ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কয়রার সজনে ডাটা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায় : লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৯৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়রায় আমাদী ইউনিয়নে পাটনীখালি বেঁচপাড়া গ্রামের বিথীকা, লিপিকা, বাসন্তীকে এখন আর ভাত কাপড়ের চিন্তায় অস্থির হতে হয় না। ভোরে ছুটতে হয় না কাজের আশায় গৃহস্থের উঠানে। বাড়ীর উঠান, রাস্তার ধারে, আনাচেকানাচে, পুকুড় পাড়ে ও পতিত জায়গায় লাগানো সজনে গাছের ডাঁটা ও ডাল তাদের আয়ের উৎস।
ওই গ্রামের নারীদের মতো উপজেলার মসজিদকুড়, হাতিয়ারডাঙ্গা, কিনুকাটি, পাটনীখালি, চন্ডিপুর বামিয়া, বগা ও বাঁশখালি গ্রামের কয়েক শ নারী সজনে ডাঁটা বেঁচে প্রতি গাছ থেকে আয় করছেন গাছের ফলন অনুয়ায়ী ৩ হাজার, ৫ হাজার, ৭ হাজার, থেকে ১০ হাজার টাকা।

এবার গত বছরের চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। তরকারি হিসেবে সজনের জুড়ি নেই, পুষ্টিগুনে ভরপুর ও আঁশ জাতীয় সবজি, তাইতো এর কদর রয়েছে সর্বত্র। সমগ্র দেশে সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সজনে চাষীদের মুখে হাসি। সজনে সবজি বিক্রয় করে তারা আয়ও করছে অনেক। সংসারে তাদের ফিরছে স্বচ্ছলতা। উপজেলার প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে ও বাড়ীর উঠানে পরিত্যক্ত জায়গায় সারি সারি সজনে গাছ চোখে পড়ে। গ্রামে গঞ্জে সবখানে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাঁটা ধরেছে। দ্বিগুণ আমদানীও বেড়েছে বাজারে। স্থানীয় হাট বাজারে সজনে ডাঁটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাঁটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হচ্ছে। ফাল্গুন মাসের শেষের দিক থেকে ২০/২৫ দিন ধরে প্রতিদিন উপজেলার আমাদী, বাগালী ও মহেশরীপুর ইউনিয়নের যে কোন গ্রাম থেকে শত শত মণ সজনে ডাাঁটা আমদানি হচ্ছে। বাইরে থেকে ব্যাপারী ১ এসে এক মাস ধরে বাড়ী ভাড়া করে থেকে গাছ দেখে অনুমান করে ৩,৫ এমনকি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গাছ কিনে মজুরি ধরে গাছ থেকে সজনে পেড়ে আটি বেঁধে ট্রাক ভর্তি করে এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমদানী হচ্ছে।

বেঁচপাড়া গ্রামের গ্রামের তেজন মিস্ত্রী বলেন, আমার এবার ১০ টি গাছে সজনে ধরেছে। প্রথমে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি স্থানীয় বেপারির কাছে। কিন্তু অনেকে যখন গাছে ফুল আসে তখন বাইরে বেপারির কাছে কম মূল্যে আগাম টাকা নিয়ে গাছ বিক্রি করে। । এছাড়া কাচামাল ব্যবসায়ী অজয় ও রবেন মিস্ত্রী ব্যাবসার পাশাপশি বাড়ীর চারদিকে সজনে গাছ লাগিয়ে ৩৫/৪০ হাজার টাকার সজনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে ।

চন্ডিপুর গ্রামের দিপংকার বলেন, সজনে চাষের জন্য বিশেষ কোন পদ্ধতি গ্রহন করেেত হয়না। এর জন্য আলাদা কোন পদ্ধতি গ্রহন করতে হয়না। যে কোন পতিত জমি. পুকুর পাড়, রাস্তার ধার, বাড়ির আঙিনা, এমনি যেকোন ফাঁকা শুষ্ক জায়গায় সজনে গাছ লাগানো যায়। এর কোন বীজ বা চারাও প্রয়োজন হয়না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এর জন্য কোন সার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। অবহেলা অযত্নে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে সজনে গাছ।

