ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গাজার গণহত্যার সহযোগীদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথাব্যথা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪
  • / ৪৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যারা (যুক্তরাষ্ট্র) গাজার গণহত্যার সহযোগী তাদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যারা গাজার গণহত্যা ঘটাচ্ছে, তারা কোথায়, কাকে নিষেধাজ্ঞা দিলো, এটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।

বুধবার (২২ মে) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক উপকমিটি আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়’ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরের নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডোনাল্ড আসলেন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে। সেখানে আবার তিনি যেতে না যেতেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আগে ৭ জনের ওপর, এখন আবার একজন। আমি এই কথাই বলতে চাই, যারা গাজার গণহত্যাকে এবং যারা গণহত্যা ঘটাচ্ছে, তাদের এই নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত ভূমিকাকে গণহত্যা বলতে চায় না, তারা কোথায় কাকে নিষেধাজ্ঞা দিলো তাতে আমাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই।

তিনি বলেন, সাড়ে ৩৫ হাজর মানুষকে নির্বিচারে, নিষ্ঠুরভাবে অবিরাম হত্যা করছে গাজায়। ঘোষণা দিয়ে গণহত্যা করছে। হলোকাস্টের সময় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যার কথা ইতিহাসে আছে। এখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যা করছে, তা হিটলারের চেয়েও ভয়াবহ।

এই গণহত্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা প্রটেস্টরদের এভাবে হামলা করে, তাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার… যারা গণহত্যাকে অস্বীকার করে, তারা আমাদের কাকে নিষেধাজ্ঞা, ভীসানীতি দিলো, সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।

সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়মে চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী, কিন্তু তাদের আলাদা নিয়মকানুন আছে। সেখানে যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, সেটা প্রমাণিত হলে কোনও দিনও ছাড় দেওয়ার লোক বঙ্গবন্ধুর কন্যা না।

‘ভারতে সালাহউদ্দিন নিরাপদে কীভাবে আছেন’
সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, ‘বন্ধুরাষ্ট্রে গিয়ে নিরাপত্তা নাই’। আপনাদের কাছে ভারত যদি শত্রুরাষ্ট্র হয়, সেখানে সালাহউদ্দিন এতদিন নিরাপদে কীভাবে আছেন। তাকে তো কেউ হত্যা করেননি। তার জীবনের তো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি, জীবনের কোনো হানি ঘটেনি। এই ধরনের অপবাদ কেন দিচ্ছে বন্ধুরাষ্ট্রকে?

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন। পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে ‘উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা’ করার সময় ওই বছরের ১১ মে তাকে আটক করে শিলং পুলিশ। তার নামে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। বিচারকি কাজ শেষ হওয়ার পরেও গত আট বছরে বেশি সময় ধরে তিনি মেঘালয়েই অবস্থান করছেন।

আনোয়ারুল আজিমের ঘটনা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কলকাতার নিউটাউনে আমাদের একজন এমপি হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন। গত দুই তিনদিন ধরে তাকে নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিলো। তার পরিবারসহ কেউ জানে না। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে গেছেন। ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। আমাদের একজন এমপি যখন চিকিৎসার জন্য যান, তিনি কিন্তু ভারত সরকারকে জানিয়ে যান না। সেখানকার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গেলে নিরাপত্তার ব্যাপারটি তখনই দেখা হয়। এখানে বন্ধু রাষ্ট্রের…।

তিনি বলেন, তাকে (আনোয়ারুল আজীম) যারা হত্যা করেছে যে ফ্ল্যাটটিতে, সেটি বাংলাদেশের কেউ ভিন্ন নামে ক্রয় করেছে। ওখানে যারা হত্যা করেছে পাঁচ-ছয়জনের মতো, এর মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশের। এই ব্যাপারটি নিয়ে… ‘যার দেখতে নারী, চলন বাঁকা’, এই ধরনের উক্তি করা সমীচীন নয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান, সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুল ইসলামসহ অন্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজার গণহত্যার সহযোগীদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথাব্যথা নেই

