ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গাজার গণহত্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেন সাউল বলেছেন, হামাসের একজন সক্রিয় জুনিয়র সদস্যের জন্য ১৫ থেকে ২০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

সাউল বলেন, ‘যদি সেটি সত্যি হয় তবে অনানুপাতিক হামলা পরিচালনা করায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অনেক আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ খবর আলজাজিরার।

প্লাস নাইন সেভেনটি টু ম্যাগাজিন ও হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম ‘লোকাল কলে’ দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সাউল। গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে শনাক্ত করতে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স বলেন, এটা ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল অপরীক্ষিত কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমান হারে ব্যবহার করে আসছে। তিনি বলেন, ‘এই গণহত্যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় হচ্ছে এবং তা বেড়েই চলেছে। যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে জোরালো ভূমিকা পালনের প্রকৃত সময় এখনই।’

এদিকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান বলেছেন, পণবন্দি বিষয়ক আলোচনায় তার দেশ অবস্থার পরিবর্তন চায়। তবে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, ইসরায়েল ক্রমাগতভাবে তাদের অনুরোধকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এসব অনুরোধের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, গাজাবাসীর জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করা।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, তারা পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর ৭০৪টি আক্রমণের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। এসব আক্রমণ ও হামলার মধ্যে ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় হতাহতের নজির রয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছে, ৪০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, ৯ হাজার ৯০০ গাছ ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে ৪০টি বাড়ি।

অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শান্তি আলোচনায় খুবই কম অগ্রগতি হয়েছে। কাতারের কর্মকর্তারা বলেন, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে ইসরায়েলের বিরোধিতা আলোচনায় মূল বিষয় হিসেবে আটকে আছে। হামাস বলেছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার না হলে তারা তাদের হাতে থাকা পণবন্দিদের মুক্তি দেবে না।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় থেমে নেই ইসরায়েলি আগ্রাসন। সর্বশেষ গাজার মধ্যাঞ্চলে মাগহাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৫ জন।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৯৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ৭৫ হাজার ৫৭৭ জন। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলায় নিহত হয়েছিল এক হাজার ১৩৯ জন। এ ছাড়া হামাস আরও বেশ কিছু ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে আসে গাজায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজার গণহত্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেন সাউল বলেছেন, হামাসের একজন সক্রিয় জুনিয়র সদস্যের জন্য ১৫ থেকে ২০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

সাউল বলেন, ‘যদি সেটি সত্যি হয় তবে অনানুপাতিক হামলা পরিচালনা করায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অনেক আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ খবর আলজাজিরার।

প্লাস নাইন সেভেনটি টু ম্যাগাজিন ও হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম ‘লোকাল কলে’ দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সাউল। গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে শনাক্ত করতে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স বলেন, এটা ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল অপরীক্ষিত কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমান হারে ব্যবহার করে আসছে। তিনি বলেন, ‘এই গণহত্যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় হচ্ছে এবং তা বেড়েই চলেছে। যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে জোরালো ভূমিকা পালনের প্রকৃত সময় এখনই।’

এদিকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান বলেছেন, পণবন্দি বিষয়ক আলোচনায় তার দেশ অবস্থার পরিবর্তন চায়। তবে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, ইসরায়েল ক্রমাগতভাবে তাদের অনুরোধকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এসব অনুরোধের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, গাজাবাসীর জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করা।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, তারা পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর ৭০৪টি আক্রমণের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। এসব আক্রমণ ও হামলার মধ্যে ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় হতাহতের নজির রয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছে, ৪০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, ৯ হাজার ৯০০ গাছ ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে ৪০টি বাড়ি।

অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শান্তি আলোচনায় খুবই কম অগ্রগতি হয়েছে। কাতারের কর্মকর্তারা বলেন, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে ইসরায়েলের বিরোধিতা আলোচনায় মূল বিষয় হিসেবে আটকে আছে। হামাস বলেছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার না হলে তারা তাদের হাতে থাকা পণবন্দিদের মুক্তি দেবে না।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় থেমে নেই ইসরায়েলি আগ্রাসন। সর্বশেষ গাজার মধ্যাঞ্চলে মাগহাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৫ জন।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৯৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ৭৫ হাজার ৫৭৭ জন। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলায় নিহত হয়েছিল এক হাজার ১৩৯ জন। এ ছাড়া হামাস আরও বেশ কিছু ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে নিয়ে আসে গাজায়।