ওই গ্রামের এক গৃহবধু সীতা বেগম বলেন, “বাড়তি আসি সজনে কিনি নিয়া যায় বাইরে থেকে আসা বেপারির লোকজন। এলেকার মানুষও ডাল কেনে নেয়। সজনে চাষে কোনো খরচ নেই, ঔষধপাতি লাগে না। গাছ লাগে থুইলে এমনিতে হয়। কওয়া চলে সজনে ও ডাল বেঁচে যে টাকা পাইছি, ওটা ফাউ কামাই।

বাগালী ইউনিয়নে বামিয়া সরদার বাড়ী মোড় ঢুকতেই ছকিনা বেগমের বাড়ী। বাড়ীর পাশে লাগানো সজনে ডাটা পাড়তে ব্যস্ত তিনি। কথা হলে ছকিনি বেগম বলেন, বাড়ির কানাচে ৬/৭ টা সজনে গাছ নাগাইছি। কোনো খরচ নেই ওই সজনে গাছের সজনে বেঁচে ২৫/৩০ হাজার টাকার বেশি আয় করছি। মোর মতোন গ্রামের অন্যরাও সজনে বেঁচে বাড়তি আয় করোছে।

তালা থানা ইসলামকাটি থেকে আসা ব্যাপারি রেজাউল, গোলাম ও নয়নের সাথে কথা হলে বলেন, তারা এবার কয়রায় ১৫ লাখ টাকার সজনে গাছ কিনেছেন। বিভিন্ন গ্রামে সজনে গাছ থেকে সজনে পেড়ে এক জায়গায় করে আটি বেঁধে সংগ্রাম মোড় থেকে প্রতিদিন মিনি ট্রাকে করে তারা ঢাকা, পঞ্চগড়, ময়ময়ংসিং, চিটাগং, জেলায় কাঁচামালের আড়তে পাইকারি বিক্রি করেন। তারা বলেন প্রথম দিকে সজনে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে কিন্তু এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্র করতে হচ্ছে। তারা প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক নিয়ে গাছ থেকে সজনে পাড়েন। প্রতিটি শ্রমিকের দিনপ্রতি ৬০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়। লাভের কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, এ ব্যবসা ১ থেকে দেড় মাস চলে এবার সব খরচ বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন ব্যাপারিরা।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম আর হাসান বলেন, সজনে পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এর অভাব দূরিকরনে সজিনা অত্যান্ত একটি খাবার। বিজ্ঞানীরা পুষ্টির দিক দিয়ে সজিনাকে পুষ্টির ডিনামাইট আখ্যায়িত করে বলেন, এ গাছটি পুষ্টি ও ঔষধীগুণ সম্পন্ন। এটি একটি মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ’ এর পুষ্টিগুন খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রামে খাদ্য শক্তি কি.ক্যাল৪৩, পানি ৮৫.২ গ্রাম, আমিষ ২.৯ (গ্রাম) চর্বি, ০.২ (মি.গ্রাম), জিংক ০.১৬ (মি.গ্রাম), ভিটা-এ ২৬(মি.গ্রাম), ভিটা-বি১ ০.০৪(মি.গ্রাম), ভিটা-বি২ ০.০৪(মি.গ্রাম), ভিটামিন-সি ৬৯.৯(মি.গ্রাম)।

