ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

থানায় অভিযোগ নেয়নি পুলিশ : অভিযোগ পরিবারের

কাজ দেয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধীকে অপহরণ

কাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৯১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
কাজ দেয়ার কথা বলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে এক বাক প্রতিবন্ধীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া (৩৫) উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া ও একই গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী সালামকে কাজ দেয়ার কথা বলে মানিকগঞ্জে নিয়ে যায় একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া। এক সপ্তাহ আগে রুবেল ও সালাম বাড়ি ফিরে আসেন। তবে ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি ওই প্রতিবন্ধী শিপন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল মিয়া এলাকার বিভিন্ন পাগলদের নিয়ে কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। রুবেল মহাজনদের সাথে কথা বলে মজুরি নিতেন। মজুরি থেকে একটা অংশ কেটে নিয়ে বাকী টাকা পাগল শ্রমিকদের দিতেন। এতে কাজ না করেই শ্রমিকদের চেয়ে বেশি আয় হতো তার। এবার শিপন ও একই গ্রামের সালামকে নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে কাজের কথা বলে মানিকগঞ্জ যায়। পরে এক সপ্তাহ আগে রুবেল ও সালাম ফিরে এলেও শিপনকে নিয়ে আসেননি।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘রুবেল শুধু পাগলদের নিয়ে কাজে যায়। তাদেরকে ন্যায্য পারিশ্রমিক না দিয়ে কম টাকা দিতো। এবার শিপনকে নিয়ে গিয়ে কোথায় রেখে এসেছে রুবেল পরিস্কার করে কিছুই বলছে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলছে। এদিকে আজ সকাল থেকে রুবেল পলাতক, ফোনও বন্ধ।’
শিপনের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও রুবেল মিয়া শিপন সহ গ্রামের আরও কয়েকজন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যেতো। এর আগে অন্য জেলাতে না গেলেও কাজীপুরের বিভিন্ন চরে কাজের জন্য যেতো। এবার শিপনকে নিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসে নি। শিপনকে ফিরে আনার জন্য গত রাতে দুই হাজার ও সকালে দশ হাজার টাকা চেয়েছিল রুবেল।
শিপনের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘রুবেল আমার স্বামীকে নিয়ে কাজে গেছে ১৮ দিন আগে। এর আগে শুধু চরে নিয়ে গেছে কামলা দিতে। তাও এক সপ্তাহ পরে ফিরা আইছে। রুবেল আমার স্বামীকে বিক্রি করে দিছে। তাছাড়া ও সাথে নিয়ে আসলো না কেন? আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘রুবেল আমার স্বামীকে মেলা ঠকাইছে। ৫শ’ টাকার কামলার টাকা তিনশ টাকা দিছে। বাকী টাকা রুবেল নিয়ে নিছে। এবার আমার স্বামীকেই পাচার করে দিলো!’
শিপনের ছোট ভাই সজীব বলেন, ‘আমরা আজকে থানায় গেছিলাম অভিযোগ দিতে। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি।’
অভিযুক্ত রুবেলের সাথে কথা বলতে তার বাড়ি গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তবে তার স্ত্রী রাশেদা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর সাথে কথা হয় না সাত আট দিন হলো। বাড়িতে আসে নাই। মোবাইল নম্বরও নাই যে যোগাযোগ করমু।’
রুবেলের বাবা গাজী খোশলেহাজ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। ছেলের সাথে কোন কথা বার্তা চলে না। কোথায় কাকে নিয়ে কাজ করতে যায় তাও জানি না।’
স্থলবাড়ি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত রাতে এ বিষয় নিয়ে বসা হয়েছিল। সেখানে রুবেল স্বীকার করেছে শিপনকে নিয়ে রেখে এসেছে। কিন্তু কোথায় রেখে এসেছে ঠিকভাবে বলতে পারেনি। আজকে শিপনকে আনতে যাবার কথা রুবেলের। সে জন্য রাতে দুই হাজার টাকাও চেয়েছে। সকালে আবার দশ হাজার টাকা চেয়ে বলেছে এর কম হবে না। এরপর থেকে রুবেলের মোবাইল ফোন বন্ধ। সে এখন পলাতক।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৌখিকভাবে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যেখানে কাজে গিয়েছিল সেই এলাকায় অভিযোগ দিতে হবে। আইনের একটা বিষয় আছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

থানায় অভিযোগ নেয়নি পুলিশ : অভিযোগ পরিবারের

কাজ দেয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধীকে অপহরণ

আপডেট সময় : ১১:০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
কাজ দেয়ার কথা বলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে এক বাক প্রতিবন্ধীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া (৩৫) উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া ও একই গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী সালামকে কাজ দেয়ার কথা বলে মানিকগঞ্জে নিয়ে যায় একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া। এক সপ্তাহ আগে রুবেল ও সালাম বাড়ি ফিরে আসেন। তবে ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি ওই প্রতিবন্ধী শিপন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল মিয়া এলাকার বিভিন্ন পাগলদের নিয়ে কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। রুবেল মহাজনদের সাথে কথা বলে মজুরি নিতেন। মজুরি থেকে একটা অংশ কেটে নিয়ে বাকী টাকা পাগল শ্রমিকদের দিতেন। এতে কাজ না করেই শ্রমিকদের চেয়ে বেশি আয় হতো তার। এবার শিপন ও একই গ্রামের সালামকে নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে কাজের কথা বলে মানিকগঞ্জ যায়। পরে এক সপ্তাহ আগে রুবেল ও সালাম ফিরে এলেও শিপনকে নিয়ে আসেননি।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘রুবেল শুধু পাগলদের নিয়ে কাজে যায়। তাদেরকে ন্যায্য পারিশ্রমিক না দিয়ে কম টাকা দিতো। এবার শিপনকে নিয়ে গিয়ে কোথায় রেখে এসেছে রুবেল পরিস্কার করে কিছুই বলছে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলছে। এদিকে আজ সকাল থেকে রুবেল পলাতক, ফোনও বন্ধ।’
শিপনের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও রুবেল মিয়া শিপন সহ গ্রামের আরও কয়েকজন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যেতো। এর আগে অন্য জেলাতে না গেলেও কাজীপুরের বিভিন্ন চরে কাজের জন্য যেতো। এবার শিপনকে নিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসে নি। শিপনকে ফিরে আনার জন্য গত রাতে দুই হাজার ও সকালে দশ হাজার টাকা চেয়েছিল রুবেল।
শিপনের স্ত্রী পারুল বলেন, ‘রুবেল আমার স্বামীকে নিয়ে কাজে গেছে ১৮ দিন আগে। এর আগে শুধু চরে নিয়ে গেছে কামলা দিতে। তাও এক সপ্তাহ পরে ফিরা আইছে। রুবেল আমার স্বামীকে বিক্রি করে দিছে। তাছাড়া ও সাথে নিয়ে আসলো না কেন? আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘রুবেল আমার স্বামীকে মেলা ঠকাইছে। ৫শ’ টাকার কামলার টাকা তিনশ টাকা দিছে। বাকী টাকা রুবেল নিয়ে নিছে। এবার আমার স্বামীকেই পাচার করে দিলো!’
শিপনের ছোট ভাই সজীব বলেন, ‘আমরা আজকে থানায় গেছিলাম অভিযোগ দিতে। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি।’
অভিযুক্ত রুবেলের সাথে কথা বলতে তার বাড়ি গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তবে তার স্ত্রী রাশেদা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর সাথে কথা হয় না সাত আট দিন হলো। বাড়িতে আসে নাই। মোবাইল নম্বরও নাই যে যোগাযোগ করমু।’
রুবেলের বাবা গাজী খোশলেহাজ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। ছেলের সাথে কোন কথা বার্তা চলে না। কোথায় কাকে নিয়ে কাজ করতে যায় তাও জানি না।’
স্থলবাড়ি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত রাতে এ বিষয় নিয়ে বসা হয়েছিল। সেখানে রুবেল স্বীকার করেছে শিপনকে নিয়ে রেখে এসেছে। কিন্তু কোথায় রেখে এসেছে ঠিকভাবে বলতে পারেনি। আজকে শিপনকে আনতে যাবার কথা রুবেলের। সে জন্য রাতে দুই হাজার টাকাও চেয়েছে। সকালে আবার দশ হাজার টাকা চেয়ে বলেছে এর কম হবে না। এরপর থেকে রুবেলের মোবাইল ফোন বন্ধ। সে এখন পলাতক।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৌখিকভাবে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যেখানে কাজে গিয়েছিল সেই এলাকায় অভিযোগ দিতে হবে। আইনের একটা বিষয় আছে।’