ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্ববাসীর শান্তির কামনা

কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রবারনা ও ফানুষ উৎসব

// এ এম মিজানুর রহমান বুলেট //
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৭৯১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী ও বৌদ্ধবিহারে পূজা অর্চনার মাধ্যমে মহামারী বিশ্বময় সকলের শান্তি কামনায় এবং মানব জাতির মুক্তির কামনায় রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রবারনা ও ফানুস উৎসব পালিত হয়েছে।
পূর্ব গগনের কালো মেঘমালা সড়িয়ে ঝকঝকে পূর্ণ চাঁদের আলোতে রোববার  রাতে পৃথিবী যখন আলোকিত, প্রকৃতি যখন পুলকিত ঠিক তখনি কুয়াকাটা- কলাপাড়া উপজেলার ২০টি রাখাইন পল্লীতে এবং বৌদ্ধ বিহারে মোমবাতি প্রজ্বলন, ঘন্টা বাজানো, পঞ্চমশীল অনুষ্ঠান, পূজা অর্চনা ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্যদিয়ে চলছে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের সময়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ভুল ত্রুটি শোধরানো এবং সকলের পাঁপ মোচন ও সকলের কল্যানের জন্য রং, বে-রঙ্গের ফানুস উড়িয়ে সৃস্টিকর্তার কাছে আহবান করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে রাখাইন পল্লীর প্রত্যেকটি বৌদ্ধ মন্দির সাজানো হয়েছিল বর্নাঢ্য সাজে। অতিথি আপ্যায়নের খাবারের তালিকায় কুকি, পাটিসাপটা, পাতাপিঠা, বিন্নি চালের সুস্বাদু পিঠা, বিশেষ ধরনের ভাত (নারিকেল ও চিনি দিয়ে তৈরী) ক্ষীর ও পায়েস ছিল উল্লেখযোগ্য। রাখাইনরা তাঁদের মন্দির ও গৃহে নিজ সম্প্রদায়সহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আগত অতিথিদের এসব খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন।
আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধ দেবের চুল আকাশে ছোড়া হয় মানব কল্যানে, সেই থেকে কুয়াকাটা উপকূলীয় ২০টি পাড়ায় রাখাইন ধর্মাবল্বীরা মানব কল্যানে এই ফানুস উৎস্যব পালন করে আসছে।
রাখাইন ইদ্রোবংশ মহেধের ভিক্ষু বলেন,
মানব কল্যানে, একে অপরের ভুল-ত্রুটি শোধরানো এবং কল্যানের জন্য ফানুস উড়িয়ে আহবান করা বা প্রবারনা উৎসব পালন করা হয়। ২৯ বছরে গৌতম বুদ্ধ গৃহ ত্যাগ করার সময় চিন্তা করেন তার এই উদ্দিশ্য সফল হবে কিনা। সে কারণে তার মাথার চুল বা হাত দিয়ে ধরে ডান হাত দিয়ে কাটে আকাশে নিক্ষেপ করেন। আকাশে ভাসলে উদ্দিশ্য সফল আর মাটিতে পড়লে ব্যর্থ। বুদ্ধদেবের চুল আকাশে ভাসলে তখন স্বর্গ রাজ ইন্দ্রো রাজ বুদ্ধদেবের চুল নিয়ে স্বর্গে ‘যাদি’ নির্মান করেন এবং ওই যাদি পূর্ণিমা রাতে প্রবারনা দিন উদ্বোধন করেন প্রবারনা পূর্নিমার দিন। সেই থেকে এই প্রবারনা উৎসব পালন হয়ে আসছে। আগামীকাল বিকেলে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাসীর শান্তির কামনা

কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রবারনা ও ফানুষ উৎসব

আপডেট সময় : ১১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী ও বৌদ্ধবিহারে পূজা অর্চনার মাধ্যমে মহামারী বিশ্বময় সকলের শান্তি কামনায় এবং মানব জাতির মুক্তির কামনায় রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রবারনা ও ফানুস উৎসব পালিত হয়েছে।
পূর্ব গগনের কালো মেঘমালা সড়িয়ে ঝকঝকে পূর্ণ চাঁদের আলোতে রোববার  রাতে পৃথিবী যখন আলোকিত, প্রকৃতি যখন পুলকিত ঠিক তখনি কুয়াকাটা- কলাপাড়া উপজেলার ২০টি রাখাইন পল্লীতে এবং বৌদ্ধ বিহারে মোমবাতি প্রজ্বলন, ঘন্টা বাজানো, পঞ্চমশীল অনুষ্ঠান, পূজা অর্চনা ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্যদিয়ে চলছে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের সময়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ভুল ত্রুটি শোধরানো এবং সকলের পাঁপ মোচন ও সকলের কল্যানের জন্য রং, বে-রঙ্গের ফানুস উড়িয়ে সৃস্টিকর্তার কাছে আহবান করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে রাখাইন পল্লীর প্রত্যেকটি বৌদ্ধ মন্দির সাজানো হয়েছিল বর্নাঢ্য সাজে। অতিথি আপ্যায়নের খাবারের তালিকায় কুকি, পাটিসাপটা, পাতাপিঠা, বিন্নি চালের সুস্বাদু পিঠা, বিশেষ ধরনের ভাত (নারিকেল ও চিনি দিয়ে তৈরী) ক্ষীর ও পায়েস ছিল উল্লেখযোগ্য। রাখাইনরা তাঁদের মন্দির ও গৃহে নিজ সম্প্রদায়সহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আগত অতিথিদের এসব খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন।
আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধ দেবের চুল আকাশে ছোড়া হয় মানব কল্যানে, সেই থেকে কুয়াকাটা উপকূলীয় ২০টি পাড়ায় রাখাইন ধর্মাবল্বীরা মানব কল্যানে এই ফানুস উৎস্যব পালন করে আসছে।
রাখাইন ইদ্রোবংশ মহেধের ভিক্ষু বলেন,
মানব কল্যানে, একে অপরের ভুল-ত্রুটি শোধরানো এবং কল্যানের জন্য ফানুস উড়িয়ে আহবান করা বা প্রবারনা উৎসব পালন করা হয়। ২৯ বছরে গৌতম বুদ্ধ গৃহ ত্যাগ করার সময় চিন্তা করেন তার এই উদ্দিশ্য সফল হবে কিনা। সে কারণে তার মাথার চুল বা হাত দিয়ে ধরে ডান হাত দিয়ে কাটে আকাশে নিক্ষেপ করেন। আকাশে ভাসলে উদ্দিশ্য সফল আর মাটিতে পড়লে ব্যর্থ। বুদ্ধদেবের চুল আকাশে ভাসলে তখন স্বর্গ রাজ ইন্দ্রো রাজ বুদ্ধদেবের চুল নিয়ে স্বর্গে ‘যাদি’ নির্মান করেন এবং ওই যাদি পূর্ণিমা রাতে প্রবারনা দিন উদ্বোধন করেন প্রবারনা পূর্নিমার দিন। সেই থেকে এই প্রবারনা উৎসব পালন হয়ে আসছে। আগামীকাল বিকেলে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।