ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কুয়াকাটায় মিধিলির আঘাতে নিখোঁজ ২২ জেলের ১৫ জেলে উদ্ধার

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৪৯৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ৭ জেলের এখনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলে ও ট্রলারের মালিক রহমাতুল্লাহ বাড়ী ধুলাসার ইউনিয়নে চাপলী এলাকায় ও ইউসুফ হাওলাদার মালিকানাধীন এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারসহ ১৫ জেলেসহ নিখোঁজ ছিল। পরে ১৬ দিন পর মঙ্গলবার এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারসহ ১৫ জেলের সন্ধান মিলেছে। ইউসুফ হাওলাদারের বাড়ী আলীপুর এলাকায়। এখন ও পর্যন্ত রহমাতুল্লাহ মালিকানাধীন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন। এরা বেঁচে আছেন নাকি উত্থাল ঢেঁউয়ের তোড়ে সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও তাদের পরিবারের লোকজনও খুঁজছেন তাদের স্বজনদের।
গত ১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) ঘুর্ণিঝড় মিধিলি পটুয়াখালীসহ সাগর উপকূলে আঘাত হানে। এ সময় সাগরে মাছধরারত ট্রলারে জেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না উপজেলার মহিপুর এলাকার ২২ জন জেলেও ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পরে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম খান।
ফিরে আসা এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারের মাঝি আলাউদ্দিন জানান, ১৬ নভেম্বর আমার ট্রলারের (মেশিনের সেইভ) নষ্ট হয়ে যায়। ১৭ নভেম্বর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। এর পর আমরা সাগরে ভাসতে ভাসতে বার্মার কাছাকাছি চলে যায়। আগের একটি পুরানো সেইভ ছিল তা দিয়ে মেশিন ঠিক করে কুলে এসে মালিকের সাথে যোগাযোগ করি যে আমরা বেঁচে আছি। তার পর সমস্যার কথা বলি।
ট্রলারের মালিক মো. রকমাতুল্লাহ বলেন, শুক্রবার যখন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে তখন ট্রলারটি তীরে ফিরছিল। হঠাৎ ঢেউয়ের কবলে সমুদ্রে দুর্ঘনার শিকার হয়। তাদের কাছ থেকে ফিরে আসা অন্য ট্রলার চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারেনি। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ট্রলার পাঠাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে কিছুই পাইনি। এর পর আমরা নৌ পুলিশ, থানা পুলিশ এবং কোস্টগার্ডকে জানিয়েছি। আমরা এখনো তাদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকা চষে বেড়াচ্ছি।
এফবি মের্সাস আলমাইন মালিক ইউসুফ হাওলাদার বলেন, আমার ট্রলারের (মেশিনের সেইভ)নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ও আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় এ কারনে সাগরে ভাসতে ভাসতে বার্মার কাছে চলে যায়। আল্লাহর রহমতে সব জেলেরা বেঁচে আছে।
নিজামপুর কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্টাল কমান্ডার এম বাদল মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর পরই আমাদের বিভিন্ন টিম বিশেষ করে নিজামপুর, রাঙ্গাবালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সুন্দরবন ও মোংলাসহ উপকূলীয় এলাকা ও গভীর সমুদ্রে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ‘নিখোঁজ ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসন, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও ট্রলার মালিক সমিতির যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম চলছে।’
পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রতিবেদকে বলেন, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর টিম নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কাজ করছে। আমরা তাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া নিখোঁজ জেলে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম খাঁন জানান, আমি কোস্টগার্ড সদস্যকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের কিভাবে সহায়তা করা যায় তার ব্যবস্থা করা। ঘুর্ণিঝড় মিধিলির পর ট্রলার মালিক নিখোঁজ জেলেদের জন্য মহিপুর থানা জিডি করেছে।