আপডেট সময় : ১০:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

যারা (যুক্তরাষ্ট্র) গাজার গণহত্যার সহযোগী তাদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যারা গাজার গণহত্যা ঘটাচ্ছে, তারা কোথায়, কাকে নিষেধাজ্ঞা দিলো, এটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।

বুধবার (২২ মে) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক উপকমিটি আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়’ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরের নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডোনাল্ড আসলেন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে। সেখানে আবার তিনি যেতে না যেতেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আগে ৭ জনের ওপর, এখন আবার একজন। আমি এই কথাই বলতে চাই, যারা গাজার গণহত্যাকে এবং যারা গণহত্যা ঘটাচ্ছে, তাদের এই নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত ভূমিকাকে গণহত্যা বলতে চায় না, তারা কোথায় কাকে নিষেধাজ্ঞা দিলো তাতে আমাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই।

তিনি বলেন, সাড়ে ৩৫ হাজর মানুষকে নির্বিচারে, নিষ্ঠুরভাবে অবিরাম হত্যা করছে গাজায়। ঘোষণা দিয়ে গণহত্যা করছে। হলোকাস্টের সময় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যার কথা ইতিহাসে আছে। এখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যা করছে, তা হিটলারের চেয়েও ভয়াবহ।

এই গণহত্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা প্রটেস্টরদের এভাবে হামলা করে, তাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার… যারা গণহত্যাকে অস্বীকার করে, তারা আমাদের কাকে নিষেধাজ্ঞা, ভীসানীতি দিলো, সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।

সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়মে চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী, কিন্তু তাদের আলাদা নিয়মকানুন আছে। সেখানে যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, সেটা প্রমাণিত হলে কোনও দিনও ছাড় দেওয়ার লোক বঙ্গবন্ধুর কন্যা না।

‘ভারতে সালাহউদ্দিন নিরাপদে কীভাবে আছেন’
সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, ‘বন্ধুরাষ্ট্রে গিয়ে নিরাপত্তা নাই’। আপনাদের কাছে ভারত যদি শত্রুরাষ্ট্র হয়, সেখানে সালাহউদ্দিন এতদিন নিরাপদে কীভাবে আছেন। তাকে তো কেউ হত্যা করেননি। তার জীবনের তো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি, জীবনের কোনো হানি ঘটেনি। এই ধরনের অপবাদ কেন দিচ্ছে বন্ধুরাষ্ট্রকে?

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন। পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে ‘উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা’ করার সময় ওই বছরের ১১ মে তাকে আটক করে শিলং পুলিশ। তার নামে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। বিচারকি কাজ শেষ হওয়ার পরেও গত আট বছরে বেশি সময় ধরে তিনি মেঘালয়েই অবস্থান করছেন।

আনোয়ারুল আজিমের ঘটনা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কলকাতার নিউটাউনে আমাদের একজন এমপি হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন। গত দুই তিনদিন ধরে তাকে নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিলো। তার পরিবারসহ কেউ জানে না। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে গেছেন। ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। আমাদের একজন এমপি যখন চিকিৎসার জন্য যান, তিনি কিন্তু ভারত সরকারকে জানিয়ে যান না। সেখানকার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গেলে নিরাপত্তার ব্যাপারটি তখনই দেখা হয়। এখানে বন্ধু রাষ্ট্রের…।

তিনি বলেন, তাকে (আনোয়ারুল আজীম) যারা হত্যা করেছে যে ফ্ল্যাটটিতে, সেটি বাংলাদেশের কেউ ভিন্ন নামে ক্রয় করেছে। ওখানে যারা হত্যা করেছে পাঁচ-ছয়জনের মতো, এর মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশের। এই ব্যাপারটি নিয়ে… ‘যার দেখতে নারী, চলন বাঁকা’, এই ধরনের উক্তি করা সমীচীন নয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান, সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুল ইসলামসহ অন্যরা।