ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কুমিল্লাকে উড়িয়ে সিলেটের হ্যাটট্রিক জয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্পর্ক সবসময় বৈরী ছিল। এই টুর্নামেন্টে সিলেট যখন যে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়েই খেলতে আসুক না কেন ফলাফল বরাবরই তলানিতে। এবার সেই চিত্র বদলাচ্ছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার হাত ধরে। মাশরাফির নেতৃত্বে যেন শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। চলতি বিপিএলের নবম আসরে তারা টানা তিন জয় তুলে নিল।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসানদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল কুমিল্লা।

অভিজ্ঞ এবং তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মিশ্রণটা খুব ভালোভাবেই কাজে দিচ্ছে সিলেট স্ট্রাইকার্সের জন্য। একদিকে যেমন পারফর্ম করছেন মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ আমিরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা, অন্যদিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিচ্ছেন জাকির হোসেন, তৌহিদ হৃদয়ের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা। তাতে বিপিএলের চলতি আসরে প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে সিলেটের দলটি।

টানা জয়ে একদিকে যেমন শীর্ষে উঠে গেছে সিলেট, অন্যদিকে দুই ম্যাচ হেরে এখন তলানিতে কুমিল্লা। ভালো দল গড়েও গতবারের চ্যাম্পিয়নরা প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বড় ব্যবধানে। সোমবার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে ইমরুল কায়েসের দল।

দিনের প্রথম খেলায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। থিসারা পেরেরার প্রথম ওভারে দুই বাউন্ডারি মেরে সেই ওভারেই ফেরেন লিটন দাস। সাময়িক সে চাপ অবশ্য সামলে নেন ডেভিড মালান এবং সৈকত আলি।

মাশরাফি মুর্তজার এক ওভারে ৩ চার মেরে ভালো শুরুর আভাস দিলেও সৈকত ফিরেছেন ২০ রানে। অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও থিতু হতে পারেননি ক্রিজে। মোহাম্মদ আমিরের বলে ক্যাচ হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

গেল ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ মোসাদ্দেক হোসেন। ৮ বল খেলে করেছেন মোটে ৫ রান। আফগান তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবীও ফিরেছেন দুই অঙ্কে পৌঁছার আগেই। শেষ ওভারে আবু হায়দার রনির ছয়ে কুমিল্লার রান গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৯-এ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন থিসারা পেরেরা এবং মোহাম্মদ আমির। অধিনায়ক মাশরাফি আর ইমাদ ওয়াসিম নিয়েছেন ১টি করে।

মিরপুর শেরে বাংলায় মাঝারি টার্গেট তাড়ায় নেমে দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকে হারায় সিলেট। আবু হায়দার রনির বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন মোহাম্মদ হারিস (৬)। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত আর তৌহিদ হৃদয় মিলে ৩১ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। ২১ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রান করা শান্তকে খুশদিল শাহ ফেরালে জুই ভাঙে। আজও উইেেক্ট এসে ঝড় তুলেছিলেন জাকির হাসান। তবে ১০ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২০ রানে থামে তার ইনিংস।

মোহাম্মদ নবির দারুণ এক বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন জাকির। ১০ ওভারে সিলেটের স্কোর দাঁড়ায় ৮৬। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তৌহিদ হৃদয়। তবে ৩৭ বলে ৩ চার এবং ৪ ছক্কায় ৫৬ রানেই থামে তার ইনিংস। অন্যপ্রান্তে মুশফিকও দারুন খেলছিলেন। জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১২ রানের। ২৫ বলে ২৮* রান করে মুশফিকই সিলেটকে জয় এনে দেন। ১৪ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নেয় সিলেট স্ট্রাইকার্স। কুমিল্লার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন খুশদিল শাহ এবং মোহাম্মদ নবি। অন্য উইকেটটি নেন আবু হায়দার রনি।

সিলেটের এই জয়ের নায়ক তরুণ ক্রিকেটার তৌহিদ হৃদয়। যিনি কিনা সিলেট অধিনায়ক মাশরাফীর প্রথম টার্গেট ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এই ক্রিকেটারও জানিয়েছিলেন সেই বিষয়, মাশরাফী ভাই আমাকে বলেছিলেন, উনার প্রথম টার্গেটই আমি ছিলাম। উনি আমাকে দলে টানবেন।

মাশরাফী যে হীরে চিনতে ভুল করেননি বিপিএলের মঞ্চে সেটি বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করছেন হৃদয়। যেকোনো টি-টোয়েন্টিতে এর আগে মাত্র ২টি ফিফটি ছিল এই ব্যাটসম্যানের। এর একটিও বিপিএলের মঞ্চে নয়। প্রথমবারের মতো বিপিএলের মঞ্চে ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লাকে উড়িয়ে সিলেটের হ্যাটট্রিক জয়