তিনি সজনি পাতার গুনাগুন সম্পর্কে বলেন, বিজ্ঞানীরা মনে করেন সজিনার পাতা পুষ্টিগুণের আধার। নিরামিষভোগীরা সজিনার পাতা থেকে বেশি উপকৃত হতে পারেন। সজিনার পাতায় কমলা লেবুর ৭ গুন ভিটামিন –সি, দুধের ৪ গুন ক্যালসিয়াম এবং দুই গুন আমিষ, গাজরের ৪ গুন ভিটামিন-এ, কলার ৩ গুন পটাশিয়াম বিদ্যমান। এতে ৪২% আমিষ, ১২৫%ক্যালসিয়াম, ৬১% ম্যাগনেসিয়াম, ৪১% পটাশিয়াম, ৭১% লৌহ, ২৭২% ভিটামিন-এ এবং ২২% ভিটামিন-সি সহ দেহের আবশ্যকীয় বহু পুষ্টি উপাদান থাকে। যা দৈনিক ৬ চামচ সজনে পাতার গুড়া একটি গর্ভবতীবা স্তন্যদাত্রী মায়ের চাহিদার সবটুকু ক্যালসিয়াম ও আয়রন সরবরাহ করতে সক্ষম।

ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রমতে সজিনা গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এটি প্যারালাইসেস রোগের প্রতিশেধক ও মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রেণে এবং উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের অনেক উপকার করে। তাছাড়া সজিনায় শরির ব্যাথা , হাঁপানি, গ্যাস, জ¦র ও সর্দি, বহুমূত্র রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও দৃষ্টিশক্তি, গেটেবাত, ক্রিমিনাশক সায়টিকা, চর্মরোগ, হ্নদরোদ, মা¦সকষ্ট , মাথা ধরা, মাইগ্রেন এবং চুল পড়া রোগের চিকিৎসায় ও সজিনা কার্যকর ভুমিকা রাখে।

উপজেলার কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সজিনা একটি পরিবেশবান্ধব সবজি। এটি অনাবাদি ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। সজিনা চাষে পানির খরচ কম লাগে। এটি রোগ বালাই নেই বললেই চলে এবং অন্যান্য খরচ তেমন নেই। তাই উপজেলার চাষীদের সজনে চাষে বিনা পুজিতে বাণিজ্যিকভাবে এর বাগান করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অনেকেই এ সজনে চাষাবাদ করে অপ্রত্যাশিত লাভবান হন।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

কয়রার সজনে ডাটা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায় : লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

কয়রায় আমাদী ইউনিয়নে পাটনীখালি বেঁচপাড়া গ্রামের বিথীকা, লিপিকা, বাসন্তীকে এখন আর ভাত কাপড়ের চিন্তায় অস্থির হতে হয় না। ভোরে ছুটতে হয় না কাজের আশায় গৃহস্থের উঠানে। বাড়ীর উঠান, রাস্তার ধারে, আনাচেকানাচে, পুকুড় পাড়ে ও পতিত জায়গায় লাগানো সজনে গাছের ডাঁটা ও ডাল তাদের আয়ের উৎস।
ওই গ্রামের নারীদের মতো উপজেলার মসজিদকুড়, হাতিয়ারডাঙ্গা, কিনুকাটি, পাটনীখালি, চন্ডিপুর বামিয়া, বগা ও বাঁশখালি গ্রামের কয়েক শ নারী সজনে ডাঁটা বেঁচে প্রতি গাছ থেকে আয় করছেন গাছের ফলন অনুয়ায়ী ৩ হাজার, ৫ হাজার, ৭ হাজার, থেকে ১০ হাজার টাকা।

এবার গত বছরের চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। তরকারি হিসেবে সজনের জুড়ি নেই, পুষ্টিগুনে ভরপুর ও আঁশ জাতীয় সবজি, তাইতো এর কদর রয়েছে সর্বত্র। সমগ্র দেশে সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সজনে চাষীদের মুখে হাসি। সজনে সবজি বিক্রয় করে তারা আয়ও করছে অনেক। সংসারে তাদের ফিরছে স্বচ্ছলতা। উপজেলার প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে ও বাড়ীর উঠানে পরিত্যক্ত জায়গায় সারি সারি সজনে গাছ চোখে পড়ে। গ্রামে গঞ্জে সবখানে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাঁটা ধরেছে। দ্বিগুণ আমদানীও বেড়েছে বাজারে। স্থানীয় হাট বাজারে সজনে ডাঁটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাঁটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হচ্ছে। ফাল্গুন মাসের শেষের দিক থেকে ২০/২৫ দিন ধরে প্রতিদিন উপজেলার আমাদী, বাগালী ও মহেশরীপুর ইউনিয়নের যে কোন গ্রাম থেকে শত শত মণ সজনে ডাাঁটা আমদানি হচ্ছে। বাইরে থেকে ব্যাপারী ১ এসে এক মাস ধরে বাড়ী ভাড়া করে থেকে গাছ দেখে অনুমান করে ৩,৫ এমনকি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গাছ কিনে মজুরি ধরে গাছ থেকে সজনে পেড়ে আটি বেঁধে ট্রাক ভর্তি করে এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমদানী হচ্ছে।

