ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গলাচিপায় কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশত ঘরবাড়িসহ গাছপালা লন্ডভন্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩
  • / ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// মোঃ মাজহারুল ইসলাম মলি, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি //
গলাচিপায় সোমবার রাত ১০টায় কালবৈশাখী ঝড়ে ৫০টি বসত ঘর, একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসিজদের চাল উড়ে গেছে। ঝড়ে উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ পালা।
উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের সতিরাম, বিবির হাওলাদা, সদর ইউনিয়নের চরখালী, আমখোলার বাদুরা গ্রামে এ কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বসত ঘর ও গাছ পালা উপড়ে পরে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ দিনমজুর পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করছেন। এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমাবার রাত ১০টার দিকে গলাচিপার পানপট্টি, সদর ইউনিয়ন ও আমখোলার বাদুরা গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় তান্ডবলীলা চলে। এতে কমপক্ষে ৫০টি বসত ঘরের চালা উড়ে গেছে। আবার কারো ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শত শত গাছ পালা উপড়ে গেছে। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে আবার টিনের চালা উড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের বিবির হাওলা গ্রামের জেলে মো. ফারুক মিয়া বলেন, “রাইতে মাছ ধইররা বাড়ি আসি। আইসসাই আকাশের অবস্থা খারাপ দেইখ্যা গরু বানতে (বাঁধতে) যাই। এসম হঠাৎ করে ঝড়ে আমার ঘরের উপর একটা বড় গাছ ভেঙ্গে পরে ঘরটি মাটির সাথে মিশে দেয়। আমার স্ত্রী সন্তানদের চিৎকারে দৌঁড়ে যাই। ওদের নিয়ে আমি পাশের বিলে চলে যাই।”
একই ইউনিয়নের গুপ্তের হাওলা গ্রামের মো. রফিক হাওলাদার বলেন, “আকাশের অবস্থা খারাপ দেইখ্যা আমার গরুর কাছে যাই। এর মধ্যেই আমার বাচ্চারা চিৎকার করে ঘর ছেড়ে দৌঁড়ে বাইরে চলে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেহি আমার ঘরের চালের উপর বড় একটি চাম্বল গাছ চাপা দিয়েছে। আল্লাহ এখন শুধু প্রাণ বাচাইছে। ঘর তছনছ করে দিছে।”
এ প্রসঙ্গে পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বেশিরভাগই জেলে। এরা দিন আনে দিন খায়। এদের এক এক পরিবারের দুই তিনবার নদী ভাঙনে বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু করেছিল। তাও ঝড়ে শেষ হয়ে গেলো। কোন সহায়তা না পেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন এদের জন্য দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কবল থেকে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু তার একদিন পরই কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে অনেক ঘর বাড়ি ও গাছ পালার ক্ষতি হয়েছে। যারা কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে আমরা স্থানীয়ভাবে সহয়তা করার চেষ্টা করছি। আর যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ তাদেরকে আবেদন করার অনুরোধ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

গলাচিপায় কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশত ঘরবাড়িসহ গাছপালা লন্ডভন্ড

আপডেট সময় : ০৬:২২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩
// মোঃ মাজহারুল ইসলাম মলি, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি //
গলাচিপায় সোমবার রাত ১০টায় কালবৈশাখী ঝড়ে ৫০টি বসত ঘর, একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসিজদের চাল উড়ে গেছে। ঝড়ে উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ পালা।
উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের সতিরাম, বিবির হাওলাদা, সদর ইউনিয়নের চরখালী, আমখোলার বাদুরা গ্রামে এ কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বসত ঘর ও গাছ পালা উপড়ে পরে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ দিনমজুর পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করছেন। এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমাবার রাত ১০টার দিকে গলাচিপার পানপট্টি, সদর ইউনিয়ন ও আমখোলার বাদুরা গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় তান্ডবলীলা চলে। এতে কমপক্ষে ৫০টি বসত ঘরের চালা উড়ে গেছে। আবার কারো ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শত শত গাছ পালা উপড়ে গেছে। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে আবার টিনের চালা উড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের বিবির হাওলা গ্রামের জেলে মো. ফারুক মিয়া বলেন, “রাইতে মাছ ধইররা বাড়ি আসি। আইসসাই আকাশের অবস্থা খারাপ দেইখ্যা গরু বানতে (বাঁধতে) যাই। এসম হঠাৎ করে ঝড়ে আমার ঘরের উপর একটা বড় গাছ ভেঙ্গে পরে ঘরটি মাটির সাথে মিশে দেয়। আমার স্ত্রী সন্তানদের চিৎকারে দৌঁড়ে যাই। ওদের নিয়ে আমি পাশের বিলে চলে যাই।”
একই ইউনিয়নের গুপ্তের হাওলা গ্রামের মো. রফিক হাওলাদার বলেন, “আকাশের অবস্থা খারাপ দেইখ্যা আমার গরুর কাছে যাই। এর মধ্যেই আমার বাচ্চারা চিৎকার করে ঘর ছেড়ে দৌঁড়ে বাইরে চলে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেহি আমার ঘরের চালের উপর বড় একটি চাম্বল গাছ চাপা দিয়েছে। আল্লাহ এখন শুধু প্রাণ বাচাইছে। ঘর তছনছ করে দিছে।”
এ প্রসঙ্গে পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বেশিরভাগই জেলে। এরা দিন আনে দিন খায়। এদের এক এক পরিবারের দুই তিনবার নদী ভাঙনে বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু করেছিল। তাও ঝড়ে শেষ হয়ে গেলো। কোন সহায়তা না পেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন এদের জন্য দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কবল থেকে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু তার একদিন পরই কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে অনেক ঘর বাড়ি ও গাছ পালার ক্ষতি হয়েছে। যারা কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে আমরা স্থানীয়ভাবে সহয়তা করার চেষ্টা করছি। আর যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ তাদেরকে আবেদন করার অনুরোধ করছি।