ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কোরবানি ঈদ সামনে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ভেজাল ভুসি ও ওষুধের রমরমা ব্যবসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০২৩
  • / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিনিধি //

গবাদিপশু সমৃদ্ধ পাবনা-সিরাগঞ্জ অঞ্চলে গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাষিরা কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ওজনে কম দিচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ভুসিসহ তিল, তিশি ও সরিষার খৈলের দাম বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ বেড়েছে। বেড়েছে লালির দাম। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্রান্ডের ভুসিতে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী একটি চক্র গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশুর নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। এই ভেজাল ভুসি ও ওষুধ কিনে খামারি ও চাষিরা প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খামারিরা আমিনুল ইসলাম, কামাল শেখ, রজব আলীসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, কোরবানি ঈদ সামনে গো-খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে গোখাদ্যের চাহিদা বেড়ে পাওয়ায় কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাবে ভুসির দাম বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। ভুসির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিক লাভের আশায় ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৪০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা মসুর ভুসি, ৩৭ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা গমের ভুসি, ১৫ কেজির প্রতিবস্তা এ্যাংকার ভুসি প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম বেড়েছে। প্রতিমণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে। শুধু ভুসি নয়, দাম কমেছে তিল, তিশি, সরিষার খৈল ও লালির।

কোম্পানির নির্দ্ধারিত ওজন অনুয়ায়ি প্রতি বস্তায় ৩৭ কেজি করে ভুসি থাকার কথা। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি করে ভুসি ওজনে কম দিচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীর দোকানে সেলাই মেশিন রয়েছে। তারা ৩৭ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের বস্তা খুলে দুই থেকে চার কেজি ভুসি বের করে নিচ্ছে। পরে ওই বস্তা রিপ্যাকিং করে দেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ওজন সঠিক রাখার জন্য বের করে নেয়া ভুসির সমপরিমান কাঠের গুঁড়ো, তুষ, পঁচা আটাসহ বিভিন্ন ধরনের ভেজাল মিশিয়ে দিচ্ছে। খামারিরা বস্তাগুলোতে নিখুঁত সেলাই ও লেবেল দেখে ভালোমানের ভুসি মনে করে কিনে নিচ্ছে। এভাবেই খামারি ও চাষিরা প্রতারিত করা হচ্ছে বলে অভিয়োগ উঠেছে।

এদিকে গরুর প্রধান খাদ্য খড় কিনতে গিয়ে খামারিরা প্রতারিত হচ্ছেন। খড় বিক্রেতারা প্রতিমণ খড়ে দুই থেকে তিন কেজি করে ওজন কম দিচ্ছে বলে খামারিরা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে বেড়ার কয়েকটি খড় বিক্রির স্থান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে খড় ওজন করার দাঁড়িপাল্লা নেই। অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রেতারা খড়ের বোঝা তৈরি করে তা খামারিদের কাছে মণ হিসেবে বিক্রি করছে। গোখাদ্যের দাম খামারীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
বেড়া বাজারের খড় বিক্রেতা সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, একসময় বিশেষ ধরণের দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে ওজন করে খড় বিক্রি করা হতো, এখন অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়। এতে দুই-এক কেজি ওজনে কম বেশি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন। পায়না মহল্লার খামারি আজিজ মোল্লা বলেছেন, ‘বাজার থেকে পাঁচ মণ খড় কিনে এনে ওজন দিয়ে দেখি প্রায় এক মণ কম। আর বাজারে এখন ভালো ভুসি পাওয়াই মুশকিল। ভেজাল ভুসি খেয়ে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, গাভীর দুধ কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা (খামারিরা) চরম বিপাকে পড়েছি।’

কোরবানি ঈদ সামনে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ভেজাল ভুসি ও ওষুধের রমরমা ব্যবসা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া, বেড়া, সুজানগর, চাটমোহর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় ভেজাল গো-খাদ্যের বিরুদ্ধে অনেক আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে ভেজাল মেশানো বন্ধ হয়নি। প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলাগুলোয় ভেজাল গো-খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। এই সুযোগে ভেজাল কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতারিত হচ্ছে গোখামারি ও চাষিরা।

শুধু গোখাদ্যেই নয়, গবাদিপশুর চিকিৎসায় (ভেটেরিনারি) ব্যবহৃত ওষুধ নকল করা হচ্ছে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গোপন কারাখানা বসিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি চালু কোম্পানির নকল ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরি করে গ্রামাঞ্চলের ওষুধের দোকানে দোকানে সরবরাহ করে আসছে। এসব নকল ওষুধ কিনে খামারি ও চাষিরা প্রতারিত হচ্ছেন অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গত মে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন গোখাদ্যে ভেজাল দেয়ার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া ২৭ এপ্রিল বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি রিজু তামান্না হাতিগাড়া গ্রামে একটি ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালান। ওই কারখানা থেকে অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসিল্যান্ড রিজু তামান্না কারখানা মালিককে ৫০ হাজার এবং গোখাদ্যে ভেজাল মেশানোয় অপর এব ব্যবসায়ী ৫০ হাজার টাকাা জরিমানা করেন।

এদিকে বেশি লাভের আশায় পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের কিছু ওষুধের দোকান মালিক-কর্মচারি নকল ওষুধ উৎপাদনকারীদের সাথে আঁতাত করে দোকানে ক্ষতিকর নকল ওষুধ রেখে বিক্রি করে আসছে বলে খামারিরা অভিযোগ তুলেছেন।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিলসলঙ্গী গ্রামের খামারি ছাত্তার মিয়া জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন আগে সাঁথিয়া বাজারের একটি ওষুধের দোকান থেকে দুই বোতল ভিটামিন কিনেছিলেন। ওই ভিটামিন খাওয়ানোর উপকার পাওয়া তো দুরের কথা, গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় দুই বোতল ভিটামিনই নকল।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ সবুর আলী বলেলেন, ভেজাল গোখাদ্য ও নকল ওষুধের ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কোরবানি ঈদ সামনে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ভেজাল ভুসি ও ওষুধের রমরমা ব্যবসা

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০২৩

// শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিনিধি //

গবাদিপশু সমৃদ্ধ পাবনা-সিরাগঞ্জ অঞ্চলে গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাষিরা কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ওজনে কম দিচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ভুসিসহ তিল, তিশি ও সরিষার খৈলের দাম বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ বেড়েছে। বেড়েছে লালির দাম। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্রান্ডের ভুসিতে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী একটি চক্র গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশুর নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। এই ভেজাল ভুসি ও ওষুধ কিনে খামারি ও চাষিরা প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খামারিরা আমিনুল ইসলাম, কামাল শেখ, রজব আলীসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, কোরবানি ঈদ সামনে গো-খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে গোখাদ্যের চাহিদা বেড়ে পাওয়ায় কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাবে ভুসির দাম বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। ভুসির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিক লাভের আশায় ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৪০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা মসুর ভুসি, ৩৭ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা গমের ভুসি, ১৫ কেজির প্রতিবস্তা এ্যাংকার ভুসি প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ঘাস ও খড়ের দাম বেড়েছে। প্রতিমণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে। শুধু ভুসি নয়, দাম কমেছে তিল, তিশি, সরিষার খৈল ও লালির।

কোম্পানির নির্দ্ধারিত ওজন অনুয়ায়ি প্রতি বস্তায় ৩৭ কেজি করে ভুসি থাকার কথা। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি করে ভুসি ওজনে কম দিচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীর দোকানে সেলাই মেশিন রয়েছে। তারা ৩৭ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের বস্তা খুলে দুই থেকে চার কেজি ভুসি বের করে নিচ্ছে। পরে ওই বস্তা রিপ্যাকিং করে দেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ওজন সঠিক রাখার জন্য বের করে নেয়া ভুসির সমপরিমান কাঠের গুঁড়ো, তুষ, পঁচা আটাসহ বিভিন্ন ধরনের ভেজাল মিশিয়ে দিচ্ছে। খামারিরা বস্তাগুলোতে নিখুঁত সেলাই ও লেবেল দেখে ভালোমানের ভুসি মনে করে কিনে নিচ্ছে। এভাবেই খামারি ও চাষিরা প্রতারিত করা হচ্ছে বলে অভিয়োগ উঠেছে।

