ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্রঅঞ্চলে রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্কে কৃষক : রেহায় পাচ্ছে না শিক্ষার্থী

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
  • / ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ক্ষেতে ইরি বোরা ধান কাটতে গিয়ে এই সাপের কামড়ে অন্তত পাঁচজন কৃষক মারা গেছেন।  কয়েকটি সাপ পিটিয়ে মেরেছেন কৃষকরা। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ২  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁকা ধানের ক্ষেতে ইঁদুর শিকার করে রাসেল ভাইপার। এ কারণে  ধানের জমিতে এই সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত রাসেল ভাইপারের কামড়ে আহত হয়ে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে।

ইদানিং বরেন্দ্র অঞ্চলের   মাঠজুড়ে ইরিবোরা ধানের ক্ষেতে প্রায়ই দেখা মিলছে বিষধর রাসেল ভাইপার। চলতি মাসে প্রায়টি অন্তত ২০টি রাসেল ভাইপার সাপকে পিটিয়ে মেরেছে কৃষকরা। এর মধ্যে সামাউন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০১৩ সালে হঠাৎ দেখা মেলে রাসেল ভাইপার সাপের। এরপর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও  রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং তানোর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। সাপের কামড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুও হয়। ২০১৭ ও ২০১৮ পর ২০১৯ সালে আবারো রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব দেখা দেয়। ২০২০,২০২১,২০২২ ও ২০২৩ সালে এ সাপের উপদ্রব কম দেখা গেলেও চলতি বছর ফের গোদাগাড়ীতে উপদ্রব বেড়েছে।

কৃষকগণ জানিয়েছেন, উপজেলার হাবাসপুর, ভাজনপুর, তুলশিপুর, চরআষাড়িয়াদহ,  মধ্যচর, কানাপাড়া, পোতাহার পালসা, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সুলতানগঞ্জ কাচারপাড়া, কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া কেশবপুর, সাহাপুকুর, পাহাড়পুর, ধনঞ্চয়পুর, গোমা, চালনা, ভূষণা, রিশিকুল, পাকড়ী গ্রামে রাসেল ভাইপার দেখা গেছে। গোদাগাড়ীর মাঠে মাঠে এখন ধান কাটা মাড়াই চলছে। ধানের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষধর এ সাপ। ফলে মাঠে ধান কাটা থেকে অন্যান্য কাজে মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

এদিকে গোদাগাড়ী ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা সামাউন গত (৫ মে বুধবার) পদ্মা নদীর ওপারে পাঁকা ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপারের কামড়ে সাথে সাথে তার মূত্যু হয়। (১৮ মে মঙ্গলবার) পোতাহার (পালসা) সকাল ৬টা সময় ধান ক্ষেতে কৃষকরা রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। ১৬ মে রোববার) গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশে সারাংপুর কাচারীপাড়া কৃষকরা বোরো পাঁকা ধান কাটছিল এসময় ফারুক আহমেদ নামে এক কৃষক সাপটি দেখতে পেলে সবাই মিলে সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলে। (১৮ ও ১৯ মে রোববার) দুপুরে পৌরসভার কুঠিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে দুইদিনে রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে স্থানীয় জনতা সাপ মেরে ফেলে।

২০১৯ সালে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোমিন আলী গত ২২ সেপ্টেম্বর ধানক্ষেত পরিচর্যা জন্য নিজের জমিতে যান। পরে তাকে কামড় দেয় রাসেল ভাইপার। তিনি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গোদাগাড়ী উপজেলান পরিষদের নবনির্বাচিত  চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল  বলেন, বন্যার সময় রাসেল ভাইপার সাপটি ভারত থেকে ভেসে আসে। পদ্মা নদীর দু পারে অবস্থান করে। ফলে  এর প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে  গোদাগাড়ীর কোথাও না কোথাও এই বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের পোস্ট দেখতে পাচ্ছি। এই সাপের কামড়ে গোদাগাড়ীতে অনেক জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আগে শুধু পদ্মার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেখা যেত ইদানিং দেখছি সব জায়গায় এই রাসেল ভাইপার অতিরিক্ত হারে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য অন্য সাপের তুলনায় এই সাপটি অনেক বেশি ভয়ানক। দেখতে শান্ত লোধা হলেও এর বিষ খুব মারাত্বক। প্রত্যেক কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের সর্তক থাকার পরামার্শ দেন এই জনপ্রতিনিধি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, মিডিয়ায় এ সাপ কম্পর্কেন জেনেছি। মাঠে সাপের উৎপাতের বিষয়টি আমি শুনেছি। কৃষকরা আমাদের কাছে বিষয়টি বলছেন। আমরা তাদেরকে ভীত না হতে বলেছি। মাঠে ধানক্ষেতে যাওয়ার জন্য লাঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকজনকে কৃষককে ড্রাম বুট দেয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও স্যার কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প করে ২৫-৩০ হাজার কৃষককে ড্রাম বুট(জুতা) দেয়া হবে তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ প্রতিবেদককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎস জানান, ‘রাসেল ভাইপারে কামড়ালে রোগীর দ্রুত কিডনি অকেজো হতে শুরু করে। শরীরে জ্বালা-পোড়া করে এবং কামড়ানোর স্থানে পচন ধরে। রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হবে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে রাসেল ভাইপারের এন্টি ভেনম থাকলেও তা সেভাবে কাজ করে না। ২০১৫ সালের দিকে আমরা যখন প্রথম রাসেল ভাইপারে কামড়ানো রোগী পেয়েছিলাম।