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৩

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্পর্ক সবসময় বৈরী ছিল। এই টুর্নামেন্টে সিলেট যখন যে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়েই খেলতে আসুক না কেন ফলাফল বরাবরই তলানিতে। এবার সেই চিত্র বদলাচ্ছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার হাত ধরে। মাশরাফির নেতৃত্বে যেন শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। চলতি বিপিএলের নবম আসরে তারা টানা তিন জয় তুলে নিল।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসানদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল কুমিল্লা।

অভিজ্ঞ এবং তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মিশ্রণটা খুব ভালোভাবেই কাজে দিচ্ছে সিলেট স্ট্রাইকার্সের জন্য। একদিকে যেমন পারফর্ম করছেন মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ আমিরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা, অন্যদিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিচ্ছেন জাকির হোসেন, তৌহিদ হৃদয়ের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা। তাতে বিপিএলের চলতি আসরে প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে সিলেটের দলটি।

টানা জয়ে একদিকে যেমন শীর্ষে উঠে গেছে সিলেট, অন্যদিকে দুই ম্যাচ হেরে এখন তলানিতে কুমিল্লা। ভালো দল গড়েও গতবারের চ্যাম্পিয়নরা প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বড় ব্যবধানে। সোমবার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে ইমরুল কায়েসের দল।

দিনের প্রথম খেলায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। থিসারা পেরেরার প্রথম ওভারে দুই বাউন্ডারি মেরে সেই ওভারেই ফেরেন লিটন দাস। সাময়িক সে চাপ অবশ্য সামলে নেন ডেভিড মালান এবং সৈকত আলি।

মাশরাফি মুর্তজার এক ওভারে ৩ চার মেরে ভালো শুরুর আভাস দিলেও সৈকত ফিরেছেন ২০ রানে। অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও থিতু হতে পারেননি ক্রিজে। মোহাম্মদ আমিরের বলে ক্যাচ হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

গেল ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ মোসাদ্দেক হোসেন। ৮ বল খেলে করেছেন মোটে ৫ রান। আফগান তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবীও ফিরেছেন দুই অঙ্কে পৌঁছার আগেই। শেষ ওভারে আবু হায়দার রনির ছয়ে কুমিল্লার রান গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৯-এ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন থিসারা পেরেরা এবং মোহাম্মদ আমির। অধিনায়ক মাশরাফি আর ইমাদ ওয়াসিম নিয়েছেন ১টি করে।

মিরপুর শেরে বাংলায় মাঝারি টার্গেট তাড়ায় নেমে দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকে হারায় সিলেট। আবু হায়দার রনির বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন মোহাম্মদ হারিস (৬)। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত আর তৌহিদ হৃদয় মিলে ৩১ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। ২১ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রান করা শান্তকে খুশদিল শাহ ফেরালে জুই ভাঙে। আজও উইেেক্ট এসে ঝড় তুলেছিলেন জাকির হাসান। তবে ১০ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২০ রানে থামে তার ইনিংস।

মোহাম্মদ নবির দারুণ এক বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন জাকির। ১০ ওভারে সিলেটের স্কোর দাঁড়ায় ৮৬। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তৌহিদ হৃদয়। তবে ৩৭ বলে ৩ চার এবং ৪ ছক্কায় ৫৬ রানেই থামে তার ইনিংস। অন্যপ্রান্তে মুশফিকও দারুন খেলছিলেন। জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১২ রানের। ২৫ বলে ২৮* রান করে মুশফিকই সিলেটকে জয় এনে দেন। ১৪ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নেয় সিলেট স্ট্রাইকার্স। কুমিল্লার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন খুশদিল শাহ এবং মোহাম্মদ নবি। অন্য উইকেটটি নেন আবু হায়দার রনি।

সিলেটের এই জয়ের নায়ক তরুণ ক্রিকেটার তৌহিদ হৃদয়। যিনি কিনা সিলেট অধিনায়ক মাশরাফীর প্রথম টার্গেট ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এই ক্রিকেটারও জানিয়েছিলেন সেই বিষয়, মাশরাফী ভাই আমাকে বলেছিলেন, উনার প্রথম টার্গেটই আমি ছিলাম। উনি আমাকে দলে টানবেন।

মাশরাফী যে হীরে চিনতে ভুল করেননি বিপিএলের মঞ্চে সেটি বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করছেন হৃদয়। যেকোনো টি-টোয়েন্টিতে এর আগে মাত্র ২টি ফিফটি ছিল এই ব্যাটসম্যানের। এর একটিও বিপিএলের মঞ্চে নয়। প্রথমবারের মতো বিপিএলের মঞ্চে ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে।