ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গোদাগাড়ী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত :ব্যপকহারে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৬৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী //
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা  জুড়ে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত গরুও মারা যাচ্ছে এতে করে আঅঙ্কিত  মধ্যে পড়েছেন। গবাদিপশু পালনকারি গৃহস্থ ও খামারিরা। এলএসডিতে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা গেলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত)  ডা. রিপা রানীর নিকট তথ্য নেই।
ভুক্তভোগীরা অফিসে ঠিকভাবে চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী মেল পাড়ার  আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কালুর ৯০ হাজার টাকার গরু এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ডা. রিপা রাণীর নিকট চিকিৎসা করে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ইনজেকশন ও  ওষুধ সেবন করান পরদিন তার গরুটি মারা যায়। মহিশালবাড়ী ফকিরপাড়ার লুথুর ছেলে আবু ৮০ হাজার টাকা মূল্যের আক্রান্ত গরু নিয়ে বুধবার সাড়ে ১১ টার সময় গোদাগাড়ী পশু হাসপাতালে যান। ডা. রিপ রাণীর নিকট দেখা করেন কিন্তু তিনি গরুর  কোন চিকিৎসা না দিয়ে বাইরে কাজ আছে বলে বেরিয়ে যান। চিকিৎসা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে  হোমিও চিকিৎসা করছেন।
এককই হয়েছে শিবসাগর পাড়া আব্দুল লতিফের ক্ষেত্রে তার ৭০ হাজার টাকার গরুকে হোমিও চিকিৎসা করছেন। গত বুধবার এলএসডি আক্রান্ত   ৩ টি গরুর ও অন্য রোগে  আক্রান্ত ২ গরুর চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন গোগ্রাম ইউনিয়নের  বসন্তপুর  শিয়ালা গ্রামের হাজেরা বেগম তার সাথে কথা এ প্রতিবেদকের  তাকে যে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন ৪/৫ হাজার টাকার দামী ওষুধ ও ইনজেকশন। ব্যবস্থা পত্র পেয়ে তার চোখেমুখে কালো মেঘ অফিস থেকে মিকচার ছাড়া কিছুই দেয়া হয় নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই রোগটি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী, হাটপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, শিবসাগর,   মাদারপুর, লালবাগ, বাইপাস, কুঠিপাড়া, সিএন্ডবি, গঠের মাঠ, উপজেলার বসন্তপুর, চাঁপাল, রাজবাড়ি, হাসাবপুর, আইহাই রাহী,  হেলিপ্যাড, কাঁকনহাট,  মোল্লাপাড়া, নাজিরপুর, প্রেমতলী, পিরিজপুর, হাতিবান্ধা, চম্পকনগর,  রিশিকুল, পাকড়ী, হুজরাপুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই রোগ ব্যপকহারে দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক ও গৃহস্থরা।উপজেলার অনেক খামারি ও কৃষক ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত গরুগুলোকে খুবই কম দামে স্থানীয় কসাইদের নিকট বিক্রি করছেন । তারা রাতের আধারে জবাই করে মাংস বাজারে দেদারসে বিক্রি করছে।এই রোগাক্রান্ত গবাদিপুর মাংস খেয়ে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, মারাত্মক  এ রোগ মশা, মাছি, আঠালি বা ব্যবহৃত নিভেল ও সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রান্ত পশু থেকে সুস্থ পশুর শরীরে ছড়াচ্ছে। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক না থাকায় দিশেহারা গৃহস্থ ও খামারিরা। এই লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভয়ংকর একটি রোগ। এখন এই রোগ গোদাগাড়ী  উপজলায়  মহামারী রুপে ধারণ করেছে। রোগটি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই। এ রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর  প্রথমে গরুর শরীর গরম হয়ে জ্বর উঠে যায়। তারপর শরীরের কয়েক জায়গায় ছোট ছোট গুটি উঠতে শুরু করে। কোন কোন গরুতে অনেকগুলি বড় বড় গুটি হচ্ছে, গরুরশ্বাস কষ্ট হচ্ছে।  একপর্যায়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। শরীর ফুলে যাচ্ছে এবং গরুর খাবারে অনীহা দেখা দিচ্ছে, এতে গরু দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানান খামারিরা। কোন কোন গরু মারা যাচ্ছে। গৃহস্থ ও খামারিদের অভিযোগ, রোগটি বর্তমানে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গোদাগাড়ী উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসে এসে  তারা চিকিৎসা  না পেয়ে উপায়হীনভাবে গ্রামের কিছু পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এতে গরু সুস্থ না হয়ে বরং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাছাড়া প্রানিসম্পদ অফিসে এককই সিরিঞ্জ দিয়ে একাধিক গরুকে ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগও করছেন।