অন্য সাপের চেয়ে এর দাঁত দুইটা অনেক বড়। অন্য সাপে কামড়ালে বিষটা রক্তের সাথে মিশে সঞ্চালন করে। কিন্তু এই সাপে কামড়ালে খুব দ্রুত সময়ে মধ্যে মাংসের  ভেতর প্রবেশ করে নিচ্ছে ফলে খুব দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে না পারলে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না আর বাঁচলেও কামড়ানো জায়গার মাংস কেটে ফেলতে হচ্ছে এবং এর ধকল সামলাতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগছে।

এদিকে  বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের দংশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত  সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে তাকে সাপে দংশন করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিনুর রহমান সাব্বির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়।

এ বিষয়ে সাব্বিরের বন্ধু রাকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাগরিবের নামাজ শেষে কয়েক বন্ধু মোক্তার বাজার সংলগ্ন পদ্মার পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সেখানে সবাই জিলাপি খাচ্ছিলাম। জিলাপি খাওয়া শেষে আমাদের মধ্যে একজন কাগজের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দেয়। সাব্বির হাত মোছার জন্য ঐ প্যাকেটের কাগজটা তোলার সময় বিষধর রাসেল ভাইপার তাকে কামড় দেয়। তখন সাপটিকে মেরে আমরা বন্ধুরা তাকে আধাঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষমেশ তাকে আর বাঁচানো গেল না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহম্মেদ জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মারা গেছেন তার মৃত্যুর কারণ রাসেল ভাইপার সাপের দংশন। এই সাপে কাউকে দংশন করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক বলেন, সাব্বির চারঘাট থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস এবং পদ্মার পাড়ে টিউশন করাত। সেখানেই তাকে বিষধর সাপে দংশন করেছিল। এই সাপের ভ্যাক্সিন শহরের হাসপাতালে না রেখে গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটা হাসপাতালে অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখলে মানুষ দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে পারবে সময় নিয়ে শহরে যেতে হবে না এবং এত মানুষের হয়তো প্রাণ যাবে না। এই বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্রঅঞ্চলে রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্কে কৃষক : রেহায় পাচ্ছে না শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ক্ষেতে ইরি বোরা ধান কাটতে গিয়ে এই সাপের কামড়ে অন্তত পাঁচজন কৃষক মারা গেছেন।  কয়েকটি সাপ পিটিয়ে মেরেছেন কৃষকরা। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ২  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁকা ধানের ক্ষেতে ইঁদুর শিকার করে রাসেল ভাইপার। এ কারণে  ধানের জমিতে এই সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত রাসেল ভাইপারের কামড়ে আহত হয়ে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে।

ইদানিং বরেন্দ্র অঞ্চলের   মাঠজুড়ে ইরিবোরা ধানের ক্ষেতে প্রায়ই দেখা মিলছে বিষধর রাসেল ভাইপার। চলতি মাসে প্রায়টি অন্তত ২০টি রাসেল ভাইপার সাপকে পিটিয়ে মেরেছে কৃষকরা। এর মধ্যে সামাউন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০১৩ সালে হঠাৎ দেখা মেলে রাসেল ভাইপার সাপের। এরপর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও  রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং তানোর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। সাপের কামড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুও হয়। ২০১৭ ও ২০১৮ পর ২০১৯ সালে আবারো রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব দেখা দেয়। ২০২০,২০২১,২০২২ ও ২০২৩ সালে এ সাপের উপদ্রব কম দেখা গেলেও চলতি বছর ফের গোদাগাড়ীতে উপদ্রব বেড়েছে।

কৃষকগণ জানিয়েছেন, উপজেলার হাবাসপুর, ভাজনপুর, তুলশিপুর, চরআষাড়িয়াদহ,  মধ্যচর, কানাপাড়া, পোতাহার পালসা, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সুলতানগঞ্জ কাচারপাড়া, কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া কেশবপুর, সাহাপুকুর, পাহাড়পুর, ধনঞ্চয়পুর, গোমা, চালনা, ভূষণা, রিশিকুল, পাকড়ী গ্রামে রাসেল ভাইপার দেখা গেছে। গোদাগাড়ীর মাঠে মাঠে এখন ধান কাটা মাড়াই চলছে। ধানের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষধর এ সাপ। ফলে মাঠে ধান কাটা থেকে অন্যান্য কাজে মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

