ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

খতনা করাতে গিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, শাসালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৮৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীর মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে আহনাফ তাহমিন আয়মান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি অভিযুক্ত জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়াস্ত জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেক আপ সেন্টারটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার সকালে খবরটি জেনেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসানকে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পাঠান এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরিচালক (হাসপাতাল) দ্রুততম সময়ে মালিবাগ জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক বিশেষ বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। কিছুদিন আগেও এমন একটি ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। সে ঘটনায় আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছি। তবে সেই ঘটনার পরও যারা সতর্ক হতে পারেনি, এরকম আর কারো কোনোরকম দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষী প্রমাণিত হলে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে শুধু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হবে না, ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাকারী দোষীদেরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে আর কোনো প্রতিষ্ঠান এরকম গুরুদায়িত্বে অবহেলা করতে সাহস না পায়। চিকিৎসায় অবহেলা পাওয়া গেলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আহনাফের বাবার মামলা দায়েরের পর জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একজন পরিচালক ও একজন এনেস্থেসিওলজিস্টকে পুলিশ এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

অন্যদিকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি ঘটনার প্রেক্ষিতেও একটি বিবৃতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে এনডস্কপি করাতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারি) সেখানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে যার রিপোর্ট বৃহস্পতিবার হাতে আসবে। রিপোর্ট দেখে সে বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওটিতে নেয়ার পর অ্যানেস্থেসিয়া দেয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি ১০ বছরের শিশু আয়হামের। পরিবারের অভিযোগ, লোকাল এনেস্থেসিয়া দেয়ার কথা থাকলেও বারবার মানা করার পরও শিশুটিকে ফুল এনেস্থেসিয়া দেয়া হয়।

এঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছে শিশুটির বাবা ফখরুল ইসলাম। মামলায় খতনার তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম মুক্তাদিরসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই পরিচালকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অবহেলাজনিত কোনো মৃত্যুই মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানালেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর সাতারকুল বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশু আয়ান মারা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

খতনা করাতে গিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, শাসালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীর মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে আহনাফ তাহমিন আয়মান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি অভিযুক্ত জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়াস্ত জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেক আপ সেন্টারটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার সকালে খবরটি জেনেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসানকে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পাঠান এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরিচালক (হাসপাতাল) দ্রুততম সময়ে মালিবাগ জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক বিশেষ বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। কিছুদিন আগেও এমন একটি ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। সে ঘটনায় আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিয়েছি। তবে সেই ঘটনার পরও যারা সতর্ক হতে পারেনি, এরকম আর কারো কোনোরকম দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষী প্রমাণিত হলে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে শুধু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হবে না, ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাকারী দোষীদেরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে আর কোনো প্রতিষ্ঠান এরকম গুরুদায়িত্বে অবহেলা করতে সাহস না পায়। চিকিৎসায় অবহেলা পাওয়া গেলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আহনাফের বাবার মামলা দায়েরের পর জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একজন পরিচালক ও একজন এনেস্থেসিওলজিস্টকে পুলিশ এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

অন্যদিকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি ঘটনার প্রেক্ষিতেও একটি বিবৃতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে এনডস্কপি করাতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারি) সেখানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে যার রিপোর্ট বৃহস্পতিবার হাতে আসবে। রিপোর্ট দেখে সে বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওটিতে নেয়ার পর অ্যানেস্থেসিয়া দেয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি ১০ বছরের শিশু আয়হামের। পরিবারের অভিযোগ, লোকাল এনেস্থেসিয়া দেয়ার কথা থাকলেও বারবার মানা করার পরও শিশুটিকে ফুল এনেস্থেসিয়া দেয়া হয়।

এঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছে শিশুটির বাবা ফখরুল ইসলাম। মামলায় খতনার তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম মুক্তাদিরসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই পরিচালকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অবহেলাজনিত কোনো মৃত্যুই মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানালেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর সাতারকুল বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশু আয়ান মারা যায়।