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার খামারি মর্জিনা খাতুন বলেন, আমার পোষা ৫ মাস বয়সী একটি গরু এই রোগে হঠাৎ করেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। শরীরে প্রচন্ড জ্বর থাকায় ঠিকমত খাওয়া ও চলাফেরা করতে পারছে না। পুরো শরীর গোটা হয়ে যাওয়ায় গরু ব্যাথায় জর্জরিত হয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছে। গরু নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে চিকিৎসা  সেবা চলছে  সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখছেন না। সব ওষুধ দোকান থেকে কিনতে  হয়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার তার গরুর জন্য ক্রিমি ও জ্বরের জন্য ডা. রিপা রাণী নিকট গত মঙ্গলবার অফিসে যান। তিনি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। জুলাই মাসে যদি এসব ওষুধ শেষ হয়ে যায় এটা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি জানান।
হুজরাপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার জানান, আমার ভাই শাহাজামালের  টি গরু এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছে কোন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা। এলাকায় ব্যাপকহারে গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। হোমিও চিকিৎসা একমাত্র ভরসা বলে তিনি জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) একটি লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন।  ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রিপা রাণীর নিজে ওষুধের রেজিষ্টার লিখার কথা থাকলেও তিনি না লিখে তিন মাসের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ২ জন বাইরের ব্যক্তিকে দিয়ে এখাতাটি লিখা হচ্ছে। অনাভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে হাসপাতালে বসিয়ে রেখে ইনজেকশন পুশ করা হচ্ছে, তারা এককই সিরিঞ্জ তারা একাধিক আক্রান্ত গরুর গায়ে ইনজেকশন পুশ করছেন।  এতে লাভের চেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে।
মেলপাড়ার সাহাবউদ্দিন  জানান, পশু হাসপাতালে এসেও ঘুরে যাচ্ছি ডাক্তার পাচ্ছি না । এখানে নাকি কোনো ডাক্তার নেই। এ অবস্থায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছি।
গোদাগাড়ী  উপজেলার পল্লী চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, গত ৩  সপ্তাহ যাবত গরুর  লাম্পি স্কিন রোগের সংক্রমণ ব্যপকহারে  দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কয়েকটি করে এমন রোগে আক্রান্ত গরু দেখছি। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, এন্টি হিস্টামিন এবং জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।
গত বুধবার সকাল ১১ টার সময় গোদাাগাড়ী উপজেলা অফিসে গিয়ে দেখা যায়  প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপা রানী দাস উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকজনের মাঝে পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন, ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন, দামি দামি ওষুধ ও ইনজেকশন, সবগুলি  অফিসের পাশের ওষুধের দোকান থেকে কিনে নেয়ার পরামার্শ দিচ্ছেন। সামনের  চিয়ারে বসে আছেন কয়েকজন ওষুধ কোম্পানীর লোক, তাদের ঔষুধ লিখার অনুরোধ করছেন, এর জন্য ওষুধ, কলম, প্যাড ও উপহার সামগ্রী  দিচ্ছেন। পশুর এল.এস.ডি রোগের তথ্য চাইলে তিনি দায়সারাগোছের তথ্য দিয়েছেন।  বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবায় এক একটি ব্যবস্থাপত্রে ৪/৬ হাজার জেন্ট্রি কম্পোনীর ওষুধ লিখে দিচ্ছেন।  অফিস থেকে মিকচার ওষুধ ছাড়া অন্য ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। গরীব মানুষ যাদের নুন আন্তে পান্না ফুরায়  তারা এত দামী ওষুধ কিনবে কি করে। গত ২ আগষ্ট  ডা. রিপা রাণী রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যে তথ্য দিয়েছেন নতুন আক্রান্ত মাত্র ১২  এবং পূর্বের আক্রান্ত ৯২,  কোন গবাদিপশু মারা যায় নি, চিকিৎসা করেছেন ১০ টি গরু বর্তমানে কোন গরুকে টিকা প্রদান করেন নি। সুস্থ্য হয়েছে ৮ টি গরুে, সচেতনতা মূলক সভা করেছেন ২ টি, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা, ১ হাজারের বেশী গরু আক্রান্ত হয়েছে। কিছু গরু মারা গেলেও তিনি রিপোর্টে তা রহস্যজনক কারনে গোপন করেছেন।
