ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কিসের লাশ, নাকি অন্যকিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে : মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৭ বার পড়া হয়েছে

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কিসের না কিসের লাশ, নাকি অন্য কিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে  বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে মায়ের কান্না নামক একটি সংগঠনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭৭ সালে গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূত ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিহতের স্বজনরা গুম খুন ও ফাঁসির বিচার দাবি করেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি, জাতীয় চার নেতার খুনি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর সদস্যদের খুনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার বাংলার মাটিতে হবেই হবে। এই খুনির কবর জাতীয় সংসদের ওই পবিত্র আঙিনায় থাকতে পারে না। বাংলার মানুষ তথাকথিত কবর সেখান থেকে সরিয়ে দেবে। আমি জাতীয় সংসদেও বলেছি, তার লাশ সেখানে নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে তার কবর আছে বা তার লাশ সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছে- তাহলে কোনও কথাই বলবো না। তাদের কথা মেনে নেবো। কিসের না কিসের লাশ, নাকি অন্য কিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে। আর যারা ওই জিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরাতো আর মানুষ ফেরত দিতে পারবো না- তারা যেন খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, আজকের বিদেশি প্রভুদের মদতে যারা দিবা স্বপ্ন দেখছেন তাদের বলছি, বাংলার জনগণ, যারা আমরা পাকস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে এই ডিসেম্বর মাসে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম তারা এখনও জীবিত আছি। যারা বিদেশি প্রভুদের ইঙ্গিতে চলছে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের দলের রাজনৈতিক কবর এই বাংলার মাটিতেই হবেই হবে।

মন্ত্রী বলেন, আবার দেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য তারা ১০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে। পারেনি, ওই খুনিরা পারেনি, তারা পারবেও না। শুনেছেন কীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের, বিমানবাহিনীর সদস্যদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল। গুমও করা হয়েছিল। তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। কে কোথায় আছে সেই খবরও নেই। এই গুমের রাজনীতি শুরু করেছিল খুনি জিয়া। জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর খালেদা জিয়া তারেক জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেদিন আমাদের নেত্রী বেঁচে গেলেও আমাদের আরেক নেত্রী আইভি রহমান বাঁচতে পারেননি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের সময় যারা ভেটু দিয়েছিল, নগদ পয়সায় বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে চাল এবং গম কিনেছিল আমেরিকার কাছ থেকে সেই চাল এবং গম বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়নি। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করেছিল। তারা আবার হুমকি দিচ্ছে তারা সরকারের পতন ঘটাবে।

মন্ত্রী বলেন, এটা ১৯৭৫ নয়, ০২২ সাল। সেই কথা ভুলে যান। সেই চিন্তা আর করবেন না। তারা বলে, ১০ তারিখে শেখ হাসিনা সরকার থাকবে না। তাহলে কে দেশ চালাবে? আমরা বুঝি কাদের মদতে এগুলো চলে। তাদের লোভ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। ভেবেছে, বার বার একই পথে এসে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়।

এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও মায়ের কান্না সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার মেয়ে নাহিদ এজাহার খান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ (বীর বিক্রম)।

নিউজটি শেয়ার করুন

কিসের লাশ, নাকি অন্যকিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে : মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কিসের না কিসের লাশ, নাকি অন্য কিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে  বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে মায়ের কান্না নামক একটি সংগঠনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭৭ সালে গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূত ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিহতের স্বজনরা গুম খুন ও ফাঁসির বিচার দাবি করেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি, জাতীয় চার নেতার খুনি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর সদস্যদের খুনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার বাংলার মাটিতে হবেই হবে। এই খুনির কবর জাতীয় সংসদের ওই পবিত্র আঙিনায় থাকতে পারে না। বাংলার মানুষ তথাকথিত কবর সেখান থেকে সরিয়ে দেবে। আমি জাতীয় সংসদেও বলেছি, তার লাশ সেখানে নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে তার কবর আছে বা তার লাশ সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছে- তাহলে কোনও কথাই বলবো না। তাদের কথা মেনে নেবো। কিসের না কিসের লাশ, নাকি অন্য কিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে। আর যারা ওই জিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরাতো আর মানুষ ফেরত দিতে পারবো না- তারা যেন খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, আজকের বিদেশি প্রভুদের মদতে যারা দিবা স্বপ্ন দেখছেন তাদের বলছি, বাংলার জনগণ, যারা আমরা পাকস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে এই ডিসেম্বর মাসে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম তারা এখনও জীবিত আছি। যারা বিদেশি প্রভুদের ইঙ্গিতে চলছে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের দলের রাজনৈতিক কবর এই বাংলার মাটিতেই হবেই হবে।

মন্ত্রী বলেন, আবার দেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য তারা ১০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে। পারেনি, ওই খুনিরা পারেনি, তারা পারবেও না। শুনেছেন কীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের, বিমানবাহিনীর সদস্যদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল। গুমও করা হয়েছিল। তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। কে কোথায় আছে সেই খবরও নেই। এই গুমের রাজনীতি শুরু করেছিল খুনি জিয়া। জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর খালেদা জিয়া তারেক জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেদিন আমাদের নেত্রী বেঁচে গেলেও আমাদের আরেক নেত্রী আইভি রহমান বাঁচতে পারেননি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের সময় যারা ভেটু দিয়েছিল, নগদ পয়সায় বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে চাল এবং গম কিনেছিল আমেরিকার কাছ থেকে সেই চাল এবং গম বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়নি। কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করেছিল। তারা আবার হুমকি দিচ্ছে তারা সরকারের পতন ঘটাবে।

মন্ত্রী বলেন, এটা ১৯৭৫ নয়, ০২২ সাল। সেই কথা ভুলে যান। সেই চিন্তা আর করবেন না। তারা বলে, ১০ তারিখে শেখ হাসিনা সরকার থাকবে না। তাহলে কে দেশ চালাবে? আমরা বুঝি কাদের মদতে এগুলো চলে। তাদের লোভ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। ভেবেছে, বার বার একই পথে এসে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়।

এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও মায়ের কান্না সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার মেয়ে নাহিদ এজাহার খান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ (বীর বিক্রম)।