ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কারাগারে নারীসঙ্গ পাবে কয়েদিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কারাগারে কয়েদিরা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে পারবেন। সম্প্রতি পাঞ্জাব রাজ্য সরকার ভারতের প্রথম কারাগার হিসেবে রাজ্যের টার্ন টারান জেলার গোইন্দাল কারাগারে কয়েদিদের এ সুবিধা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাবের গোইন্দাল কারাগারে প্রথম এ সুবিধা পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামি ৬০ বছর বয়সী গুরজিৎ সিং। কারাগারে স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে গুরজিৎ সিং বলেন, কারাগারে একা ও বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রীর সঙ্গে কারাগারেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাওয়ায় বেশ স্বস্তি বোধ করেছি।

পাঞ্জাব কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব কয়েদির আচরণ ভালো, প্রতি দুই মাসে দুই ঘণ্টার জন্য তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার কারা কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেওয়ার পর এক হাজারের বেশি কয়েদি এ সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ কয়েদি এ সুযোগ পেয়েছেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুনীল সিং বলেন, ভারতের কিছু রাজ্য, যেমন রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের কারাগারে যেসব কয়েদি ভালো আচরণ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ‘সন্তান জন্ম’ বা ‘বৈবাহিক সম্পর্ক’ বজায় রাখার জন্য কয়েদিদের ছুটির অনুমতিও দেন আদালত। তবে সারা দেশের পাঁচ লাখের বেশি কয়েদি বছরের পর বছর এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাঞ্জাব রাজ্যের আদেশে বলা হয়েছে, কারাগারে যেসব কর্মী দীর্ঘদিন বন্দী, তাদের প্যারোল ছাড়াই কারাগারে দাম্পত্য সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সব কয়েদিরা এ সুযোগ পাবে না। যেসব কর্মী এ সুযোগ পাবেন না, তারা হলেন গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাসী; যৌন অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু নিপীড়নের দায়ে যারা বন্দী; টিউবারকিউলোসিস, এইচআইভি বা যৌনবাহিত রোগসহ যারা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত; যারা কারাগারে গত তিন মাসে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি এবং যাদের আচরণ ভালো নয়।

আইনজীবী অমিত সাহনি বলেন, ভারতের সব কারাগারেই কয়েদিদের দাম্পত্য সাক্ষাতের সুবিধা দেওয়া উচিত। আর এটা বন্দীদের সংশোধনে একটি দুর্দান্ত পদক্ষেপ হবে। বিচারের উদ্দেশ্য কেবল বন্দীদের শাস্তি দেওয়া নয়, তাদের সংশোধন করাও। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা যেন আবার সমাজে একত্র হতে পারেন, সেটাও বিচারের উদ্দেশ্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাগারে নারীসঙ্গ পাবে কয়েদিরা

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কারাগারে কয়েদিরা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে পারবেন। সম্প্রতি পাঞ্জাব রাজ্য সরকার ভারতের প্রথম কারাগার হিসেবে রাজ্যের টার্ন টারান জেলার গোইন্দাল কারাগারে কয়েদিদের এ সুবিধা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাবের গোইন্দাল কারাগারে প্রথম এ সুবিধা পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামি ৬০ বছর বয়সী গুরজিৎ সিং। কারাগারে স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে গুরজিৎ সিং বলেন, কারাগারে একা ও বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রীর সঙ্গে কারাগারেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাওয়ায় বেশ স্বস্তি বোধ করেছি।

পাঞ্জাব কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব কয়েদির আচরণ ভালো, প্রতি দুই মাসে দুই ঘণ্টার জন্য তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার কারা কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেওয়ার পর এক হাজারের বেশি কয়েদি এ সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ কয়েদি এ সুযোগ পেয়েছেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুনীল সিং বলেন, ভারতের কিছু রাজ্য, যেমন রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের কারাগারে যেসব কয়েদি ভালো আচরণ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ‘সন্তান জন্ম’ বা ‘বৈবাহিক সম্পর্ক’ বজায় রাখার জন্য কয়েদিদের ছুটির অনুমতিও দেন আদালত। তবে সারা দেশের পাঁচ লাখের বেশি কয়েদি বছরের পর বছর এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাঞ্জাব রাজ্যের আদেশে বলা হয়েছে, কারাগারে যেসব কর্মী দীর্ঘদিন বন্দী, তাদের প্যারোল ছাড়াই কারাগারে দাম্পত্য সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সব কয়েদিরা এ সুযোগ পাবে না। যেসব কর্মী এ সুযোগ পাবেন না, তারা হলেন গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাসী; যৌন অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু নিপীড়নের দায়ে যারা বন্দী; টিউবারকিউলোসিস, এইচআইভি বা যৌনবাহিত রোগসহ যারা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত; যারা কারাগারে গত তিন মাসে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি এবং যাদের আচরণ ভালো নয়।

আইনজীবী অমিত সাহনি বলেন, ভারতের সব কারাগারেই কয়েদিদের দাম্পত্য সাক্ষাতের সুবিধা দেওয়া উচিত। আর এটা বন্দীদের সংশোধনে একটি দুর্দান্ত পদক্ষেপ হবে। বিচারের উদ্দেশ্য কেবল বন্দীদের শাস্তি দেওয়া নয়, তাদের সংশোধন করাও। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা যেন আবার সমাজে একত্র হতে পারেন, সেটাও বিচারের উদ্দেশ্য।