রাজাবাড়ী গ্রামের কৃষক নাসির হোসেন জানান, আমার একটি বড় গরুর গলার নিচে ফুলে ও পিঠে  সারা গায়ে ফোসকা বের হয়েছে। গরুটির অবস্থা খুবই খারাপ। শরীর পচে গর্ত হয়ে যাচ্ছে। সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ করেও সুস্থ্য হয়নি গরুটি।
কৃষক ও গৃহস্থদের অভিযোগ, রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোন  কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে গ্রামের কিছু পশু ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এতে গরু সুস্থ না হয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের পর গ্রাম। গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।
ডা. আরিফ বলেন, প্রতিদিন এই রোগে আক্রান্ত গরু আমাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসছে। আমরা তাদের ভ্যাকসিন ও ঔষধ দিয়ে সতকর্তা মূলক পরামর্শ দিচ্ছি। এই রোগ সাধারণত মশা-মাছি বা ময়লা আবর্জনা থেকে হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে গরুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাছুর গরু বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এই রোগে গরু মরার শঙ্খা খুবই কম। এই রোগ সারতে সময় লাগে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে গোদাগাড়ী  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকায় অফিস চেন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সেবা নিতে আসা লোকজন।
এ সব ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয়  কুমার মাহন্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  বিষয়টি ব্যপারে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। কোন মানুষ যেন গবাদিপশুর চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি শিকার না হয়।  কিছুদিনের মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। অফিসার নিয়োগ হলে এসমস্যা থাকবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (প্রেমতলী) ডা. রাশেদল হাসান শাওন বলেন, যে কোন রোগাক্রান্ত পশুর মাংশে স্বাস্থ্য ঝঁকি থাকে, অনেক রোগাক্রান্ত পশু থেকে মানব দেহে রোগ ছড়ায়। লাম্পি স্কিন রোগে  আক্রান্ত পশু জবাই না করা তার মাংশ না খাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সর্তক বার্তা দেয়া হচ্ছে, কেন না এখানেও স্বাস্থ্য ঝঁকিও  রয়েছে। পৌরসভা ও রাজশাহী সিটিতে গবাদিপশু  জবাই করার পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.  জুলফিকার মোঃ আখতার বলেন, এটা শুধু গোদাগাড়ী নয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগে কোনো গরু আক্রান্ত হয়েছে। গোদাগাড়ী একটি বড় উপজেলা, এখানে অনেক গবাদিপশু আছে চিকিসায় কিছুটা সমস্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সে সমস্যা থাকবে না। এ রোগে গবাদিপশু আক্রান্ত হলে প্রথমেই অসুস্থ গরুটিকে আলাদা করতে হবে। মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে, যাতে মশা বা মাছি গরুর শরীরে না বসে। কেননা মশা বা মাছি অসুস্থ গরুটিকে কামড় দিয়ে যদি সুস্থ কোনো গরুকে কামড়ায় তাহলে সেটিও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এ রোগের ফলে মূলত গরু খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে গুটি গুটি ফোঁড়ার মতো হয়ে পেকে পুঁজ বের হয়। একটি গরু সুস্থ হতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। তিনি আরও জানান, ২/৪ আক্রান্ত গরু মারা যায়। ছোট গরুতে ঝঁকি বেশী। এরোগে আক্রান্ত গরুকে ব্যথানাশক ও হাই এন্ট্রিবাইট্রিক ওষুধ দেয়া যাবে না। জ্বর থাকলে প্যারাসিট্যামল দেয়া যেতে পারে। ২৫ গ্রাম নিম পাতা, ৫০ গ্রাম গুড়, খাবারসোডা ৫০ গ্রাম, লবন ২৫ গ্রাম ১ লিটার পানিতে  মিশ্রিত করে সকাল বিকাল ৭ দিন সেবন করা তাড়াতাড়ি উপকার পবেন। যে কোন রোগাক্রান্ত পশু জবাই নিষেধ আছে, তবে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ আক্রান্ত গরুর গুটিগুলি চামড়া ফেলে দিলে স্বাস্থ্য ঝঁকি থাকে না। এধরনের পশুর মাংশ না খাওয়ায় ভাল। সচেতনতা মূলক  লিফলেট পোষ্টার বিতরণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোদাগাড়ী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত :ব্যপকহারে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু

আপডেট সময় : ০৭:২২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩
// নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী //
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা  জুড়ে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত গরুও মারা যাচ্ছে এতে করে আঅঙ্কিত  মধ্যে পড়েছেন। গবাদিপশু পালনকারি গৃহস্থ ও খামারিরা। এলএসডিতে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা গেলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত)  ডা. রিপা রানীর নিকট তথ্য নেই।
ভুক্তভোগীরা অফিসে ঠিকভাবে চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী মেল পাড়ার  আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কালুর ৯০ হাজার টাকার গরু এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ডা. রিপা রাণীর নিকট চিকিৎসা করে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ইনজেকশন ও  ওষুধ সেবন করান পরদিন তার গরুটি মারা যায়। মহিশালবাড়ী ফকিরপাড়ার লুথুর ছেলে আবু ৮০ হাজার টাকা মূল্যের আক্রান্ত গরু নিয়ে বুধবার সাড়ে ১১ টার সময় গোদাগাড়ী পশু হাসপাতালে যান। ডা. রিপ রাণীর নিকট দেখা করেন কিন্তু তিনি গরুর  কোন চিকিৎসা না দিয়ে বাইরে কাজ আছে বলে বেরিয়ে যান। চিকিৎসা না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে  হোমিও চিকিৎসা করছেন।
এককই হয়েছে শিবসাগর পাড়া আব্দুল লতিফের ক্ষেত্রে তার ৭০ হাজার টাকার গরুকে হোমিও চিকিৎসা করছেন। গত বুধবার এলএসডি আক্রান্ত   ৩ টি গরুর ও অন্য রোগে  আক্রান্ত ২ গরুর চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন গোগ্রাম ইউনিয়নের  বসন্তপুর  শিয়ালা গ্রামের হাজেরা বেগম তার সাথে কথা এ প্রতিবেদকের  তাকে যে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন ৪/৫ হাজার টাকার দামী ওষুধ ও ইনজেকশন। ব্যবস্থা পত্র পেয়ে তার চোখেমুখে কালো মেঘ অফিস থেকে মিকচার ছাড়া কিছুই দেয়া হয় নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই রোগটি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী, হাটপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, শিবসাগর,   মাদারপুর, লালবাগ, বাইপাস, কুঠিপাড়া, সিএন্ডবি, গঠের মাঠ, উপজেলার বসন্তপুর, চাঁপাল, রাজবাড়ি, হাসাবপুর, আইহাই রাহী,  হেলিপ্যাড, কাঁকনহাট,  মোল্লাপাড়া, নাজিরপুর, প্রেমতলী, পিরিজপুর, হাতিবান্ধা, চম্পকনগর,  রিশিকুল, পাকড়ী, হুজরাপুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই রোগ ব্যপকহারে দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক ও গৃহস্থরা।উপজেলার অনেক খামারি ও কৃষক ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত গরুগুলোকে খুবই কম দামে স্থানীয় কসাইদের নিকট বিক্রি করছেন । তারা রাতের আধারে জবাই করে মাংস বাজারে দেদারসে বিক্রি করছে।এই রোগাক্রান্ত গবাদিপুর মাংস খেয়ে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন : রাজশাহীতে যুবককে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক, শেষ রক্ষা হলো না : গ্রেপ্তার ৪
জানা গেছে, মারাত্মক  এ রোগ মশা, মাছি, আঠালি বা ব্যবহৃত নিভেল ও সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রান্ত পশু থেকে সুস্থ পশুর শরীরে ছড়াচ্ছে। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক না থাকায় দিশেহারা গৃহস্থ ও খামারিরা। এই লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভয়ংকর একটি রোগ। এখন এই রোগ গোদাগাড়ী  উপজলায়  মহামারী রুপে ধারণ করেছে। রোগটি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই। এ রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর  প্রথমে গরুর শরীর গরম হয়ে জ্বর উঠে যায়। তারপর শরীরের কয়েক জায়গায় ছোট ছোট গুটি উঠতে শুরু করে। কোন কোন গরুতে অনেকগুলি বড় বড় গুটি হচ্ছে, গরুরশ্বাস কষ্ট হচ্ছে।  একপর্যায়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। শরীর ফুলে যাচ্ছে এবং গরুর খাবারে অনীহা দেখা দিচ্ছে, এতে গরু দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানান খামারিরা। কোন কোন গরু মারা যাচ্ছে। গৃহস্থ ও খামারিদের অভিযোগ, রোগটি বর্তমানে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গোদাগাড়ী উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসে এসে  তারা চিকিৎসা  না পেয়ে উপায়হীনভাবে গ্রামের কিছু পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এতে গরু সুস্থ না হয়ে বরং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাছাড়া প্রানিসম্পদ অফিসে এককই সিরিঞ্জ দিয়ে একাধিক গরুকে ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগও করছেন।