ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কতৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে

গোদাগাড়ী পৌরসভার ব্যস্ততম রাস্তায় শীত মৌসুমেও হাটু পরিমান পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৮৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজশাহী জেলার প্রথম শ্রেণির গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক রেলবাজার। এখানে খুব ভোর থেকেই পাইকারি মাছের বাজার বাসায় জনসমাগম ব্যাপক হয়। অপরদিকে একই জায়গায় রয়েছে মাছ, মাংশ, কাঁচা সবজির বাজার। ফলে উপজেলাসহ বাইরের এলাকা থেকে এই বাজারে অসংখ্য জনসাধারনের যাতায়াত হয়।
বেশ কয়েক মাস থেকে এই বাজার থেকে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্য পড়েছে জনসাধারণ।
এই বাজারেই রয়েছে বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ। এখানে পাইকারি মাছ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম হওয়ায় মাছের পানি প্রভাবিত হয়। এসব পানি মাছের হওয়ায় দুর্গন্ধময় হয়। এছাড়াও কাঁচা বাজারের যেসব ব্যবসায়ী আছে তাদেরও ব্যবহৃত পানি এই ড্রেন দিয়ে প্রভাবিহ হতো।
ড্রেনের মুখে গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প হওয়ায় এসব দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বিজিবি কর্তৃপক্ষ। পানি নিষ্কাশনের জন্য গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়রের নিকট বারবার অনুরোধ করেও কোন পরিত্রাণ না পাওয়ায় ড্রেনে বালুর  বস্তা ও বালু ফেলে বন্ধ করে দিয়েছে গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প। রোববার (১৪ জানু) গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিলে আরো দুর্ভোগে পরে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলবাজার থেকে বিজিবি ক্যাম্পের অভিমুখে রয়েছে ড্রেনের মুখ। বিজিবি ক্যাম্পর সামনে যে খাঁড়ি রয়েছে তা ভরাট হয়ে যাওয়াতে পানি সেখানে জমে মাছের আঁসের দুগন্ধময় পানি জমে আছে। এথেকে বাঁচতে বিজিবি কর্তৃপক্ষ ড্রেনের মুখে বালির বস্তা দিয়ে আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। রোববার সকালে সেখানে পুনরায় বালি ভরাট করে দিয়ে পুরো ড্রেন বন্ধ করে দেয় ফলে ড্রেন দিয়ে পানি যেতে না পারায় রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটু পানি গড়ে যাচ্ছে।
বর্ষকালে রাস্তায় পানি না জমলেও এই ড্রেন বন্ধ হওয়ায় বাজারে প্রবেশের মূল মুখেই রাস্তায় পানি জমে আছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ কষ্ঠ করেই পানির মধ্যে পা ডুবিয়ে বাজারে যাচ্ছে। এছাড়াও বাজারে আসা মিনি ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, সাইকেল-মোটরসাইকেল পানির উপর দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ওই এলাকার স্কুল-কলেজে পড়া ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় দোকনদারের অভিযোগ করছেন, ড্রেন বন্ধ হয়ে পানি জমে থাকায় কোন কাস্টমার আমাদের দোকানে আসছে না। পৌর মেয়র আমাদের নিকট থেকে নিয়মিত কর নিলেও সে এই সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না এটি আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয়।
মৎস্য আড়তদারগন  অভিযোগ করে বলেন, আমরা সকলে মিলে ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার সমাধানের জন্য কয়েকবার গেছি। তিনি সমস্যা সমাধানে তেমন কোন গুরুত্ব দেননি। তিনি এখানে ড্রেন করে দেওয়ার জন্য আমাদের নিকট টাকা চেয়েছেন। আমরা নিয়মিত পৌর ট্যাক্স-কর দিয়ে আসছি। এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স নিয়মিত নবায়ন করি। অনেক টাকা আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ দেয় তবুও তিনি আমাদের নিকট টাকা চেয়ে কাজ করে দেবার কথা বলেছেন। এই কাজটি পৌর মেয়রেরেই করে দেওয়ার দায়িত্ব।
রেলবাজার মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি যাওয়ার ড্রেনটি বিজিবি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরাসহ এলাকার জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। আমরাসহ বিজিবি কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের জন্য গোদাগাড়ী পৌর মেয়রের নিকট গিয়েছি। তিনার কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমরা দেখিনি। তিনি আমাদের নিকট টাকা চেয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই বলে জানান।
গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার সোলাইমান বলেন, মাছের পানির পঁচা দুর্গন্ধে আমাদের এখানে থাকা খুবই মুশকিল হয়ে যাচ্ছিলো। কয়েকবার পৌর মেয়র অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের কাছে গিয়েছি কোন সমাধান পাইনি। এছাড়াও বাজার কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে অবহিত করেছিলাম। বিজিবি ক্যাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সিও স্যার আমাদের ক্যাম্পে আসলে দুর্গন্ধের বিষয়টি তার নজরে পড়লে তার নির্দেশনায় ড্রেনের মুখ বালি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে দেখি রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটু সমান পানি প্রভাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পুণরায় মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ড্রেন কেটে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। আবারো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এবিষয়ে মুঠোফোনে গোদাগাড়ী পৌর মেয়র অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাসের জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড্রেন করতে গেলে সময়ের ব্যাপার। প্লানিংপাস অর্থ বরাদ্দসহ নানান বিষয় আছে। আমি বাজার কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম তারা কিছু টাকা দিয়ে আপাতত সমস্যা নিরসনের জন্য তবে কেউ তারা রাজি হয়নি। আমি এখন ঢাকায় আছি। ফিরে এসে আবারও বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

কতৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে

গোদাগাড়ী পৌরসভার ব্যস্ততম রাস্তায় শীত মৌসুমেও হাটু পরিমান পানি

আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪
রাজশাহী জেলার প্রথম শ্রেণির গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক রেলবাজার। এখানে খুব ভোর থেকেই পাইকারি মাছের বাজার বাসায় জনসমাগম ব্যাপক হয়। অপরদিকে একই জায়গায় রয়েছে মাছ, মাংশ, কাঁচা সবজির বাজার। ফলে উপজেলাসহ বাইরের এলাকা থেকে এই বাজারে অসংখ্য জনসাধারনের যাতায়াত হয়।
বেশ কয়েক মাস থেকে এই বাজার থেকে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্য পড়েছে জনসাধারণ।
এই বাজারেই রয়েছে বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ। এখানে পাইকারি মাছ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম হওয়ায় মাছের পানি প্রভাবিত হয়। এসব পানি মাছের হওয়ায় দুর্গন্ধময় হয়। এছাড়াও কাঁচা বাজারের যেসব ব্যবসায়ী আছে তাদেরও ব্যবহৃত পানি এই ড্রেন দিয়ে প্রভাবিহ হতো।
ড্রেনের মুখে গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প হওয়ায় এসব দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বিজিবি কর্তৃপক্ষ। পানি নিষ্কাশনের জন্য গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়রের নিকট বারবার অনুরোধ করেও কোন পরিত্রাণ না পাওয়ায় ড্রেনে বালুর  বস্তা ও বালু ফেলে বন্ধ করে দিয়েছে গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প। রোববার (১৪ জানু) গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিলে আরো দুর্ভোগে পরে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলবাজার থেকে বিজিবি ক্যাম্পের অভিমুখে রয়েছে ড্রেনের মুখ। বিজিবি ক্যাম্পর সামনে যে খাঁড়ি রয়েছে তা ভরাট হয়ে যাওয়াতে পানি সেখানে জমে মাছের আঁসের দুগন্ধময় পানি জমে আছে। এথেকে বাঁচতে বিজিবি কর্তৃপক্ষ ড্রেনের মুখে বালির বস্তা দিয়ে আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। রোববার সকালে সেখানে পুনরায় বালি ভরাট করে দিয়ে পুরো ড্রেন বন্ধ করে দেয় ফলে ড্রেন দিয়ে পানি যেতে না পারায় রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটু পানি গড়ে যাচ্ছে।
বর্ষকালে রাস্তায় পানি না জমলেও এই ড্রেন বন্ধ হওয়ায় বাজারে প্রবেশের মূল মুখেই রাস্তায় পানি জমে আছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ কষ্ঠ করেই পানির মধ্যে পা ডুবিয়ে বাজারে যাচ্ছে। এছাড়াও বাজারে আসা মিনি ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, সাইকেল-মোটরসাইকেল পানির উপর দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ওই এলাকার স্কুল-কলেজে পড়া ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় দোকনদারের অভিযোগ করছেন, ড্রেন বন্ধ হয়ে পানি জমে থাকায় কোন কাস্টমার আমাদের দোকানে আসছে না। পৌর মেয়র আমাদের নিকট থেকে নিয়মিত কর নিলেও সে এই সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না এটি আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয়।
মৎস্য আড়তদারগন  অভিযোগ করে বলেন, আমরা সকলে মিলে ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার সমাধানের জন্য কয়েকবার গেছি। তিনি সমস্যা সমাধানে তেমন কোন গুরুত্ব দেননি। তিনি এখানে ড্রেন করে দেওয়ার জন্য আমাদের নিকট টাকা চেয়েছেন। আমরা নিয়মিত পৌর ট্যাক্স-কর দিয়ে আসছি। এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স নিয়মিত নবায়ন করি। অনেক টাকা আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ দেয় তবুও তিনি আমাদের নিকট টাকা চেয়ে কাজ করে দেবার কথা বলেছেন। এই কাজটি পৌর মেয়রেরেই করে দেওয়ার দায়িত্ব।
রেলবাজার মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি যাওয়ার ড্রেনটি বিজিবি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরাসহ এলাকার জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। আমরাসহ বিজিবি কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের জন্য গোদাগাড়ী পৌর মেয়রের নিকট গিয়েছি। তিনার কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমরা দেখিনি। তিনি আমাদের নিকট টাকা চেয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই বলে জানান।
গোদাগাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার সোলাইমান বলেন, মাছের পানির পঁচা দুর্গন্ধে আমাদের এখানে থাকা খুবই মুশকিল হয়ে যাচ্ছিলো। কয়েকবার পৌর মেয়র অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের কাছে গিয়েছি কোন সমাধান পাইনি। এছাড়াও বাজার কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে অবহিত করেছিলাম। বিজিবি ক্যাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সিও স্যার আমাদের ক্যাম্পে আসলে দুর্গন্ধের বিষয়টি তার নজরে পড়লে তার নির্দেশনায় ড্রেনের মুখ বালি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে দেখি রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটু সমান পানি প্রভাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পুণরায় মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে ড্রেন কেটে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। আবারো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এবিষয়ে মুঠোফোনে গোদাগাড়ী পৌর মেয়র অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাসের জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড্রেন করতে গেলে সময়ের ব্যাপার। প্লানিংপাস অর্থ বরাদ্দসহ নানান বিষয় আছে। আমি বাজার কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম তারা কিছু টাকা দিয়ে আপাতত সমস্যা নিরসনের জন্য তবে কেউ তারা রাজি হয়নি। আমি এখন ঢাকায় আছি। ফিরে এসে আবারও বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
বাখ//আর