ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কাজীপুরে পৌর কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ : বাধা দেয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ!

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৯৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নিজ বাড়ি থেকে বের হতে সড়ক নির্মাণ করছেন পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর মিনা খাতুন। নিজ জমি দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ করছেন মর্মে বাঁধা দেয় প্রতিবেশী। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন মারাত্মক আহত হন।
 গত মঙ্গলবার দুপুরে বেড়িপোটল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে কাউন্সিলর মিনা খাতুনের মেয়ে জুঁই খাতুন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে কাজীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  শুক্রবার দুপুরে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বেড়িপোটল গ্রামের মৃত ছোহরাব আলীর পুত্র আব্দুস সামাদ ও ছাইফুল ইসলামের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একটি সড়ক নির্মাণ নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে কমিশনার মিনা খাতুনের পরিবারের সাথে। গত ৩০ জানুয়ারি মিনা ও তার স্বামী জহুরুল ইসলাম রাজমিস্ত্রীদের সাথে থেকে সড়কের ইটের গাঁথনিতে সহযোগিতা করছিলেন। এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে আব্দুস সামাদ ও ছাইফুলের লোকজন রামদা দিয়ে কমিশনারের স্বামী জহুরুলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম ও কমিশনারকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে শনিবার সরেজমিনে গিয়ে মামলার আসামিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস সামাদের ঘর ভেঙ্গে তাদের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করেন কাউন্সিলররা। এ সময় আব্দুস সামাদ ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাঁধা দেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিনা খাতুনের স্বামী জহুরুল ইসলাম ও তাদের মেয়ে জুঁই খাতুন রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন আব্দুস সামাদ ও তার ভাই ছাইফুল ইসলামকে। এ সময় মারামারি ঠেকাতে এগিয়ে এলে আব্দুস সামাদের স্ত্রী আসমা খাতুনকেও মারাত্মক ভাবে আহত করা হয়।
পৌর কাউন্সিলর মিনা খাতুন বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারিনা। তাই পৌরসভা থেকে সড়ক নির্মাণ করছি আমার ক্রয়কৃত জমির ওপর দিয়ে। সামাদরা সড়ক নির্মাণ করতে দেবে না। তারা চায় ওই জমি যেন আমি তাদের কাছে বিক্রি করি। বিক্রি করবো না বলেই আমাদেরও ওপর হামলা চালিয়েছে।’
আহত আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মিনা যে ওখান দিয়ে জমি কিনেছে তার দলিল আমাদের দেখায় না। জোর করে আমাদের জায়গা দিয়ে সড়ক বানাচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে আমাদের দুই ভাই ও আমার স্ত্রীকে রামদা দিয়ে কোপায় তারা।’
পৌর মেয়র আব্দুল হান্নান তালুকদার জানান, ‘আমি এর আগে ওখান গিয়ে মিনাকে বলে এসেছি নির্ধারিত সীমার মধ্যে সড়ক নির্মাণ করতে। কিন্তু সে জেদের ওপর কাজ করেছে হয়তো। এটা নিয়ে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। আহতরা সুস্থ হলে বসে একটা সমাধান করে দেব।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামের কাছে মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ছোট খাটো একটা বিষয়। মারামারিতো হবেই। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাজীপুরে পৌর কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ : বাধা দেয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ!

আপডেট সময় : ০১:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
নিজ বাড়ি থেকে বের হতে সড়ক নির্মাণ করছেন পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর মিনা খাতুন। নিজ জমি দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ করছেন মর্মে বাঁধা দেয় প্রতিবেশী। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন মারাত্মক আহত হন।
 গত মঙ্গলবার দুপুরে বেড়িপোটল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে কাউন্সিলর মিনা খাতুনের মেয়ে জুঁই খাতুন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে কাজীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  শুক্রবার দুপুরে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বেড়িপোটল গ্রামের মৃত ছোহরাব আলীর পুত্র আব্দুস সামাদ ও ছাইফুল ইসলামের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একটি সড়ক নির্মাণ নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে কমিশনার মিনা খাতুনের পরিবারের সাথে। গত ৩০ জানুয়ারি মিনা ও তার স্বামী জহুরুল ইসলাম রাজমিস্ত্রীদের সাথে থেকে সড়কের ইটের গাঁথনিতে সহযোগিতা করছিলেন। এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে আব্দুস সামাদ ও ছাইফুলের লোকজন রামদা দিয়ে কমিশনারের স্বামী জহুরুলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম ও কমিশনারকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে শনিবার সরেজমিনে গিয়ে মামলার আসামিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস সামাদের ঘর ভেঙ্গে তাদের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করেন কাউন্সিলররা। এ সময় আব্দুস সামাদ ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাঁধা দেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিনা খাতুনের স্বামী জহুরুল ইসলাম ও তাদের মেয়ে জুঁই খাতুন রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন আব্দুস সামাদ ও তার ভাই ছাইফুল ইসলামকে। এ সময় মারামারি ঠেকাতে এগিয়ে এলে আব্দুস সামাদের স্ত্রী আসমা খাতুনকেও মারাত্মক ভাবে আহত করা হয়।
পৌর কাউন্সিলর মিনা খাতুন বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারিনা। তাই পৌরসভা থেকে সড়ক নির্মাণ করছি আমার ক্রয়কৃত জমির ওপর দিয়ে। সামাদরা সড়ক নির্মাণ করতে দেবে না। তারা চায় ওই জমি যেন আমি তাদের কাছে বিক্রি করি। বিক্রি করবো না বলেই আমাদেরও ওপর হামলা চালিয়েছে।’
আহত আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মিনা যে ওখান দিয়ে জমি কিনেছে তার দলিল আমাদের দেখায় না। জোর করে আমাদের জায়গা দিয়ে সড়ক বানাচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে আমাদের দুই ভাই ও আমার স্ত্রীকে রামদা দিয়ে কোপায় তারা।’
পৌর মেয়র আব্দুল হান্নান তালুকদার জানান, ‘আমি এর আগে ওখান গিয়ে মিনাকে বলে এসেছি নির্ধারিত সীমার মধ্যে সড়ক নির্মাণ করতে। কিন্তু সে জেদের ওপর কাজ করেছে হয়তো। এটা নিয়ে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। আহতরা সুস্থ হলে বসে একটা সমাধান করে দেব।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামের কাছে মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ছোট খাটো একটা বিষয়। মারামারিতো হবেই। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে।’