ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, জানা যাবে মঙ্গলবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সময় যত গড়াচ্ছে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কেননা নির্বাচনকালে রাষ্ট্রের প্রধান কে থাকবেন সেটি নিয়ে আগ্রহ সবার মধ্যেই। সে কারণে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আব্দুল হামিদের স্থলে কে আসছেন সেটি জানতে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সবার চোখ থাকবে সংসদে, অপেক্ষা থাকবে নামটি জানার।

এজন্য মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভা কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন রাষ্ট্রপতি। আবদুল হামিদ যেভাবে বিগত দুটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এমন একজনকেই এই পদে আনতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আর বর্তমান সংসদে যেহেতু বিএনপি নেই, আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং এমপিদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার বিধান নেই, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের মনোনীত প্রার্থীই হতে চলেছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এই সমীকরণে সবার দৃষ্টি মঙ্গলবারের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে। কেননা, মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগের সপ্তম সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী দলীয় এমপিদের যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আগামী ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে। এজন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর সমর্থক ও প্রস্তাবক হতে হয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেবে না বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। তাই মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রস্তাবক ও সমর্থক কারা হবেন সেটিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত ৫ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন শুরু হলে ওইদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। সেটি ছিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া শেষ ভাষণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিন ধরেই আলোচনা শিরীন শারমিনকে নিয়ে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানালেও এ বিষয়ে কেউ কোনো সূত্র প্রকাশ করেননি। অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে চারজন রাষ্ট্রপতি সাবেক স্পিকার, তাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বর্তমান স্পিকারও। শিরীন শারমিন রাষ্ট্রপতি হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম কোনো নারী রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি অনেকগুলো যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার কারণে বেশ আলোচিত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও ব্যাপক আলোচনায় আসছে। সেই সাথে প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের নাম আছে অনেকের মুখে। রাষ্ট্রপতি পদে আরেক আলোচিত ব্যক্তি একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রাখা হয়েছিল। তবে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হন তিনি। এতে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে। কিছুদিন আগেও আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওই পদে যাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। তবে জল্পনা-কল্পনা অবসান দেখতে মুখিয়ে সবাই।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আগামী দিনের জন্য যাকে যোগ্য মনে করবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে সাহসিকতা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে যিনি সংকট উত্তরণে সঠিক অবস্থান নিতে পারবেন, এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি করা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি (এ সময়কালে তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন) এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট; বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর; মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি; খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৬ নভেম্বর, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল; জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে; বিচারপতি আবদুস সাত্তার ১৯৮১ সালের ৩০ মে থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ; জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ থেকে ২৭ মার্চ এবং ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর; আ ফ ম আহসানুদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর; বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর; এ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর; ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের নভেম্বর ১৪ থেকে ২০০২ সালের ২১ জুন; জমিরউদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর; প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, মো. জিল্লুর রহমান ১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০ মার্চ ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। মো. আবদুল হামিদ ২০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ২১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূনরায় ২৪ এপ্রিল ২০১৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, জানা যাবে মঙ্গলবার

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সময় যত গড়াচ্ছে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কেননা নির্বাচনকালে রাষ্ট্রের প্রধান কে থাকবেন সেটি নিয়ে আগ্রহ সবার মধ্যেই। সে কারণে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আব্দুল হামিদের স্থলে কে আসছেন সেটি জানতে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সবার চোখ থাকবে সংসদে, অপেক্ষা থাকবে নামটি জানার।

এজন্য মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভা কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন রাষ্ট্রপতি। আবদুল হামিদ যেভাবে বিগত দুটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এমন একজনকেই এই পদে আনতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আর বর্তমান সংসদে যেহেতু বিএনপি নেই, আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং এমপিদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার বিধান নেই, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের মনোনীত প্রার্থীই হতে চলেছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এই সমীকরণে সবার দৃষ্টি মঙ্গলবারের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে। কেননা, মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগের সপ্তম সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী দলীয় এমপিদের যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আগামী ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে। এজন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর সমর্থক ও প্রস্তাবক হতে হয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেবে না বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। তাই মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রস্তাবক ও সমর্থক কারা হবেন সেটিও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত ৫ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন শুরু হলে ওইদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। সেটি ছিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া শেষ ভাষণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিন ধরেই আলোচনা শিরীন শারমিনকে নিয়ে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানালেও এ বিষয়ে কেউ কোনো সূত্র প্রকাশ করেননি। অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে চারজন রাষ্ট্রপতি সাবেক স্পিকার, তাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বর্তমান স্পিকারও। শিরীন শারমিন রাষ্ট্রপতি হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম কোনো নারী রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি অনেকগুলো যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার কারণে বেশ আলোচিত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও ব্যাপক আলোচনায় আসছে। সেই সাথে প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের নাম আছে অনেকের মুখে। রাষ্ট্রপতি পদে আরেক আলোচিত ব্যক্তি একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রাখা হয়েছিল। তবে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হন তিনি। এতে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে। কিছুদিন আগেও আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওই পদে যাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। তবে জল্পনা-কল্পনা অবসান দেখতে মুখিয়ে সবাই।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আগামী দিনের জন্য যাকে যোগ্য মনে করবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে সাহসিকতা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে যিনি সংকট উত্তরণে সঠিক অবস্থান নিতে পারবেন, এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি করা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি (এ সময়কালে তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন) এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট; বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর; মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি; খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৬ নভেম্বর, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল; জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে; বিচারপতি আবদুস সাত্তার ১৯৮১ সালের ৩০ মে থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ; জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ থেকে ২৭ মার্চ এবং ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর; আ ফ ম আহসানুদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর; বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর; এ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর; ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের নভেম্বর ১৪ থেকে ২০০২ সালের ২১ জুন; জমিরউদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর; প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, মো. জিল্লুর রহমান ১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০ মার্চ ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। মো. আবদুল হামিদ ২০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ২১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূনরায় ২৪ এপ্রিল ২০১৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি।