ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় অন্ধকার থেকে আলোকিত ‘চরখোকড়া’ নিভৃত পল্লী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

অন্ধকার থেকে আলোকিত ‘চরখোকড়া’ নিভৃত পল্লী

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এ.এইচ.মাসুক, পাবনা :
পাবনায় সদরের দাপুনিয়া চরখোকড়া পল্লীটি এখন গ্রামবাসির চেষ্টায় আলোয় আলোকিত। পাবনা শহর থেকে ১০ কি.মি. দূরে অবস্থিত দাপুনিয়া ইউনিয়নের চরখোকড়া গ্রামটি।

সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নির্ভৃত পল্লী হওয়ায় সেখানে রাত নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। এতে করে সেখানকার মানুষ সন্ধার নামলে আর ঘড় থেকে কোথাও বের হতে পারতো না চোর-ডাকাতের ভয়ে। এ ছাড়াও এলাকার মুসল্লীরা সন্ধ্যার পর মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় বা রাত্রিকালিন সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতো আলোর ব্যবস্থা না থাকায়। তাই নিরুপায় হয়ে চরখোকড়াবাসির সমন্বিত প্রচেষ্টায় উদ্যোক্তা মোঃ জুয়েলের প্রচেষ্টায় চরখোকড়া যুব উন্নয়ন সংঘ নামে একটি সংগঠন গোড়ে তোলে। যেখানে এলাকার মোঃ কামাল প্রধান সংঘঠনটির সভাপতি , বাবুল সহ-সভাপতি , চরখোকড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামুরজ্জামান সদস্য, এলাকার কাদের প্রধান সদস্য, স্বপন ইলেকট্রিশিয়ান, মজিদ দেওয়ান, সাত্তার প্রধানের সহযোগীতায় সংঘঠনটি পরিচালনা করা হয়। যেখানে সবাই একত্রে হয়ে যার যতটুকু সামর্থ সে অনুযায়ী আর্থিক সহযোগীতার মাধ্যেমে গ্রামটির প্রায় দুই কিঃ মিঃ এলাকায় বৈদুতিক বাতি প্রতিস্থাপন করে। সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকান্ড ও সমাজবিরোধী কাজ দমন করার লক্ষ্যে তাদের তৈরি করা আলোকসজ্জাটি তৈরি হয়েছে উন্নত মানের বৈদুতিক এলইডি বাতির সমন্বয়ে। এলাকার বিভিন্ন গাছের মাথায় তারের মাধ্যেমে একটি করে বৈদুতিক বাতি স্থাপন করা হয়। প্রায় দুই কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে দেখা গিয়েছে, খুব সুন্দরভাবে স্বল্প খরচে বৈদুতিক তারের ব্যবহারের মাধ্যেমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেখানে উন্নত মানে এলইডি বাতির ব্যবহারের মাধ্যেমে গ্রামটিকে অন্ধকার থেকে আলোয় রূপদান করা হয়েছে। একটি পৌর এলাকায় রাতে পৌরবাসি যেরকম সেবা পায়, ঠিক তেমনই সেবা চরখোকড়া গ্রামবাসি নিজ উদ্যোগে করে দেখিয়েছেন।

এ বিষয়ে চরখোকড়া গ্রামের বেশ কয়েকজনের জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরাও যে অনেক বড় ও সুন্দর মনের অধিকারি । আমরা সেটা দেশবাসীকে দেখাতে চাই। মানুষ চাইলে অনেক অনেক ভালোকাজ করতে পারে । আমাদের গ্রামটি আজ সকল ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড মুক্ত । ফলে আমরা অনায়াসে খুব সুন্দর ভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছি। এখন আমাদের এলাকায় মানুষ রাতেও তাদের নামাজ আদায় করেন এবং ভোর বেলাও ফজরের নামাজ আদায় করেন মসজিদে গিয়ে নির্ভয়ে। এছাড়াও এখন গ্রামে কোন চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে না এই বাতিগুলো স্থাপন করায়। বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশকে ডিজিটাইলাইজের মাধ্যেমে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেখানে এখনও এমন নির্ভৃতি পল্লী রয়ে গেছে যেখানে ডিজিটাইলেজের কোন সুযোগ সুবিধা এখনও পাননি । আর এ কারণেই নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসী বৈদুতিক বাতি স্থাপন করে দেশবাসির সামনে নিজেদেরকে এক উজ্জল দৃষ্টান্তের প্রমাণক হিসেবে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন এখানকার মানুষ।

এমতবস্থায় গ্রামবাসী সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, ‘যদি সরকার আমাদের আরো একটু সহযোগীতা করতো তাহলে আমরা এই চরখোকড়া সমগ্র গ্রামটিকে রাতে আলোয় আলোকিত করতে পারতাম। যাতে করে আমাদের গ্রামের মানুষ সুখে শান্তিতে ও নিরাপদে এই গ্রামে বসবাস করতে পারতো। সেইসাথে আমাদের দেখে এ ধরণের কর্মকান্ড সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়লে আগামীতে দেশ থেকে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড অনেকাংশে দমন করা যাবে বলে আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।’

তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট চরখোকড়া পল্লীবাসির দাবি, ‘তাদের সহযোগীতা করলে আগামীতে সারা বাংলাদেশের মধ্যে চরখোকড়া গ্রামটিকে একটি মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারবে।’

