ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
ব্রেকিং নিউজ ::
চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২ :: ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে যুবক নিহত :: রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত :: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন :: রণক্ষেত্র মহাখালী, পুলিশ বক্সের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন :: চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা :: আজও ছাত্রলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র ঢাবি

কলাপাড়ার উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
  • / ৪৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সামনেই ঘূর্ণিঝড় মৌসুম। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের শত শত পরিবার। উপজেলার আয়তন ৪৯২.১০ বর্গ কি.মি। এখানে ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা, ২৪৪টি গ্রাম রয়েছে। উপজেলা ২২ টি স্পটে ৯.১৯ কি. মি. বেরিবাঁধ বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় যদি উপকূলে আঘাত নাও হানে, তবুও এর প্রভাবে নদ নদীতে পানির চাপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ পর্যন্ত যতগুলো দুর্যোগ এসেছে, এর বেশির ভাগই মে মাসে। এ জন্য মে মাস এলে আতঙ্কিত থাকে উপকূলের মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৭/৪ পোল্ডারের মিঠাগঞ্জ বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে বাঁধের রিভার সাইডের মূল বাঁধসহ বাঁধ রক্ষায় দেয়া জিওব্যাগ ধ্বসে আন্ধারমানিক নদীতে পড়ে গেছে। ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বাঁধের কান্ট্রি সাইডেও। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাঁটল। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ৪৬ নং পোল্ডারের নীলগঞ্জ ইউনিয়নে গইয়াতলা গ্রামের ভাঙা বাঁধ সংলগ্ন ছয়টি গ্রামের মানুষ রয়েছে আতঙ্কে। বাঁধসহ সুইজগেট ভেঙে পড়ার পর এবার বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে এলাকার মানুষ। সোনাতলা নদীর ঢেউয়ের তোরে গইয়াতলা বেড়িবাঁধের রিভার সাইডের বাঁধ সোনাতলা নদীতে ভেঙে পড়েছে। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ফাটল।
সম্পদ হারাণোর আর্তনাদে ক্রমশ ভারি হচ্ছে ৪৭ নং পোল্ডারের মহিপুর ইউনিয়নে সিডরের পর থেকে নিজামপুর পাঁচ গ্রামের মানুষ দশ বছর যাবৎ জমিতে কোন চাষ করতে পারিনি। এর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগনের দূর্ভোগ লাগবে এখানের রিং বেরিবাঁধ করে দেয়। এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে ভুগছে। হুমকিতে পড়বে উপজেলা নিজামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাকা বøাক ফেলে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন করে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন। সাগর ও নদীর প্রতিটি জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বসত ঘর, আবাদি জমি ও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নিঃস্ব হতে হতে এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল এখন শুধুই বেঁচে থাকার আকুতি। এভাবে পাউবো’র পূর্ব গৈয়াতলা, লেমুপাড়া, চম্পাপুর, মঞ্জুপাড়া, মুন্সী পাড়া, নিজামপুর, জালালপুর, ধূলাসার, বালিয়াতলী, দেবপুর, নাচনাপাড়া, বড়কলবাড়ি, খ্রিষ্টান পাড়া, চরান্ডা, চর মোন্তাজ, চালিতবুনিয়া বড় বাইশদিযা বেরিবাঁধ।
তারা প্রতিবেদকে জানান, ত্রান চাইনা শুধু বাঁধটা নির্মানের দাবি জানায়। অন্য দিকে ঘূর্নিঝড় সিডরে নিশ্চিহ্ন আন্দারমানিক নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের দিন কেটেছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্ষা মওসুমে পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা কলাপাড়া উপজেলা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সময় মতো মেরামতের উদ্যোগ নিলে কম খরচ ও কম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্ভব। তবে বর্ষার আগ মুহূর্তে যখন নদীতে জোয়ারের পানি বেডে বাঁধ কানায় কানায় পূর্ণ হয়, পাউবো কর্তৃপক্ষ সে সময় এসে মেরামতের উদ্যোগ নেয়। এতে একদিকে খরচ বাড়ে, অন্যদিকে তড়িঘড়িতে কাজ হয় নিম্নমানের। প্রতি বছরের মে মাস এলেই পাউবো কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামতের তোড়জোড় শুরু করে। কী কারণে তা কেউ বলতে পারে না। অথচ শীত মৌসুমে কাজ করার অনেক সুবিধা। তিনি অভিযোগ করেন, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টির জন্য পাউবোর লোকজন অসময়ে এসে কাজ ধরেন।
সূত্র মতে, দেড় যুগের অধিক সময় ধরে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বহু স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত করতে না পারায় উপকূলের অনেক লোকালয়ে এখনো চলছে জোয়ার ভাটা। ফলে নদীর সাথে তাল মিলিয়ে রীতিমতো জোয়ারভাটার মধ্যে বসবাস করছে উপকূলীয় দুর্গত জনপদের হাজার হাজার পরিবার। উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে উঁচু বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে উপকূলের অনেক গ্রাম। বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হলেও সাগর মোহনা আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে পানি ভাঙন কবলিত অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। কাঙ্খিত ফসল পায়নি কৃষকরা। এছাড়া বন্ধ হয়ে যায় বাঁধ সংশ্লিষ্ট  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে উপকূলে ১২টি ইউনিয়নে বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বর্ষা মৌসুমের আগেই রাবনাবাঁধ, আন্দারমানিক ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে বসতভিটা আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
উপকূলের বাসিন্দারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানালেও তাঁরা শুধু আশ্বাস দেন। বাঁধ মেরামতে কেউ উদ্যোগ নেন না। বর্ষায় যখন জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়, তখন মেরামতে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে কাজের ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কাজ হয় নিম্নমানের। প্রায় সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। জনপ্রতিনিধিদের দাবি, পরিকল্পিত ও স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় প্রতিবছর ভাঙন দেখা দেয়। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের গাফিলতিই দায়ী।
গইয়াতলা গ্রামের মাসুম বিল্লাহু বলেন, “নদীর পানির চাপে গইয়াতলা বাঁধ সুইসগেটের দুই পাশে বাঁধে ফাটল ধরিছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামত করতিছে না। সময়ের কাজ সময়মতো করলি আমাগে এত ভূগতি হতো না। গাঙের পানি যখন চরের নিচে থাকে, তখন কারও দেখা পাওয়া যায় না। যেই সময় গাঙের পানি বান্ধের কানায় কানায় আইসে ঠেকে, তখনই শুরু হয় ‘মিয়া সাহেবগে’ তোড়জোড়। এ পর্যন্ত মতবার বান্দ ভাঙিছে সব ওই সাহেবগের গাফিলাতির কারণেই ঘটিছে।”
নিজামপুর বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে কৃষক মো.আশ্রাফ উদ্দিন বিশ্বাস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানির চাপ বাড়লে এ বাঁধটি যে কোন মুহুর্তে ছুটে যেতে পারে। তখন যাওয়ার আর কোন জায়গা থাকবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান.দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান সরেজমিনে গৈয়াতলা বেরিবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, কিছু দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেনবলেন, পুর্বের যে জায়গা বেরবিাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানে নতুন করে জিওব্যাগ দেওয়া হবে ও মাটি সরে গেছে সেখানে নতুন করে মাটি দেওয়া হবে। গৈয়াতলা এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন বেরিবাঁধের কাজ শুরু হবে। ধুলাসার ও গৈয়াতলা দু’বাঁধে স্থাযী প্রকল্প বেøাক দেওয়ার প্রকল্প তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন র্বোড প্রতিবেধকে জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের সাথে মিটিং হয়েছে তারা বলছে বেরিবাঁধ গুলো পর্যায় ক্রমে মেরামত করা হবে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

কলাপাড়ার উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
সামনেই ঘূর্ণিঝড় মৌসুম। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের শত শত পরিবার। উপজেলার আয়তন ৪৯২.১০ বর্গ কি.মি। এখানে ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা, ২৪৪টি গ্রাম রয়েছে। উপজেলা ২২ টি স্পটে ৯.১৯ কি. মি. বেরিবাঁধ বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় যদি উপকূলে আঘাত নাও হানে, তবুও এর প্রভাবে নদ নদীতে পানির চাপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ পর্যন্ত যতগুলো দুর্যোগ এসেছে, এর বেশির ভাগই মে মাসে। এ জন্য মে মাস এলে আতঙ্কিত থাকে উপকূলের মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৭/৪ পোল্ডারের মিঠাগঞ্জ বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে বাঁধের রিভার সাইডের মূল বাঁধসহ বাঁধ রক্ষায় দেয়া জিওব্যাগ ধ্বসে আন্ধারমানিক নদীতে পড়ে গেছে। ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বাঁধের কান্ট্রি সাইডেও। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাঁটল। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ৪৬ নং পোল্ডারের নীলগঞ্জ ইউনিয়নে গইয়াতলা গ্রামের ভাঙা বাঁধ সংলগ্ন ছয়টি গ্রামের মানুষ রয়েছে আতঙ্কে। বাঁধসহ সুইজগেট ভেঙে পড়ার পর এবার বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে এলাকার মানুষ। সোনাতলা নদীর ঢেউয়ের তোরে গইয়াতলা বেড়িবাঁধের রিভার সাইডের বাঁধ সোনাতলা নদীতে ভেঙে পড়েছে। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ফাটল।
সম্পদ হারাণোর আর্তনাদে ক্রমশ ভারি হচ্ছে ৪৭ নং পোল্ডারের মহিপুর ইউনিয়নে সিডরের পর থেকে নিজামপুর পাঁচ গ্রামের মানুষ দশ বছর যাবৎ জমিতে কোন চাষ করতে পারিনি। এর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগনের দূর্ভোগ লাগবে এখানের রিং বেরিবাঁধ করে দেয়। এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে ভুগছে। হুমকিতে পড়বে উপজেলা নিজামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাকা বøাক ফেলে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন করে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন। সাগর ও নদীর প্রতিটি জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বসত ঘর, আবাদি জমি ও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নিঃস্ব হতে হতে এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল এখন শুধুই বেঁচে থাকার আকুতি। এভাবে পাউবো’র পূর্ব গৈয়াতলা, লেমুপাড়া, চম্পাপুর, মঞ্জুপাড়া, মুন্সী পাড়া, নিজামপুর, জালালপুর, ধূলাসার, বালিয়াতলী, দেবপুর, নাচনাপাড়া, বড়কলবাড়ি, খ্রিষ্টান পাড়া, চরান্ডা, চর মোন্তাজ, চালিতবুনিয়া বড় বাইশদিযা বেরিবাঁধ।