কলাপাড়া ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ সবাইকে বলা হয়েছে নিখোঁজ জেলেদের যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। নিখোঁজ জেলে পরিবারকে নিখোঁজের তিন মাসে না পাওয়া গেলে তাদেরকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে বলে তিনি প্রতিবেদকে জানান।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়াকাটায় মিধিলির আঘাতে নিখোঁজ ২২ জেলের ১৫ জেলে উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ৭ জেলের এখনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলে ও ট্রলারের মালিক রহমাতুল্লাহ বাড়ী ধুলাসার ইউনিয়নে চাপলী এলাকায় ও ইউসুফ হাওলাদার মালিকানাধীন এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারসহ ১৫ জেলেসহ নিখোঁজ ছিল। পরে ১৬ দিন পর মঙ্গলবার এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারসহ ১৫ জেলের সন্ধান মিলেছে। ইউসুফ হাওলাদারের বাড়ী আলীপুর এলাকায়। এখন ও পর্যন্ত রহমাতুল্লাহ মালিকানাধীন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন। এরা বেঁচে আছেন নাকি উত্থাল ঢেঁউয়ের তোড়ে সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও তাদের পরিবারের লোকজনও খুঁজছেন তাদের স্বজনদের।
গত ১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) ঘুর্ণিঝড় মিধিলি পটুয়াখালীসহ সাগর উপকূলে আঘাত হানে। এ সময় সাগরে মাছধরারত ট্রলারে জেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না উপজেলার মহিপুর এলাকার ২২ জন জেলেও ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পরে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম খান।
ফিরে আসা এফবি মের্সাস আলমাইন ট্রলারের মাঝি আলাউদ্দিন জানান, ১৬ নভেম্বর আমার ট্রলারের (মেশিনের সেইভ) নষ্ট হয়ে যায়। ১৭ নভেম্বর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। এর পর আমরা সাগরে ভাসতে ভাসতে বার্মার কাছাকাছি চলে যায়। আগের একটি পুরানো সেইভ ছিল তা দিয়ে মেশিন ঠিক করে কুলে এসে মালিকের সাথে যোগাযোগ করি যে আমরা বেঁচে আছি। তার পর সমস্যার কথা বলি।
ট্রলারের মালিক মো. রকমাতুল্লাহ বলেন, শুক্রবার যখন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে তখন ট্রলারটি তীরে ফিরছিল। হঠাৎ ঢেউয়ের কবলে সমুদ্রে দুর্ঘনার শিকার হয়। তাদের কাছ থেকে ফিরে আসা অন্য ট্রলার চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারেনি। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ট্রলার পাঠাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে কিছুই পাইনি। এর পর আমরা নৌ পুলিশ, থানা পুলিশ এবং কোস্টগার্ডকে জানিয়েছি। আমরা এখনো তাদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকা চষে বেড়াচ্ছি।
এফবি মের্সাস আলমাইন মালিক ইউসুফ হাওলাদার বলেন, আমার ট্রলারের (মেশিনের সেইভ)নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ও আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় এ কারনে সাগরে ভাসতে ভাসতে বার্মার কাছে চলে যায়। আল্লাহর রহমতে সব জেলেরা বেঁচে আছে।
নিজামপুর কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্টাল কমান্ডার এম বাদল মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর পরই আমাদের বিভিন্ন টিম বিশেষ করে নিজামপুর, রাঙ্গাবালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সুন্দরবন ও মোংলাসহ উপকূলীয় এলাকা ও গভীর সমুদ্রে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ‘নিখোঁজ ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসন, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও ট্রলার মালিক সমিতির যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম চলছে।’
পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রতিবেদকে বলেন, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর টিম নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কাজ করছে। আমরা তাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া নিখোঁজ জেলে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম খাঁন জানান, আমি কোস্টগার্ড সদস্যকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের কিভাবে সহায়তা করা যায় তার ব্যবস্থা করা। ঘুর্ণিঝড় মিধিলির পর ট্রলার মালিক নিখোঁজ জেলেদের জন্য মহিপুর থানা জিডি করেছে।
কলাপাড়া ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ সবাইকে বলা হয়েছে নিখোঁজ জেলেদের যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। নিখোঁজ জেলে পরিবারকে নিখোঁজের তিন মাসে না পাওয়া গেলে তাদেরকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে বলে তিনি প্রতিবেদকে জানান।
বাখ//আর