বেঁচপাড়া গ্রামের গ্রামের তেজন মিস্ত্রী বলেন, আমার এবার ১০ টি গাছে সজনে ধরেছে। প্রথমে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি স্থানীয় বেপারির কাছে। কিন্তু অনেকে যখন গাছে ফুল আসে তখন বাইরে বেপারির কাছে কম মূল্যে আগাম টাকা নিয়ে গাছ বিক্রি করে। । এছাড়া কাচামাল ব্যবসায়ী অজয় ও রবেন মিস্ত্রী ব্যাবসার পাশাপশি বাড়ীর চারদিকে সজনে গাছ লাগিয়ে ৩৫/৪০ হাজার টাকার সজনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে ।

চন্ডিপুর গ্রামের দিপংকার বলেন, সজনে চাষের জন্য বিশেষ কোন পদ্ধতি গ্রহন করেেত হয়না। এর জন্য আলাদা কোন পদ্ধতি গ্রহন করতে হয়না। যে কোন পতিত জমি. পুকুর পাড়, রাস্তার ধার, বাড়ির আঙিনা, এমনি যেকোন ফাঁকা শুষ্ক জায়গায় সজনে গাছ লাগানো যায়। এর কোন বীজ বা চারাও প্রয়োজন হয়না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এর জন্য কোন সার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। অবহেলা অযত্নে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে সজনে গাছ।

ওই গ্রামের এক গৃহবধু সীতা বেগম বলেন, “বাড়তি আসি সজনে কিনি নিয়া যায় বাইরে থেকে আসা বেপারির লোকজন। এলেকার মানুষও ডাল কেনে নেয়। সজনে চাষে কোনো খরচ নেই, ঔষধপাতি লাগে না। গাছ লাগে থুইলে এমনিতে হয়। কওয়া চলে সজনে ও ডাল বেঁচে যে টাকা পাইছি, ওটা ফাউ কামাই।

বাগালী ইউনিয়নে বামিয়া সরদার বাড়ী মোড় ঢুকতেই ছকিনা বেগমের বাড়ী। বাড়ীর পাশে লাগানো সজনে ডাটা পাড়তে ব্যস্ত তিনি। কথা হলে ছকিনি বেগম বলেন, বাড়ির কানাচে ৬/৭ টা সজনে গাছ নাগাইছি। কোনো খরচ নেই ওই সজনে গাছের সজনে বেঁচে ২৫/৩০ হাজার টাকার বেশি আয় করছি। মোর মতোন গ্রামের অন্যরাও সজনে বেঁচে বাড়তি আয় করোছে।

তালা থানা ইসলামকাটি থেকে আসা ব্যাপারি রেজাউল, গোলাম ও নয়নের সাথে কথা হলে বলেন, তারা এবার কয়রায় ১৫ লাখ টাকার সজনে গাছ কিনেছেন। বিভিন্ন গ্রামে সজনে গাছ থেকে সজনে পেড়ে এক জায়গায় করে আটি বেঁধে সংগ্রাম মোড় থেকে প্রতিদিন মিনি ট্রাকে করে তারা ঢাকা, পঞ্চগড়, ময়ময়ংসিং, চিটাগং, জেলায় কাঁচামালের আড়তে পাইকারি বিক্রি করেন। তারা বলেন প্রথম দিকে সজনে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে কিন্তু এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্র করতে হচ্ছে। তারা প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক নিয়ে গাছ থেকে সজনে পাড়েন। প্রতিটি শ্রমিকের দিনপ্রতি ৬০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়। লাভের কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, এ ব্যবসা ১ থেকে দেড় মাস চলে এবার সব খরচ বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন ব্যাপারিরা।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম আর হাসান বলেন, সজনে পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এর অভাব দূরিকরনে সজিনা অত্যান্ত একটি খাবার। বিজ্ঞানীরা পুষ্টির দিক দিয়ে সজিনাকে পুষ্টির ডিনামাইট আখ্যায়িত করে বলেন, এ গাছটি পুষ্টি ও ঔষধীগুণ সম্পন্ন। এটি একটি মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ’ এর পুষ্টিগুন খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রামে খাদ্য শক্তি কি.ক্যাল৪৩, পানি ৮৫.২ গ্রাম, আমিষ ২.৯ (গ্রাম) চর্বি, ০.২ (মি.গ্রাম), জিংক ০.১৬ (মি.গ্রাম), ভিটা-এ ২৬(মি.গ্রাম), ভিটা-বি১ ০.০৪(মি.গ্রাম), ভিটা-বি২ ০.০৪(মি.গ্রাম), ভিটামিন-সি ৬৯.৯(মি.গ্রাম)।

তিনি সজনি পাতার গুনাগুন সম্পর্কে বলেন, বিজ্ঞানীরা মনে করেন সজিনার পাতা পুষ্টিগুণের আধার। নিরামিষভোগীরা সজিনার পাতা থেকে বেশি উপকৃত হতে পারেন। সজিনার পাতায় কমলা লেবুর ৭ গুন ভিটামিন –সি, দুধের ৪ গুন ক্যালসিয়াম এবং দুই গুন আমিষ, গাজরের ৪ গুন ভিটামিন-এ, কলার ৩ গুন পটাশিয়াম বিদ্যমান। এতে ৪২% আমিষ, ১২৫%ক্যালসিয়াম, ৬১% ম্যাগনেসিয়াম, ৪১% পটাশিয়াম, ৭১% লৌহ, ২৭২% ভিটামিন-এ এবং ২২% ভিটামিন-সি সহ দেহের আবশ্যকীয় বহু পুষ্টি উপাদান থাকে। যা দৈনিক ৬ চামচ সজনে পাতার গুড়া একটি গর্ভবতীবা স্তন্যদাত্রী মায়ের চাহিদার সবটুকু ক্যালসিয়াম ও আয়রন সরবরাহ করতে সক্ষম।

ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রমতে সজিনা গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এটি প্যারালাইসেস রোগের প্রতিশেধক ও মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রেণে এবং উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের অনেক উপকার করে। তাছাড়া সজিনায় শরির ব্যাথা , হাঁপানি, গ্যাস, জ¦র ও সর্দি, বহুমূত্র রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য ও দৃষ্টিশক্তি, গেটেবাত, ক্রিমিনাশক সায়টিকা, চর্মরোগ, হ্নদরোদ, মা¦সকষ্ট , মাথা ধরা, মাইগ্রেন এবং চুল পড়া রোগের চিকিৎসায় ও সজিনা কার্যকর ভুমিকা রাখে।

উপজেলার কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সজিনা একটি পরিবেশবান্ধব সবজি। এটি অনাবাদি ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। সজিনা চাষে পানির খরচ কম লাগে। এটি রোগ বালাই নেই বললেই চলে এবং অন্যান্য খরচ তেমন নেই। তাই উপজেলার চাষীদের সজনে চাষে বিনা পুজিতে বাণিজ্যিকভাবে এর বাগান করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। অনেকেই এ সজনে চাষাবাদ করে অপ্রত্যাশিত লাভবান হন।

 

বাখ//আর