বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৬ দিনে ৭৪৫ কোটি ছাড়িয়েছে ‘পাঠান’ পুলের ধারে বসে চুরুট ধরালেন সুস্মিতা দেশে চার হাজার ৬৩৩টি ইটভাটা অবৈধ: সংসদে পরিবেশমন্ত্রী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী চার্লসের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়ে কুমিল্লার জয় মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি : মেয়র আতিক দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে : রাষ্ট্রপতি আকাশে কেবিন ক্রুকে নারী যাত্রীর থাপ্পড় সাহস থাকলে দেশে আসুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পকেটে আহলে হাদিসের দুই কোটি ভোট : সংসদে এমপি রহমতুল্লাহ প্ররোচনায় পড়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারামুক্ত যুবদল নেতা নয়ন ‘ভারতীয় ছবি রিলিজের পক্ষে সবাই থাকলেও আমি নেই’-রাউজানে অভিনেতা রুবেল ইসলামপুরে দৈনিক গণমুক্তি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত অবসরে গেলেন সকলের প্রিয় ফজলু স্যার

কোনো বাধাই সরকার পতন আন্দোলন ঠেকাতে পারবে না : ফখরুল

কোনো বাধাই সরকার পতন আন্দোলন ঠেকাতে পারবে না : ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
কোনো বাধাই সরকার পতন আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। রাজপথের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে তরুণরা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপক্ষে সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশ করছে বিএনপি। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে ফখরুল বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো উপায় নেই।

এর আগে দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সোয়া ১২টায় কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের শুরুতে বিভাগের বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে বিভাগীয় সমাবেশ কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সভাস্থলে আসতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক চত্বরের প্রধান সড়কে বাড়তে থাকে কর্মী সমাগম। শুক্রবার রাত থেকেই শহরের আশপাশের ১০ জেলার নেতাকর্মীরা খুলনায় আসতে থাকেন। সভাস্থল থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো হয় মাইক, ব্যানার আর প্রজেক্টর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এখন নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের বিদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনারা অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। কারণ আপনাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

আজ শনিবার বিকালে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপক্ষে সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশ করছে বিএনপি। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছিল জানিয়ে ফখরুল দাবি করেন, আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিন দিন ধরে সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। দুই দিন ধরে বাস বন্ধ করে দিয়েছে, নৌপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের যে সংগ্রাম, তাতে বাধা দিতে পারেনি। প্রশাসনকে ব্যবহার করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না। আজকে সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে। এই সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, আমাদের বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিয়েছে, মানুষ সেবা পায় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যদি আমরা জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন করতে পারি এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন টিকব্যাক বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিয়ে আসো, কোন বাংলাদেশ? বাংলাদেশের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। সমৃদ্ধির বাংলাদেশ, মানবিকের বাংলাদেশ, মানবাধিকারের বাংলাদেশ, ভালোবাসার বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই।

ফখরুল বলেন, আমরা ভবিষ্যতে যদি রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব পাই তাহলে তরুণ যুবকদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করব। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, চাকরির ব্যবস্থা করবো। ন্যায়বিচার করার ব্যবস্থা করব। আর যারা মেগা প্রযুক্তির নামে মেগা দুর্নীতি করেছে তা তদন্তের কমিশন গঠন করবো।

গণসমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতানেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনায় গণপরিবহন ও লঞ্চ বন্ধ করা হয়েছিল। সমাবেশে যোগ দিতে নানা কৌশলে শুক্রবার রাতেই নেতা-কর্মীরা খুলনায় আসেন। শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশ শুরু হয়। দলে দলে সমাবেশে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা। সমাবেশস্থল জনস্রোতে রূপ নেয়।
খুলনার পর বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীসহ আরও ৭টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করার কথা রয়েছে দলটির।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *