীতের সকাল মানেই নতুন পিঠার স্বাদ নেয়া। পিঠা এ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার, পৌষের হিমেল হাওয়া ছাড়া যেমন শীত কে কল্পনা করা যায়, ঠিক তেমনি পিঠা ছাড়াও বাঙালির ঐতিহ্য ভাবা যায় না।

মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীতে বাবুদের কাবু হওয়ার কথা প্রচলিত আছে। মাঘের শুরুতে জেঁকে বসে শীত। এই শীতে জবুথবু অবস্থা হয় মানুষের জীবনযাপনে। যান্ত্রিক এই নগরীতেও শীতে কাবু হওয়ার ব্যবস্থা হয় নগরবাসীর। তাহলে ভেবে দেখুন গ্রামের মানুষের কী অবস্থা হতে পারে। গ্রামে শীতের প্রকোপ আরো তীব্র। মুক্ত পরিবেশে শীতল হাওয়া যেন আরো বাড়িয়ে দেয় শীতের প্রকোপ। মাঘের হাঁড়কাপানো শীতে গ্রামের মানুষ উনুনের পাশে বসে অথবা শন দিয়ে আগুন জ্বেলে শরীরের তাপ বাড়ায়। সূর্য ওঠার অপেক্ষায় আঙিনায় বসে থাকে। কাঁথামুড়ি দিয়ে দিনের কাজ শুরু করে। এই শীতের প্রকোপ যতই হোক না কেন, থেমে থাকে না গ্রামবাংলার কৃষক-কৃষাণির কাজকর্ম। শীতের এই হিমেল হাওয়ায় সব কিছুর শীতলাবস্থা হলেও গ্রামে আছে কিছু ঐহিত্যের প্রচলন।

শীতের সকালে দলবেঁধে আগুন তাপানো, কাঁথামুড়ি দিয়ে গল্প করা, সকালে মুড়ি খাওয়া, খেজুরের রস ও ঘরে ঘরে শীতের পিঠা আর পায়েসের ভোজন উৎসব। গ্রামে এখনো এক ঘরে পিঠা পায়েস করা হলে আশপাশের স্বজনদের না দিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ নেই। বাংলাদেশে এখন শীত চলছে। প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশায় কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। ‘এক মাঘে শীত যায় না’ বাঙালির এই প্রবাদ বহুল প্রচলিত। পৌষ ও মাঘ মাস হলো শীত ঋতু। নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শীতকাল টিকে থাকে। জলবায়ুর উষ্ণতার দিক থেকে হেমন্ত এবং বসন্তের মধ্যবর্তী সবচেয়ে শীতলতম ঋতুকে বলা হয় শীতকাল। শীতে বাংলাদেশের গ্রাম-প্রকৃতি সন্ধ্যার আগে থেকেই শিশির আর কুয়াশার চাদর মুড়ি দিতে শুরু করে।

মানুষজন বেশ সকাল সকালই ঘরে ফেরে। গবাদি পশুরও আশ্রয় হয় গোয়ালে বা নির্দিষ্ট স্থানে। শীতের হিমশীতল গ্রামবাংলায় খুশি আর আনন্দের আয়োজনও রয়েছে প্রচুর। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে একটু উষ্ণতার জন্য সবাই কাতর হয়ে আছে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর এর বিভিন্ন গ্রামে।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রামীণ জীবনে শীতের আনন্দ