তারা প্রতিবেদকে জানান, ত্রান চাইনা শুধু বাঁধটা নির্মানের দাবি জানায়। অন্য দিকে ঘূর্নিঝড় সিডরে নিশ্চিহ্ন আন্দারমানিক নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের দিন কেটেছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্ষা মওসুমে পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা কলাপাড়া উপজেলা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সময় মতো মেরামতের উদ্যোগ নিলে কম খরচ ও কম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্ভব। তবে বর্ষার আগ মুহূর্তে যখন নদীতে জোয়ারের পানি বেডে বাঁধ কানায় কানায় পূর্ণ হয়, পাউবো কর্তৃপক্ষ সে সময় এসে মেরামতের উদ্যোগ নেয়। এতে একদিকে খরচ বাড়ে, অন্যদিকে তড়িঘড়িতে কাজ হয় নিম্নমানের। প্রতি বছরের মে মাস এলেই পাউবো কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামতের তোড়জোড় শুরু করে। কী কারণে তা কেউ বলতে পারে না। অথচ শীত মৌসুমে কাজ করার অনেক সুবিধা। তিনি অভিযোগ করেন, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টির জন্য পাউবোর লোকজন অসময়ে এসে কাজ ধরেন।
সূত্র মতে, দেড় যুগের অধিক সময় ধরে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বহু স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত করতে না পারায় উপকূলের অনেক লোকালয়ে এখনো চলছে জোয়ার ভাটা। ফলে নদীর সাথে তাল মিলিয়ে রীতিমতো জোয়ারভাটার মধ্যে বসবাস করছে উপকূলীয় দুর্গত জনপদের হাজার হাজার পরিবার। উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে উঁচু বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে উপকূলের অনেক গ্রাম। বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হলেও সাগর মোহনা আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে পানি ভাঙন কবলিত অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। কাঙ্খিত ফসল পায়নি কৃষকরা। এছাড়া বন্ধ হয়ে যায় বাঁধ সংশ্লিষ্ট  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে উপকূলে ১২টি ইউনিয়নে বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বর্ষা মৌসুমের আগেই রাবনাবাঁধ, আন্দারমানিক ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে বসতভিটা আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
উপকূলের বাসিন্দারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানালেও তাঁরা শুধু আশ্বাস দেন। বাঁধ মেরামতে কেউ উদ্যোগ নেন না। বর্ষায় যখন জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়, তখন মেরামতে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে কাজের ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কাজ হয় নিম্নমানের। প্রায় সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। জনপ্রতিনিধিদের দাবি, পরিকল্পিত ও স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় প্রতিবছর ভাঙন দেখা দেয়। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের গাফিলতিই দায়ী।
গইয়াতলা গ্রামের মাসুম বিল্লাহু বলেন, “নদীর পানির চাপে গইয়াতলা বাঁধ সুইসগেটের দুই পাশে বাঁধে ফাটল ধরিছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামত করতিছে না। সময়ের কাজ সময়মতো করলি আমাগে এত ভূগতি হতো না। গাঙের পানি যখন চরের নিচে থাকে, তখন কারও দেখা পাওয়া যায় না। যেই সময় গাঙের পানি বান্ধের কানায় কানায় আইসে ঠেকে, তখনই শুরু হয় ‘মিয়া সাহেবগে’ তোড়জোড়। এ পর্যন্ত মতবার বান্দ ভাঙিছে সব ওই সাহেবগের গাফিলাতির কারণেই ঘটিছে।”
নিজামপুর বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে কৃষক মো.আশ্রাফ উদ্দিন বিশ্বাস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানির চাপ বাড়লে এ বাঁধটি যে কোন মুহুর্তে ছুটে যেতে পারে। তখন যাওয়ার আর কোন জায়গা থাকবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান.দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান সরেজমিনে গৈয়াতলা বেরিবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, কিছু দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেনবলেন, পুর্বের যে জায়গা বেরবিাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানে নতুন করে জিওব্যাগ দেওয়া হবে ও মাটি সরে গেছে সেখানে নতুন করে মাটি দেওয়া হবে। গৈয়াতলা এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন বেরিবাঁধের কাজ শুরু হবে। ধুলাসার ও গৈয়াতলা দু’বাঁধে স্থাযী প্রকল্প বেøাক দেওয়ার প্রকল্প তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন র্বোড প্রতিবেধকে জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের সাথে মিটিং হয়েছে তারা বলছে বেরিবাঁধ গুলো পর্যায় ক্রমে মেরামত করা হবে।
বাখ//আর