এদিকে গোদাগাড়ী ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা সামাউন গত (৫ মে বুধবার) পদ্মা নদীর ওপারে পাঁকা ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপারের কামড়ে সাথে সাথে তার মূত্যু হয়। (১৮ মে মঙ্গলবার) পোতাহার (পালসা) সকাল ৬টা সময় ধান ক্ষেতে কৃষকরা রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। ১৬ মে রোববার) গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশে সারাংপুর কাচারীপাড়া কৃষকরা বোরো পাঁকা ধান কাটছিল এসময় ফারুক আহমেদ নামে এক কৃষক সাপটি দেখতে পেলে সবাই মিলে সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলে। (১৮ ও ১৯ মে রোববার) দুপুরে পৌরসভার কুঠিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে দুইদিনে রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে স্থানীয় জনতা সাপ মেরে ফেলে।

২০১৯ সালে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোমিন আলী গত ২২ সেপ্টেম্বর ধানক্ষেত পরিচর্যা জন্য নিজের জমিতে যান। পরে তাকে কামড় দেয় রাসেল ভাইপার। তিনি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গোদাগাড়ী উপজেলান পরিষদের নবনির্বাচিত  চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল  বলেন, বন্যার সময় রাসেল ভাইপার সাপটি ভারত থেকে ভেসে আসে। পদ্মা নদীর দু পারে অবস্থান করে। ফলে  এর প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে  গোদাগাড়ীর কোথাও না কোথাও এই বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের পোস্ট দেখতে পাচ্ছি। এই সাপের কামড়ে গোদাগাড়ীতে অনেক জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আগে শুধু পদ্মার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেখা যেত ইদানিং দেখছি সব জায়গায় এই রাসেল ভাইপার অতিরিক্ত হারে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য অন্য সাপের তুলনায় এই সাপটি অনেক বেশি ভয়ানক। দেখতে শান্ত লোধা হলেও এর বিষ খুব মারাত্বক। প্রত্যেক কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের সর্তক থাকার পরামার্শ দেন এই জনপ্রতিনিধি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, মিডিয়ায় এ সাপ কম্পর্কেন জেনেছি। মাঠে সাপের উৎপাতের বিষয়টি আমি শুনেছি। কৃষকরা আমাদের কাছে বিষয়টি বলছেন। আমরা তাদেরকে ভীত না হতে বলেছি। মাঠে ধানক্ষেতে যাওয়ার জন্য লাঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকজনকে কৃষককে ড্রাম বুট দেয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও স্যার কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প করে ২৫-৩০ হাজার কৃষককে ড্রাম বুট(জুতা) দেয়া হবে তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ প্রতিবেদককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎস জানান, ‘রাসেল ভাইপারে কামড়ালে রোগীর দ্রুত কিডনি অকেজো হতে শুরু করে। শরীরে জ্বালা-পোড়া করে এবং কামড়ানোর স্থানে পচন ধরে। রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হবে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে রাসেল ভাইপারের এন্টি ভেনম থাকলেও তা সেভাবে কাজ করে না। ২০১৫ সালের দিকে আমরা যখন প্রথম রাসেল ভাইপারে কামড়ানো রোগী পেয়েছিলাম।

অন্য সাপের চেয়ে এর দাঁত দুইটা অনেক বড়। অন্য সাপে কামড়ালে বিষটা রক্তের সাথে মিশে সঞ্চালন করে। কিন্তু এই সাপে কামড়ালে খুব দ্রুত সময়ে মধ্যে মাংসের  ভেতর প্রবেশ করে নিচ্ছে ফলে খুব দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে না পারলে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না আর বাঁচলেও কামড়ানো জায়গার মাংস কেটে ফেলতে হচ্ছে এবং এর ধকল সামলাতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগছে।

এদিকে  বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের দংশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত  সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে তাকে সাপে দংশন করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিনুর রহমান সাব্বির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়।

এ বিষয়ে সাব্বিরের বন্ধু রাকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাগরিবের নামাজ শেষে কয়েক বন্ধু মোক্তার বাজার সংলগ্ন পদ্মার পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সেখানে সবাই জিলাপি খাচ্ছিলাম। জিলাপি খাওয়া শেষে আমাদের মধ্যে একজন কাগজের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দেয়। সাব্বির হাত মোছার জন্য ঐ প্যাকেটের কাগজটা তোলার সময় বিষধর রাসেল ভাইপার তাকে কামড় দেয়। তখন সাপটিকে মেরে আমরা বন্ধুরা তাকে আধাঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষমেশ তাকে আর বাঁচানো গেল না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহম্মেদ জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মারা গেছেন তার মৃত্যুর কারণ রাসেল ভাইপার সাপের দংশন। এই সাপে কাউকে দংশন করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক বলেন, সাব্বির চারঘাট থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস এবং পদ্মার পাড়ে টিউশন করাত। সেখানেই তাকে বিষধর সাপে দংশন করেছিল। এই সাপের ভ্যাক্সিন শহরের হাসপাতালে না রেখে গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটা হাসপাতালে অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখলে মানুষ দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে পারবে সময় নিয়ে শহরে যেতে হবে না এবং এত মানুষের হয়তো প্রাণ যাবে না। এই বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরী।