ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কলাপাড়ায়  টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • / ৪৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়া কামাড়পাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা। গবাদি পশু কোরবানির পর মাংস কাটার সামগ্রী কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন কামারের দোকানে। দিনরাত চাকু, ছুরি, দা, বঁটিসহ নানা জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা। গনগনে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটাপিটিতে টুংটাং শব্দে মুখর কামারপাড়া।
সরেজমিনে পৌর শহরের কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দা, ছুরি, বঁটি, চাকু, চাপাতি ও ছোট কুড়ালসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করে সারিবদ্ধ করে পসরা সাজিয়ে রেখেছেন কামাররা। কেউ এসব বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ ব্যস্ত নতুন নতুন এসব যন্ত্রপাতি তৈরিতে। তবে এসবের মধ্যে ছুরি, দা ও চাপাতির চাহিদাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু শহরের কামারপট্টিই নয় এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন সবক’টি বাজারেই এখন একই চিত্র। আলাপকালে কয়েকজন কামার জানান, লোহার দাম বেশি হওয়ায় এবার কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে গবাদি পশুর মাংস কাটার যন্ত্রপাতি। এসবের মধ্যে ছুরি (ছোট) ১’শত ৫০ টাকা, মাঝারি ৩৫০ টাকা এবং বড় জবাই ছুরি ৫’শ’ত থেকে ৭’শত  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাপাতি সাড়ে ৪’শত থেকে ৫ ‘শত  টাকা, দা, বটি ৬’শত  টাকা,  কুড়াল ৪’শত থেকে  ৫’শত  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পশুর চামড়া কাটার জন্য ছোট ছোট চাকু বিক্রি হচ্ছে ১ ‘শত থেকে দেড়শ টাকায়।
রতন কর্মকার বলেন, প্রতি বছরের এই সময়টা বেচাকেনা ভালো হবে এজন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। এ বছর বেচাকেনা নাই বললেই চলে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন এই পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
ভাষা রাম কর্মকার বলেন, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে গবাদি পশু কোরবানির জন্য দা, চাকু, চাপাতিসহ সব ধরনের যন্ত্র তৈরি করিছি। কিন্তুু বাজারে চায়নার দা,ছুরি, চাপাতি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সয়লাব ও দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা চায়নার মালামাল কিনতে  ওদিকেই ঝুঁকছেন । এজন্য আমাদের গত বছর তুলনায় এ বছর  বেচাকেনা ও কম।
নীলগঞ্জের  বাসিন্দা সামসুল আলম এক ক্রেতা জানান, এক ক্রেতা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি দামে এসব সামগ্রী কিনতে হচ্ছে।
বালিয়াতলির বাসিন্দা হানিফ হাওলাদার অপর এক ক্রেতা জানান, তিনি কোরবানি উপলক্ষে কয়েকটি ছুরি ও দা কিনতে এসেছেন। এবার এসবের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। এজন্য দোকান ঘুরে দরদাম করছেন।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

কলাপাড়ায়  টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া

আপডেট সময় : ০৭:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়া কামাড়পাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা। গবাদি পশু কোরবানির পর মাংস কাটার সামগ্রী কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন কামারের দোকানে। দিনরাত চাকু, ছুরি, দা, বঁটিসহ নানা জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা। গনগনে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটাপিটিতে টুংটাং শব্দে মুখর কামারপাড়া।
সরেজমিনে পৌর শহরের কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দা, ছুরি, বঁটি, চাকু, চাপাতি ও ছোট কুড়ালসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করে সারিবদ্ধ করে পসরা সাজিয়ে রেখেছেন কামাররা। কেউ এসব বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ ব্যস্ত নতুন নতুন এসব যন্ত্রপাতি তৈরিতে। তবে এসবের মধ্যে ছুরি, দা ও চাপাতির চাহিদাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু শহরের কামারপট্টিই নয় এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন সবক’টি বাজারেই এখন একই চিত্র। আলাপকালে কয়েকজন কামার জানান, লোহার দাম বেশি হওয়ায় এবার কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে গবাদি পশুর মাংস কাটার যন্ত্রপাতি। এসবের মধ্যে ছুরি (ছোট) ১’শত ৫০ টাকা, মাঝারি ৩৫০ টাকা এবং বড় জবাই ছুরি ৫’শ’ত থেকে ৭’শত  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাপাতি সাড়ে ৪’শত থেকে ৫ ‘শত  টাকা, দা, বটি ৬’শত  টাকা,  কুড়াল ৪’শত থেকে  ৫’শত  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পশুর চামড়া কাটার জন্য ছোট ছোট চাকু বিক্রি হচ্ছে ১ ‘শত থেকে দেড়শ টাকায়।
রতন কর্মকার বলেন, প্রতি বছরের এই সময়টা বেচাকেনা ভালো হবে এজন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। এ বছর বেচাকেনা নাই বললেই চলে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন এই পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
ভাষা রাম কর্মকার বলেন, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে গবাদি পশু কোরবানির জন্য দা, চাকু, চাপাতিসহ সব ধরনের যন্ত্র তৈরি করিছি। কিন্তুু বাজারে চায়নার দা,ছুরি, চাপাতি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সয়লাব ও দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা চায়নার মালামাল কিনতে  ওদিকেই ঝুঁকছেন । এজন্য আমাদের গত বছর তুলনায় এ বছর  বেচাকেনা ও কম।
নীলগঞ্জের  বাসিন্দা সামসুল আলম এক ক্রেতা জানান, এক ক্রেতা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি দামে এসব সামগ্রী কিনতে হচ্ছে।
বালিয়াতলির বাসিন্দা হানিফ হাওলাদার অপর এক ক্রেতা জানান, তিনি কোরবানি উপলক্ষে কয়েকটি ছুরি ও দা কিনতে এসেছেন। এবার এসবের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। এজন্য দোকান ঘুরে দরদাম করছেন।
বাখ//আর