ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কয়রায় লবণ সহিষ্ণু বোরো আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :

দেশের উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার কয়রা উপজেলায় লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কৃষকদের মাঝে। শীতের মাঝামাঝি সময়ে আমন ধান কর্তন শেষ না হতেই চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষকরা। এছাড়া নতুন নতুন এলাকায় লবণ পানির চিংড়ী চাষের পরিবর্তে বেড়েছে লবণ সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ। যে কারনে এই মহুর্তে এ উপজেলার কৃষকরা বেরো রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে বোরো আবাদ ব্যয়বহুল হলেও ধানের বাজার এবং (গো খাদ্য) খড়কুটার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভজনক মনে করছে কৃষকরা। ফলে এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ৩৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো চাষ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যাহা গত বছরের তুলনায় ২ গুণেরও বেশি । প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা গেলে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের কৃষক শাহাবাজ আলী ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছেন এবং রোপন কার্য প্রায় শেষ পথে বলে তিনি জানান, বোরো চাষ ব্যয় বহুল হলেও বাজার মূল্য ভাল এবং খড় কুটা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা যায়।

কয়রা ইউনিয়নের মদিনাবাদ গ্রামের আঃ সাত্তার মোড়ল অন্যের জমি ৩ ভাগের চুক্তিতে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ৮ বিঘা জমি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, উৎপাদিত ধানের ২ ভাগ তার এবং ১ ভাগ জমি মালিককে দিয়েও প্রতি বছর লাভের মুখ দেখেন তিনি।

এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বোরো আবাদের প্রতি কৃষকদের উৎসাহ বাড়ছে। কারন হিসেবে জানা গেছে, ধানের মূল্য বেশি এবং গো খাদ্য সহ খড়কুটা ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত) অসীম কুমার দাস বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে সরকারি বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার কৃষককে ২০ কেজি সার ও ৫ কেজি উফসী জাতের এবং ২ হাজার কৃষকে ২ কেজি হাইব্রিড এসএলএইটএইচ জাতের ধান দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রি-২৮, ৬৭,৭৪,৮৪ এবং বিনা ১০, ১৪, ৭ জাতের সব ধানই লবণ সহিষ্ণু। এছাড়া ৫০ জন কৃষককে ৫০ বিঘা জমির জন্য প্রদর্শণী দেয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ রোপন কার্য শেষ হয়েছে।

কৃষকদের ধারনা বড় ধরনের কোন দূর্যোগ না হলে উপকূলীয় এই উপজেলায় বোরো উৎপাদন দেশের খাদ্য উৎপাদনে অনেকটা ভূমিকা রাখবে।

 

বা/খ: জই

নিউজটি শেয়ার করুন

কয়রায় লবণ সহিষ্ণু বোরো আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :

দেশের উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার কয়রা উপজেলায় লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কৃষকদের মাঝে। শীতের মাঝামাঝি সময়ে আমন ধান কর্তন শেষ না হতেই চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষকরা। এছাড়া নতুন নতুন এলাকায় লবণ পানির চিংড়ী চাষের পরিবর্তে বেড়েছে লবণ সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ। যে কারনে এই মহুর্তে এ উপজেলার কৃষকরা বেরো রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে বোরো আবাদ ব্যয়বহুল হলেও ধানের বাজার এবং (গো খাদ্য) খড়কুটার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভজনক মনে করছে কৃষকরা। ফলে এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ৩৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো চাষ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যাহা গত বছরের তুলনায় ২ গুণেরও বেশি । প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা গেলে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের কৃষক শাহাবাজ আলী ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছেন এবং রোপন কার্য প্রায় শেষ পথে বলে তিনি জানান, বোরো চাষ ব্যয় বহুল হলেও বাজার মূল্য ভাল এবং খড় কুটা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা যায়।

কয়রা ইউনিয়নের মদিনাবাদ গ্রামের আঃ সাত্তার মোড়ল অন্যের জমি ৩ ভাগের চুক্তিতে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ৮ বিঘা জমি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, উৎপাদিত ধানের ২ ভাগ তার এবং ১ ভাগ জমি মালিককে দিয়েও প্রতি বছর লাভের মুখ দেখেন তিনি।

এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বোরো আবাদের প্রতি কৃষকদের উৎসাহ বাড়ছে। কারন হিসেবে জানা গেছে, ধানের মূল্য বেশি এবং গো খাদ্য সহ খড়কুটা ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত) অসীম কুমার দাস বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে সরকারি বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার কৃষককে ২০ কেজি সার ও ৫ কেজি উফসী জাতের এবং ২ হাজার কৃষকে ২ কেজি হাইব্রিড এসএলএইটএইচ জাতের ধান দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রি-২৮, ৬৭,৭৪,৮৪ এবং বিনা ১০, ১৪, ৭ জাতের সব ধানই লবণ সহিষ্ণু। এছাড়া ৫০ জন কৃষককে ৫০ বিঘা জমির জন্য প্রদর্শণী দেয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ রোপন কার্য শেষ হয়েছে।

কৃষকদের ধারনা বড় ধরনের কোন দূর্যোগ না হলে উপকূলীয় এই উপজেলায় বোরো উৎপাদন দেশের খাদ্য উৎপাদনে অনেকটা ভূমিকা রাখবে।

 

বা/খ: জই