ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৬ হাজার, উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৫০৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলি স্থল ও বিমান বাহিনীর অভিযানে গত সাড়ে তিন মাসে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ হাজার ৮৩ জনে পৌঁছেছে। এই নিহতদের পাশাপাশি মোট আহত হয়েছেন আরও ৬৪ হাজার ৪৮৭ জন।

এছাড়া গত ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছেন ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বেসরকাররি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশনএইড জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষ খাবারের এতটাই অভাবে পড়েছেন যে— তারা এখন পশুপাখির খাবার গুঁড়া করে সেগুলো দিয়ে আটা তৈরি করে খাচ্ছেন। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ অতি নিকটে রয়েছে।

নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, গাজায় খাদ্যের অভাব ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতিতে পৌঁছাচ্ছে।

‘গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রত্যেকে এখন তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। কেউ কেউ খাবারের জন্য এতটাই মরিয়া যে তারা এখন পশুপাখির খাবার গুড়া করে সেগুলো আটা হিসেবে ব্যবহার করছেন। গাজায় দুর্ভিক্ষ চোখ রাঙানি দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো খুবই কঠিন।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভূতপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। সেই অভিযানেই নিহত হয়েছেন এই ২৬ হাজার ৮৩ জন। নিহতদের একটি বড় অংশই নারী, শিশু এবং কিশোর-কিশোরী।

গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সময় ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে এখনও এই গোষ্ঠীটির হাতে আটক রয়েছেন ১৩২ জন জিম্মি। এই জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে ফের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার আগ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে, দখলদার ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

তারা জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। আর হামলায় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিতে একটি ক্যামেরা লাগানো ছিল।

হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, যেখানে হামলা চালানো হয়েছে সেখানে ইসরায়েলিদের গোয়েন্দা নজরদারির সরঞ্জামাদি ছিল। এছাড়া ওই স্থান থেকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত।

ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে— সেটি একটি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে লাগানো ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে, এটি ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ছোড়া হচ্ছে। যে ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহ এর আগেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৬ হাজার, উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

ইসরায়েলি স্থল ও বিমান বাহিনীর অভিযানে গত সাড়ে তিন মাসে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ হাজার ৮৩ জনে পৌঁছেছে। এই নিহতদের পাশাপাশি মোট আহত হয়েছেন আরও ৬৪ হাজার ৪৮৭ জন।

এছাড়া গত ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছেন ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বেসরকাররি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশনএইড জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষ খাবারের এতটাই অভাবে পড়েছেন যে— তারা এখন পশুপাখির খাবার গুঁড়া করে সেগুলো দিয়ে আটা তৈরি করে খাচ্ছেন। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ অতি নিকটে রয়েছে।

নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, গাজায় খাদ্যের অভাব ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতিতে পৌঁছাচ্ছে।

‘গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রত্যেকে এখন তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। কেউ কেউ খাবারের জন্য এতটাই মরিয়া যে তারা এখন পশুপাখির খাবার গুড়া করে সেগুলো আটা হিসেবে ব্যবহার করছেন। গাজায় দুর্ভিক্ষ চোখ রাঙানি দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো খুবই কঠিন।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভূতপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। সেই অভিযানেই নিহত হয়েছেন এই ২৬ হাজার ৮৩ জন। নিহতদের একটি বড় অংশই নারী, শিশু এবং কিশোর-কিশোরী।

গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সময় ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে এখনও এই গোষ্ঠীটির হাতে আটক রয়েছেন ১৩২ জন জিম্মি। এই জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে ফের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার আগ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে, দখলদার ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

তারা জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। আর হামলায় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিতে একটি ক্যামেরা লাগানো ছিল।

হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, যেখানে হামলা চালানো হয়েছে সেখানে ইসরায়েলিদের গোয়েন্দা নজরদারির সরঞ্জামাদি ছিল। এছাড়া ওই স্থান থেকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত।

ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে— সেটি একটি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে লাগানো ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে, এটি ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ছোড়া হচ্ছে। যে ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহ এর আগেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।