এদিকে গরুর প্রধান খাদ্য খড় কিনতে গিয়ে খামারিরা প্রতারিত হচ্ছেন। খড় বিক্রেতারা প্রতিমণ খড়ে দুই থেকে তিন কেজি করে ওজন কম দিচ্ছে বলে খামারিরা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে বেড়ার কয়েকটি খড় বিক্রির স্থান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে খড় ওজন করার দাঁড়িপাল্লা নেই। অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রেতারা খড়ের বোঝা তৈরি করে তা খামারিদের কাছে মণ হিসেবে বিক্রি করছে। গোখাদ্যের দাম খামারীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
বেড়া বাজারের খড় বিক্রেতা সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, একসময় বিশেষ ধরণের দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে ওজন করে খড় বিক্রি করা হতো, এখন অনুমানের ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়। এতে দুই-এক কেজি ওজনে কম বেশি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন। পায়না মহল্লার খামারি আজিজ মোল্লা বলেছেন, ‘বাজার থেকে পাঁচ মণ খড় কিনে এনে ওজন দিয়ে দেখি প্রায় এক মণ কম। আর বাজারে এখন ভালো ভুসি পাওয়াই মুশকিল। ভেজাল ভুসি খেয়ে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, গাভীর দুধ কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা (খামারিরা) চরম বিপাকে পড়েছি।’

কোরবানি ঈদ সামনে পাবনা-সিরাজগঞ্জে ভেজাল ভুসি ও ওষুধের রমরমা ব্যবসা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া, বেড়া, সুজানগর, চাটমোহর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় ভেজাল গো-খাদ্যের বিরুদ্ধে অনেক আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে ভেজাল মেশানো বন্ধ হয়নি। প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলাগুলোয় ভেজাল গো-খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। এই সুযোগে ভেজাল কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতারিত হচ্ছে গোখামারি ও চাষিরা।

শুধু গোখাদ্যেই নয়, গবাদিপশুর চিকিৎসায় (ভেটেরিনারি) ব্যবহৃত ওষুধ নকল করা হচ্ছে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গোপন কারাখানা বসিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি চালু কোম্পানির নকল ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরি করে গ্রামাঞ্চলের ওষুধের দোকানে দোকানে সরবরাহ করে আসছে। এসব নকল ওষুধ কিনে খামারি ও চাষিরা প্রতারিত হচ্ছেন অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গত মে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন গোখাদ্যে ভেজাল দেয়ার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া ২৭ এপ্রিল বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি রিজু তামান্না হাতিগাড়া গ্রামে একটি ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালান। ওই কারখানা থেকে অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসিল্যান্ড রিজু তামান্না কারখানা মালিককে ৫০ হাজার এবং গোখাদ্যে ভেজাল মেশানোয় অপর এব ব্যবসায়ী ৫০ হাজার টাকাা জরিমানা করেন।

এদিকে বেশি লাভের আশায় পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের কিছু ওষুধের দোকান মালিক-কর্মচারি নকল ওষুধ উৎপাদনকারীদের সাথে আঁতাত করে দোকানে ক্ষতিকর নকল ওষুধ রেখে বিক্রি করে আসছে বলে খামারিরা অভিযোগ তুলেছেন।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিলসলঙ্গী গ্রামের খামারি ছাত্তার মিয়া জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন আগে সাঁথিয়া বাজারের একটি ওষুধের দোকান থেকে দুই বোতল ভিটামিন কিনেছিলেন। ওই ভিটামিন খাওয়ানোর উপকার পাওয়া তো দুরের কথা, গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় দুই বোতল ভিটামিনই নকল।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ সবুর আলী বলেলেন, ভেজাল গোখাদ্য ও নকল ওষুধের ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।