ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি কর্মী-সমর্থকরা

খুলনা-৬ আসনে ত্রিমুখি লড়াই নৌকা-ঈগল-নোঙরে

আশরাফুল ইসলাম সবুজ, পাইকগাছা
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
খুলনার উপকূলীয় প্রত্যন্ত পাইকগাছা- কয়রা এলাকা নিয়ে খুলনা-৬ আসন। এলাকার মানুষ নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। তবে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রতিবারই নতুন প্রার্থী এখানে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।
২০০৮ সালে এ্যাড.সোহরাব আলী সানা, ২০১৪ সালে আলহাজ্ব এ্যাড. শেখ মোঃ নুরুল হক ও ২০১৮ সালে আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু নৌকা প্রতীকে খুলনা-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একইভাবে এবারও খুলনা-৬ আসনে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ রশীদুজ্জামান। তিনি এলাকায় লবণ পানির ঘেরবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারান। তবে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পরই মো. রশিদুজ্জামান নির্বাচনি প্রচারণায় তৎপর হয়েছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে ভোটাররা আরো জানান, এবারের নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছেন প্রতিপক্ষ শক্তিশালী প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জমাজমাট প্রচারণা শুরু হয়েছে উপকূলীয় এ জনপদে। এই আসনে নৌকার শক্ত প্রতিপক্ষ ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জিএম মাহবুবুল আলম ও বিএনএম এর নোঙ্গর প্রতীকে ব্যারিস্টার নেওয়াজ মোরশেদ। এখানে জাতীয় পার্টি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু এখনও প্রচারণায় না থাকায় নৌকা, ঈগল ও নোঙর প্রতীকের মধ্যেই ত্রিমুখি লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা। তাই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন কর্মী-সমর্থকরা।
আরো জানা গেছে, নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী নেওয়াজ মোরশেদ হাই কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।এ ছাড়াও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এলাকায় তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অপরদিক স্বতন্ত্র হিসেবে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জি এম মাহবুবুল আলম প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় নতুন সমীকরণ চলছে কয়রা-পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬  আসনে। মাহবুবুল আলম প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় নির্বাচন জমে উঠেছে। এরই মধ্যে দুই উপজেলায় তার পক্ষে স্থানীয় আওয়ামীর লীগের একটি অংশ মাঠে নেমেছেন। ফলে ভোটাররা মনে করছেন এ আসনে এবার ভোট যুদ্ধ হবে ত্রিমূখী।
খুলনা-৬ আসনটিতে মোঃ রশীদুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার জি,এম মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার নেওয়াজ মোরশেদ ছাড়াও প্রার্থী রয়েছেন জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু, এনপিপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মির্জা গোলাম আজম, জাকের পার্টি মনোনীত শেখ মর্তুজা আল মামুন ও তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদির উদ্দিন। সর্বোপরি, এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরাও। তবে আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়রা-পাইকগাছার সাধারণ ভোটাররা।

নিউজটি শেয়ার করুন

পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি কর্মী-সমর্থকরা

খুলনা-৬ আসনে ত্রিমুখি লড়াই নৌকা-ঈগল-নোঙরে

আপডেট সময় : ০৬:০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
খুলনার উপকূলীয় প্রত্যন্ত পাইকগাছা- কয়রা এলাকা নিয়ে খুলনা-৬ আসন। এলাকার মানুষ নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। তবে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রতিবারই নতুন প্রার্থী এখানে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।
২০০৮ সালে এ্যাড.সোহরাব আলী সানা, ২০১৪ সালে আলহাজ্ব এ্যাড. শেখ মোঃ নুরুল হক ও ২০১৮ সালে আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু নৌকা প্রতীকে খুলনা-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একইভাবে এবারও খুলনা-৬ আসনে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ রশীদুজ্জামান। তিনি এলাকায় লবণ পানির ঘেরবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারান। তবে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পরই মো. রশিদুজ্জামান নির্বাচনি প্রচারণায় তৎপর হয়েছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে ভোটাররা আরো জানান, এবারের নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছেন প্রতিপক্ষ শক্তিশালী প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জমাজমাট প্রচারণা শুরু হয়েছে উপকূলীয় এ জনপদে। এই আসনে নৌকার শক্ত প্রতিপক্ষ ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জিএম মাহবুবুল আলম ও বিএনএম এর নোঙ্গর প্রতীকে ব্যারিস্টার নেওয়াজ মোরশেদ। এখানে জাতীয় পার্টি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু এখনও প্রচারণায় না থাকায় নৌকা, ঈগল ও নোঙর প্রতীকের মধ্যেই ত্রিমুখি লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা। তাই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন কর্মী-সমর্থকরা।
আরো জানা গেছে, নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী নেওয়াজ মোরশেদ হাই কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।এ ছাড়াও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এলাকায় তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অপরদিক স্বতন্ত্র হিসেবে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জি এম মাহবুবুল আলম প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় নতুন সমীকরণ চলছে কয়রা-পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬  আসনে। মাহবুবুল আলম প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় নির্বাচন জমে উঠেছে। এরই মধ্যে দুই উপজেলায় তার পক্ষে স্থানীয় আওয়ামীর লীগের একটি অংশ মাঠে নেমেছেন। ফলে ভোটাররা মনে করছেন এ আসনে এবার ভোট যুদ্ধ হবে ত্রিমূখী।
খুলনা-৬ আসনটিতে মোঃ রশীদুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার জি,এম মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার নেওয়াজ মোরশেদ ছাড়াও প্রার্থী রয়েছেন জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু, এনপিপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মির্জা গোলাম আজম, জাকের পার্টি মনোনীত শেখ মর্তুজা আল মামুন ও তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদির উদ্দিন। সর্বোপরি, এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরাও। তবে আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়রা-পাইকগাছার সাধারণ ভোটাররা।