ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গৌরনদীতে লোডশেডিং ও তীব্র গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪
  • / ৫০২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের গৌরনদীতে তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনরাত লোডশেডিংয়ের সঙ্গে তীব্র তাপদাহে কষ্টে সময় কাটাচ্ছে মানুষ। হাঁসফাঁস গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এ পরিস্থিতিতে গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে কদর বেড়েছে হাতপাখার। বাড়িঘর, দোকানপাট, চলতি পথে হাত পাখা চালিয়ে শরীরটাকে শীতল করছেন অনেকেই। তাল পাখার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঘুমও হারাম হয়ে গেছে পাখা তৈরির কারিগরদের। কারিগররা এখন দিনরাত সমান তালে পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত। প্রতিটি হাতপাখা খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষ করে বাসযাত্রী, হাটবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও দরিদ্র মানুষের কাছে এই পাখার চাহিদা বেশি। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের উত্তর চাঁদশী গ্রামের (বাজনা খলিফা বাড়ী) গৃহবধূ আলেয়া বেগম বলেন, বাড়িতে বসে না থেকে তালপাতার হাতপাখা তৈরি করছি।

 

গৌরনদীতে লোডশেডিং ও তীব্র গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

অন্য বছরের চেয়ে এ বছর দাম বেশি। তার মতো এলাকার অনেকেই এ কাজ করে ভাল টাকা আয় করছেন। গৌরনদী বাজারের কাপুরের ব্যবসায়ী ভোলা শাহ বলেন, তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই একটি হাতপাখা কিনেছি। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তিতো পাওয়া যাবে। বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় এই পাখা কাজে দিচ্ছে।

গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বার্থীর বাজারের কামরুল খান (৪৭) বলেন, প্রচন্ড গরমে বাইরে বেরুতে পারছি না। ফলে বার বার পানিতে মাথা ধুয়ে নিচ্ছি। আর ঘরে বসে হাত পাখা চালিয়ে সময় কাটাচ্ছি। হাতপাখা বিক্রেতা হারুন খলিফা জানান, প্রতি বছর গরম মৌসুমে বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতপাখা বিক্রি করেন তিনি।

এ বছর বেশী বিক্রি হচ্ছে। দু’বেলা ডাল ভাত খেয়ে এবার এনজিও থেকে নেওয়া ঋণও শোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। কারণ প্রচন্ড রোদে পাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। লোডশেডিং আর প্রচন্ড- গরমের কারণে শহর গ্রাম সর্বত্রই হাতপাখার কদর বেড়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের লোডশেডিং বেশি হওয়ায় গ্রাম গঞ্জে হাতপাখার কদর সবচেয়ে বেশি। তাপমাত্রা বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা।

বাজারে নানা ধরনের হাতপাখার বিক্রি বেড়েছে। যেমন- তাল পাতার পাখা, রঙিন সুতার পাখা, রঙিন কাপড়ের পাখা মিলছে ১০০-১৫০ টাকায়। গৌরনদী সরিকল ইউনিয়নের শাহাজি¦রা গ্রামের গৃহবধূ রাহিমা জানান, আমাদের মতো গরিব মানুষের কোনো উপায় নেই। তবে একটু বেশী সময়ে হাতপাখা নাড়াতে গেলে হাত ব্যথা হয়ে যায়। তারপরও কিছু করার নেই।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

গৌরনদীতে লোডশেডিং ও তীব্র গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪

বরিশালের গৌরনদীতে তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনরাত লোডশেডিংয়ের সঙ্গে তীব্র তাপদাহে কষ্টে সময় কাটাচ্ছে মানুষ। হাঁসফাঁস গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এ পরিস্থিতিতে গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে কদর বেড়েছে হাতপাখার। বাড়িঘর, দোকানপাট, চলতি পথে হাত পাখা চালিয়ে শরীরটাকে শীতল করছেন অনেকেই। তাল পাখার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঘুমও হারাম হয়ে গেছে পাখা তৈরির কারিগরদের। কারিগররা এখন দিনরাত সমান তালে পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত। প্রতিটি হাতপাখা খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষ করে বাসযাত্রী, হাটবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও দরিদ্র মানুষের কাছে এই পাখার চাহিদা বেশি। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের উত্তর চাঁদশী গ্রামের (বাজনা খলিফা বাড়ী) গৃহবধূ আলেয়া বেগম বলেন, বাড়িতে বসে না থেকে তালপাতার হাতপাখা তৈরি করছি।

 

গৌরনদীতে লোডশেডিং ও তীব্র গরমে কদর বেড়েছে হাতপাখার

অন্য বছরের চেয়ে এ বছর দাম বেশি। তার মতো এলাকার অনেকেই এ কাজ করে ভাল টাকা আয় করছেন। গৌরনদী বাজারের কাপুরের ব্যবসায়ী ভোলা শাহ বলেন, তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই একটি হাতপাখা কিনেছি। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তিতো পাওয়া যাবে। বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় এই পাখা কাজে দিচ্ছে।

গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বার্থীর বাজারের কামরুল খান (৪৭) বলেন, প্রচন্ড গরমে বাইরে বেরুতে পারছি না। ফলে বার বার পানিতে মাথা ধুয়ে নিচ্ছি। আর ঘরে বসে হাত পাখা চালিয়ে সময় কাটাচ্ছি। হাতপাখা বিক্রেতা হারুন খলিফা জানান, প্রতি বছর গরম মৌসুমে বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতপাখা বিক্রি করেন তিনি।

এ বছর বেশী বিক্রি হচ্ছে। দু’বেলা ডাল ভাত খেয়ে এবার এনজিও থেকে নেওয়া ঋণও শোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। কারণ প্রচন্ড রোদে পাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। লোডশেডিং আর প্রচন্ড- গরমের কারণে শহর গ্রাম সর্বত্রই হাতপাখার কদর বেড়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের লোডশেডিং বেশি হওয়ায় গ্রাম গঞ্জে হাতপাখার কদর সবচেয়ে বেশি। তাপমাত্রা বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা।

বাজারে নানা ধরনের হাতপাখার বিক্রি বেড়েছে। যেমন- তাল পাতার পাখা, রঙিন সুতার পাখা, রঙিন কাপড়ের পাখা মিলছে ১০০-১৫০ টাকায়। গৌরনদী সরিকল ইউনিয়নের শাহাজি¦রা গ্রামের গৃহবধূ রাহিমা জানান, আমাদের মতো গরিব মানুষের কোনো উপায় নেই। তবে একটু বেশী সময়ে হাতপাখা নাড়াতে গেলে হাত ব্যথা হয়ে যায়। তারপরও কিছু করার নেই।

 

বাখ//আর