ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গোদাগাড়ীতে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

 রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিল আন্দোলনের। আর এই ভাষা আন্দোলনকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। এই ইতিহাস বাংলাদেশের অনেকেরই জানা। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে আরও অনেক সংগ্রামের ইতিহাস।
ভাষা থেকে যেভাবে আন্দোলনের সূচনাঃ
১৯৪৭ সালে যখন দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল তার আগেই আসলে শুরু হয়েছিল ভাষা নিয়ে বিতর্ক। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক তাদের ভাষা আন্দোলন-ইতিহাস ও তাৎপর্য বইয়ে লিখেছেন, “প্রথম লড়াইটা প্রধানত ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ”।
এই বইটির বর্ণনা অনুযায়ী দেশভাগের আগেই চল্লিশের দশকের শুরুতেই সাহিত্যিকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সেসময় বাঙালী মুসলমান সাহিত্যিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের মধ্যে বাংলা, উর্দু, আরবি ও ইংরেজি এই চারটি ভাষার পক্ষ-বিপক্ষে নানান মত ছিল।
 এ উপলক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোদাগাড়ী উপজেলা  শহিদ মিনারে রাত ১২ টা ১ মিনিটে ভাষা শদীদের  ফুল দিয়ে স্মরণ করা হয়। সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, বেসরকারী,  অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা   পরিষদ নতুন অডিটারিয়ামে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলামের  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অশোক কুমার চৌধুরী, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ আব্দুল মতিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি প্রমূখ। অনুষ্ঠানের  শেষে  চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বই উপহার প্রদান   হয়।
দিবসটি উপলক্ষে অনুরুপ কর্মসূচি পালন করেন, গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ, মহিশালবাড়ী  মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,  গুণিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ,  রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়,  কাশিমপুর একে ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়,  রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান চিত্রাংকন,  রচনা প্রতিযোগিতাসহ  বিভিন্ন কর্মসূচ পালন করে বলে জানা গেছে। এলাকার শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে গোদাগাড়ী ফুলকুঁড়ি একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিরতণ করা হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে ফুলকুঁড়ি একাডেমি ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
পরে প্রতিযোগিতার চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি অংশগ্রহণ কারিদের মূল্যায়ন করে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চিত্রাঙ্কনে পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, নার্সারি শ্রেণির সাজিয়া প্রথম, আব্দুল আজিজ ২য় ও মুহতাদি সাইম ৩য়। প্রথম শ্রেণির পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, আসিফা খাতুন প্রথম, আরফির রানা ২য় ও সাজিদ তয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, আসিফা খাতুন ১ম, আরফিন রানা ২য় সিয়াম উদ্দিন ৩য়। চতুর্থ শ্রেনীর অরণী প্রথম, আবির ২য় ও মুনিরা ৩য়। এছাড়াও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় আরো তিনজন প্রতিযোগিতা পুরস্কার লাভ করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী ফুলকুঁড়ি একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদ তারিফ, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদসহ অন্যান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোদাগাড়ীতে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিল আন্দোলনের। আর এই ভাষা আন্দোলনকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। এই ইতিহাস বাংলাদেশের অনেকেরই জানা। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে আরও অনেক সংগ্রামের ইতিহাস।
ভাষা থেকে যেভাবে আন্দোলনের সূচনাঃ
১৯৪৭ সালে যখন দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল তার আগেই আসলে শুরু হয়েছিল ভাষা নিয়ে বিতর্ক। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক তাদের ভাষা আন্দোলন-ইতিহাস ও তাৎপর্য বইয়ে লিখেছেন, “প্রথম লড়াইটা প্রধানত ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ”।
এই বইটির বর্ণনা অনুযায়ী দেশভাগের আগেই চল্লিশের দশকের শুরুতেই সাহিত্যিকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সেসময় বাঙালী মুসলমান সাহিত্যিক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের মধ্যে বাংলা, উর্দু, আরবি ও ইংরেজি এই চারটি ভাষার পক্ষ-বিপক্ষে নানান মত ছিল।
 এ উপলক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোদাগাড়ী উপজেলা  শহিদ মিনারে রাত ১২ টা ১ মিনিটে ভাষা শদীদের  ফুল দিয়ে স্মরণ করা হয়। সূর্য্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, বেসরকারী,  অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা   পরিষদ নতুন অডিটারিয়ামে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলামের  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অশোক কুমার চৌধুরী, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ আব্দুল মতিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি প্রমূখ। অনুষ্ঠানের  শেষে  চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বই উপহার প্রদান   হয়।
দিবসটি উপলক্ষে অনুরুপ কর্মসূচি পালন করেন, গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ, মহিশালবাড়ী  মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,  গুণিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ,  রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়,  কাশিমপুর একে ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়,  রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান চিত্রাংকন,  রচনা প্রতিযোগিতাসহ  বিভিন্ন কর্মসূচ পালন করে বলে জানা গেছে। এলাকার শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে গোদাগাড়ী ফুলকুঁড়ি একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিরতণ করা হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে ফুলকুঁড়ি একাডেমি ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
পরে প্রতিযোগিতার চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি অংশগ্রহণ কারিদের মূল্যায়ন করে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চিত্রাঙ্কনে পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, নার্সারি শ্রেণির সাজিয়া প্রথম, আব্দুল আজিজ ২য় ও মুহতাদি সাইম ৩য়। প্রথম শ্রেণির পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, আসিফা খাতুন প্রথম, আরফির রানা ২য় ও সাজিদ তয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, আসিফা খাতুন ১ম, আরফিন রানা ২য় সিয়াম উদ্দিন ৩য়। চতুর্থ শ্রেনীর অরণী প্রথম, আবির ২য় ও মুনিরা ৩য়। এছাড়াও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় আরো তিনজন প্রতিযোগিতা পুরস্কার লাভ করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী ফুলকুঁড়ি একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদ তারিফ, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদসহ অন্যান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।