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার খামারি মর্জিনা খাতুন বলেন, আমার পোষা ৫ মাস বয়সী একটি গরু এই রোগে হঠাৎ করেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। শরীরে প্রচন্ড জ্বর থাকায় ঠিকমত খাওয়া ও চলাফেরা করতে পারছে না। পুরো শরীর গোটা হয়ে যাওয়ায় গরু ব্যাথায় জর্জরিত হয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছে। গরু নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে চিকিৎসা  সেবা চলছে  সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখছেন না। সব ওষুধ দোকান থেকে কিনতে  হয়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন তার তার গরুর জন্য ক্রিমি ও জ্বরের জন্য ডা. রিপা রাণী নিকট গত মঙ্গলবার অফিসে যান। তিনি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। জুলাই মাসে যদি এসব ওষুধ শেষ হয়ে যায় এটা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি জানান।
হুজরাপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার জানান, আমার ভাই শাহাজামালের  টি গরু এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছে কোন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা। এলাকায় ব্যাপকহারে গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। হোমিও চিকিৎসা একমাত্র ভরসা বলে তিনি জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) একটি লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন।  ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রিপা রাণীর নিজে ওষুধের রেজিষ্টার লিখার কথা থাকলেও তিনি না লিখে তিন মাসের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ২ জন বাইরের ব্যক্তিকে দিয়ে এখাতাটি লিখা হচ্ছে। অনাভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে হাসপাতালে বসিয়ে রেখে ইনজেকশন পুশ করা হচ্ছে, তারা এককই সিরিঞ্জ তারা একাধিক আক্রান্ত গরুর গায়ে ইনজেকশন পুশ করছেন।  এতে লাভের চেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে।
মেলপাড়ার সাহাবউদ্দিন  জানান, পশু হাসপাতালে এসেও ঘুরে যাচ্ছি ডাক্তার পাচ্ছি না । এখানে নাকি কোনো ডাক্তার নেই। এ অবস্থায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছি।
গোদাগাড়ী  উপজেলার পল্লী চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, গত ৩  সপ্তাহ যাবত গরুর  লাম্পি স্কিন রোগের সংক্রমণ ব্যপকহারে  দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কয়েকটি করে এমন রোগে আক্রান্ত গরু দেখছি। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, এন্টি হিস্টামিন এবং জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।
গত বুধবার সকাল ১১ টার সময় গোদাাগাড়ী উপজেলা অফিসে গিয়ে দেখা যায়  প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপা রানী দাস উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকজনের মাঝে পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন, ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন, দামি দামি ওষুধ ও ইনজেকশন, সবগুলি  অফিসের পাশের ওষুধের দোকান থেকে কিনে নেয়ার পরামার্শ দিচ্ছেন। সামনের  চিয়ারে বসে আছেন কয়েকজন ওষুধ কোম্পানীর লোক, তাদের ঔষুধ লিখার অনুরোধ করছেন, এর জন্য ওষুধ, কলম, প্যাড ও উপহার সামগ্রী  দিচ্ছেন। পশুর এল.এস.ডি রোগের তথ্য চাইলে তিনি দায়সারাগোছের তথ্য দিয়েছেন।  বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবায় এক একটি ব্যবস্থাপত্রে ৪/৬ হাজার জেন্ট্রি কম্পোনীর ওষুধ লিখে দিচ্ছেন।  অফিস থেকে মিকচার ওষুধ ছাড়া অন্য ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। গরীব মানুষ যাদের নুন আন্তে পান্না ফুরায়  তারা এত দামী ওষুধ কিনবে কি করে। গত ২ আগষ্ট  ডা. রিপা রাণী রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যে তথ্য দিয়েছেন নতুন আক্রান্ত মাত্র ১২  এবং পূর্বের আক্রান্ত ৯২,  কোন গবাদিপশু মারা যায় নি, চিকিৎসা করেছেন ১০ টি গরু বর্তমানে কোন গরুকে টিকা প্রদান করেন নি। সুস্থ্য হয়েছে ৮ টি গরুে, সচেতনতা মূলক সভা করেছেন ২ টি, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা, ১ হাজারের বেশী গরু আক্রান্ত হয়েছে। কিছু গরু মারা গেলেও তিনি রিপোর্টে তা রহস্যজনক কারনে গোপন করেছেন।
রাজাবাড়ী গ্রামের কৃষক নাসির হোসেন জানান, আমার একটি বড় গরুর গলার নিচে ফুলে ও পিঠে  সারা গায়ে ফোসকা বের হয়েছে। গরুটির অবস্থা খুবই খারাপ। শরীর পচে গর্ত হয়ে যাচ্ছে। সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ করেও সুস্থ্য হয়নি গরুটি।
কৃষক ও গৃহস্থদের অভিযোগ, রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোন  কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে গ্রামের কিছু পশু ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এতে গরু সুস্থ না হয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের পর গ্রাম। গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।
ডা. আরিফ বলেন, প্রতিদিন এই রোগে আক্রান্ত গরু আমাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসছে। আমরা তাদের ভ্যাকসিন ও ঔষধ দিয়ে সতকর্তা মূলক পরামর্শ দিচ্ছি। এই রোগ সাধারণত মশা-মাছি বা ময়লা আবর্জনা থেকে হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে গরুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাছুর গরু বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এই রোগে গরু মরার শঙ্খা খুবই কম। এই রোগ সারতে সময় লাগে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে গোদাগাড়ী  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকায় অফিস চেন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সেবা নিতে আসা লোকজন।
এ সব ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয়  কুমার মাহন্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  বিষয়টি ব্যপারে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। কোন মানুষ যেন গবাদিপশুর চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি শিকার না হয়।  কিছুদিনের মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। অফিসার নিয়োগ হলে এসমস্যা থাকবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (প্রেমতলী) ডা. রাশেদল হাসান শাওন বলেন, যে কোন রোগাক্রান্ত পশুর মাংশে স্বাস্থ্য ঝঁকি থাকে, অনেক রোগাক্রান্ত পশু থেকে মানব দেহে রোগ ছড়ায়। লাম্পি স্কিন রোগে  আক্রান্ত পশু জবাই না করা তার মাংশ না খাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সর্তক বার্তা দেয়া হচ্ছে, কেন না এখানেও স্বাস্থ্য ঝঁকিও  রয়েছে। পৌরসভা ও রাজশাহী সিটিতে গবাদিপশু  জবাই করার পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.  জুলফিকার মোঃ আখতার বলেন, এটা শুধু গোদাগাড়ী নয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগে কোনো গরু আক্রান্ত হয়েছে। গোদাগাড়ী একটি বড় উপজেলা, এখানে অনেক গবাদিপশু আছে চিকিসায় কিছুটা সমস্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সে সমস্যা থাকবে না। এ রোগে গবাদিপশু আক্রান্ত হলে প্রথমেই অসুস্থ গরুটিকে আলাদা করতে হবে। মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে, যাতে মশা বা মাছি গরুর শরীরে না বসে। কেননা মশা বা মাছি অসুস্থ গরুটিকে কামড় দিয়ে যদি সুস্থ কোনো গরুকে কামড়ায় তাহলে সেটিও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এ রোগের ফলে মূলত গরু খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে গুটি গুটি ফোঁড়ার মতো হয়ে পেকে পুঁজ বের হয়। একটি গরু সুস্থ হতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। তিনি আরও জানান, ২/৪ আক্রান্ত গরু মারা যায়। ছোট গরুতে ঝঁকি বেশী। এরোগে আক্রান্ত গরুকে ব্যথানাশক ও হাই এন্ট্রিবাইট্রিক ওষুধ দেয়া যাবে না। জ্বর থাকলে প্যারাসিট্যামল দেয়া যেতে পারে। ২৫ গ্রাম নিম পাতা, ৫০ গ্রাম গুড়, খাবারসোডা ৫০ গ্রাম, লবন ২৫ গ্রাম ১ লিটার পানিতে  মিশ্রিত করে সকাল বিকাল ৭ দিন সেবন করা তাড়াতাড়ি উপকার পবেন। যে কোন রোগাক্রান্ত পশু জবাই নিষেধ আছে, তবে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ আক্রান্ত গরুর গুটিগুলি চামড়া ফেলে দিলে স্বাস্থ্য ঝঁকি থাকে না। এধরনের পশুর মাংশ না খাওয়ায় ভাল। সচেতনতা মূলক  লিফলেট পোষ্টার বিতরণ করা হচ্ছে।