বা/খ: এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় অন্ধকার থেকে আলোকিত ‘চরখোকড়া’ নিভৃত পল্লী

আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২

এ.এইচ.মাসুক, পাবনা :
পাবনায় সদরের দাপুনিয়া চরখোকড়া পল্লীটি এখন গ্রামবাসির চেষ্টায় আলোয় আলোকিত। পাবনা শহর থেকে ১০ কি.মি. দূরে অবস্থিত দাপুনিয়া ইউনিয়নের চরখোকড়া গ্রামটি।

সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নির্ভৃত পল্লী হওয়ায় সেখানে রাত নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। এতে করে সেখানকার মানুষ সন্ধার নামলে আর ঘড় থেকে কোথাও বের হতে পারতো না চোর-ডাকাতের ভয়ে। এ ছাড়াও এলাকার মুসল্লীরা সন্ধ্যার পর মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় বা রাত্রিকালিন সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতো আলোর ব্যবস্থা না থাকায়। তাই নিরুপায় হয়ে চরখোকড়াবাসির সমন্বিত প্রচেষ্টায় উদ্যোক্তা মোঃ জুয়েলের প্রচেষ্টায় চরখোকড়া যুব উন্নয়ন সংঘ নামে একটি সংগঠন গোড়ে তোলে। যেখানে এলাকার মোঃ কামাল প্রধান সংঘঠনটির সভাপতি , বাবুল সহ-সভাপতি , চরখোকড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামুরজ্জামান সদস্য, এলাকার কাদের প্রধান সদস্য, স্বপন ইলেকট্রিশিয়ান, মজিদ দেওয়ান, সাত্তার প্রধানের সহযোগীতায় সংঘঠনটি পরিচালনা করা হয়। যেখানে সবাই একত্রে হয়ে যার যতটুকু সামর্থ সে অনুযায়ী আর্থিক সহযোগীতার মাধ্যেমে গ্রামটির প্রায় দুই কিঃ মিঃ এলাকায় বৈদুতিক বাতি প্রতিস্থাপন করে। সকল প্রকার অসামাজিক কর্মকান্ড ও সমাজবিরোধী কাজ দমন করার লক্ষ্যে তাদের তৈরি করা আলোকসজ্জাটি তৈরি হয়েছে উন্নত মানের বৈদুতিক এলইডি বাতির সমন্বয়ে। এলাকার বিভিন্ন গাছের মাথায় তারের মাধ্যেমে একটি করে বৈদুতিক বাতি স্থাপন করা হয়। প্রায় দুই কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে দেখা গিয়েছে, খুব সুন্দরভাবে স্বল্প খরচে বৈদুতিক তারের ব্যবহারের মাধ্যেমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেখানে উন্নত মানে এলইডি বাতির ব্যবহারের মাধ্যেমে গ্রামটিকে অন্ধকার থেকে আলোয় রূপদান করা হয়েছে। একটি পৌর এলাকায় রাতে পৌরবাসি যেরকম সেবা পায়, ঠিক তেমনই সেবা চরখোকড়া গ্রামবাসি নিজ উদ্যোগে করে দেখিয়েছেন।

এ বিষয়ে চরখোকড়া গ্রামের বেশ কয়েকজনের জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরাও যে অনেক বড় ও সুন্দর মনের অধিকারি । আমরা সেটা দেশবাসীকে দেখাতে চাই। মানুষ চাইলে অনেক অনেক ভালোকাজ করতে পারে । আমাদের গ্রামটি আজ সকল ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড মুক্ত । ফলে আমরা অনায়াসে খুব সুন্দর ভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছি। এখন আমাদের এলাকায় মানুষ রাতেও তাদের নামাজ আদায় করেন এবং ভোর বেলাও ফজরের নামাজ আদায় করেন মসজিদে গিয়ে নির্ভয়ে। এছাড়াও এখন গ্রামে কোন চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে না এই বাতিগুলো স্থাপন করায়। বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশকে ডিজিটাইলাইজের মাধ্যেমে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেখানে এখনও এমন নির্ভৃতি পল্লী রয়ে গেছে যেখানে ডিজিটাইলেজের কোন সুযোগ সুবিধা এখনও পাননি । আর এ কারণেই নিজ উদ্যোগে গ্রামবাসী বৈদুতিক বাতি স্থাপন করে দেশবাসির সামনে নিজেদেরকে এক উজ্জল দৃষ্টান্তের প্রমাণক হিসেবে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন এখানকার মানুষ।

এমতবস্থায় গ্রামবাসী সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, ‘যদি সরকার আমাদের আরো একটু সহযোগীতা করতো তাহলে আমরা এই চরখোকড়া সমগ্র গ্রামটিকে রাতে আলোয় আলোকিত করতে পারতাম। যাতে করে আমাদের গ্রামের মানুষ সুখে শান্তিতে ও নিরাপদে এই গ্রামে বসবাস করতে পারতো। সেইসাথে আমাদের দেখে এ ধরণের কর্মকান্ড সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়লে আগামীতে দেশ থেকে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড অনেকাংশে দমন করা যাবে বলে আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।’

তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট চরখোকড়া পল্লীবাসির দাবি, ‘তাদের সহযোগীতা করলে আগামীতে সারা বাংলাদেশের মধ্যে চরখোকড়া গ্রামটিকে একটি মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারবে।’

বা/খ: এসআর