আপডেট সময় : ০৪:২৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল হলেও অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শুরু হয় শীতের আগমন। শীতকাল আমাদের দেশের একটি সুন্দর ঋতু। জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশে শীত এখন সংক্ষিপ্ত ঋতু। হাড়কাঁপানো শীত বলতে যা বোঝায় তার দেখা পাওয়া যায় পৌষ-মাঘ মাসে। একসময় প্রচলিত ছিল ‘মাঘের শীতে বাঘে কাঁপে’। সেই হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে এখনকার প্রজন্মের পরিচয় নেই। শীতকাল এলে সিরাজগঞ্জের অনেক গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় নানান ধরনের উৎসব। এরমধ্যে রয়েছে ষাঁড়ের লড়াই, ঘোড়ার দৌড়, মোরগ লড়াই ইত্যাদি। এগুলো গ্রামের শীত মৌসুমের ঐতিহ্যবাহী খেলার আসর। শীতে সবাই গ্রামে ফেরার আমন্ত্রণ পায়। কারণ গ্রামে না গেলে শীত কী জিনিস আর শীতের অপরূপ পরিবেশ চোখে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। গ্রামের সবুজ প্রকৃতির বুকে হলুদ সরিষা খেতের উজ্জ্বলতা মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। শীতের বেলায় গ্রামে সূর্য ওঠার দৃশ্য বেশ মনোরম। বাড়ির সামনে মানুষ ঠায় জমায় রোদের আশায়।

শীতের সকাল মানেই নতুন পিঠার স্বাদ নেয়া। পিঠা এ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার, পৌষের হিমেল হাওয়া ছাড়া যেমন শীত কে কল্পনা করা যায়, ঠিক তেমনি পিঠা ছাড়াও বাঙালির ঐতিহ্য ভাবা যায় না।

মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীতে বাবুদের কাবু হওয়ার কথা প্রচলিত আছে। মাঘের শুরুতে জেঁকে বসে শীত। এই শীতে জবুথবু অবস্থা হয় মানুষের জীবনযাপনে। যান্ত্রিক এই নগরীতেও শীতে কাবু হওয়ার ব্যবস্থা হয় নগরবাসীর। তাহলে ভেবে দেখুন গ্রামের মানুষের কী অবস্থা হতে পারে। গ্রামে শীতের প্রকোপ আরো তীব্র। মুক্ত পরিবেশে শীতল হাওয়া যেন আরো বাড়িয়ে দেয় শীতের প্রকোপ। মাঘের হাঁড়কাপানো শীতে গ্রামের মানুষ উনুনের পাশে বসে অথবা শন দিয়ে আগুন জ্বেলে শরীরের তাপ বাড়ায়। সূর্য ওঠার অপেক্ষায় আঙিনায় বসে থাকে। কাঁথামুড়ি দিয়ে দিনের কাজ শুরু করে। এই শীতের প্রকোপ যতই হোক না কেন, থেমে থাকে না গ্রামবাংলার কৃষক-কৃষাণির কাজকর্ম। শীতের এই হিমেল হাওয়ায় সব কিছুর শীতলাবস্থা হলেও গ্রামে আছে কিছু ঐহিত্যের প্রচলন।

শীতের সকালে দলবেঁধে আগুন তাপানো, কাঁথামুড়ি দিয়ে গল্প করা, সকালে মুড়ি খাওয়া, খেজুরের রস ও ঘরে ঘরে শীতের পিঠা আর পায়েসের ভোজন উৎসব। গ্রামে এখনো এক ঘরে পিঠা পায়েস করা হলে আশপাশের স্বজনদের না দিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ নেই। বাংলাদেশে এখন শীত চলছে। প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশায় কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। ‘এক মাঘে শীত যায় না’ বাঙালির এই প্রবাদ বহুল প্রচলিত। পৌষ ও মাঘ মাস হলো শীত ঋতু। নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শীতকাল টিকে থাকে। জলবায়ুর উষ্ণতার দিক থেকে হেমন্ত এবং বসন্তের মধ্যবর্তী সবচেয়ে শীতলতম ঋতুকে বলা হয় শীতকাল। শীতে বাংলাদেশের গ্রাম-প্রকৃতি সন্ধ্যার আগে থেকেই শিশির আর কুয়াশার চাদর মুড়ি দিতে শুরু করে।

মানুষজন বেশ সকাল সকালই ঘরে ফেরে। গবাদি পশুরও আশ্রয় হয় গোয়ালে বা নির্দিষ্ট স্থানে। শীতের হিমশীতল গ্রামবাংলায় খুশি আর আনন্দের আয়োজনও রয়েছে প্রচুর। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে একটু উষ্ণতার জন্য সবাই কাতর হয়ে আছে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর এর বিভিন্ন গ্রামে।

 

বাখ//আর